সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষা আজ অতিব জরুরী

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

পরিবার একটি অতি প্রাচীন , সর্বজনীন ও মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। মানুষ পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এবং মৃত্যু অবধি সেখানেই অতিবাহিত করে। পৃথিবীতে প্রতিটি সমাজ ও সংস্কৃতিতে পরিবারের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। পরিবার শিশুর জন্ম ও লালন- পালনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সেজন্য অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পরিবারের সঙ্গে তার সদস্যদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ।

পরিবার অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রধান বাহন। শিশুর শিক্ষার ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবারে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তা বিকশিত হয় বিদ্যালয়ের মাধ্যমে। পরিবার শিশুর আদর্শ ও নৈতিকতাবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।যা তার ব্যক্তিত্ব গঠনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষার অভাবে ব্যক্তি জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। পরিবার, সমাজ ও দেশের নিয়ম – শৃঙ্খলার ব্যঘাত ঘটে। আজকের চরম সামাজিক সমস্যা মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস , ছিনতাই, ধর্ষণ এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষার অভাব। শিক্ষিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েও আমরা আজ দুর্নীতিগ্রস্থ , দেশের সম্পদের অপচয় ও অপব্যবহার করছি, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করছি ও সজ্ঞানে অনেক নীতিহীন কাজ লিপ্ত হচ্ছি। নিজের বৃদ্ধ মাতা-পিতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছি, একটি বার‌ও তাদের খোঁজ – খবর নেয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করি না। যার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষার অভাব সবার আগে চলে আসে।

আমাদের দেশেও এখন সচরাচর পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর ন্যায় জন্মের কয়েক বছরের মধ্যেই শিশুদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং তথাকথিত কিছু কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করিয়ে পিতা- মাতা নিশ্চিন্তে থাকে। শহরাঞ্চলে এ বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়।এসব শিক্ষা- প্রতিষ্ঠান শিশুর শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সাধন করে থাকে। কিন্তু শিশুদের পারিবারিক চাহিদা মেটানো আদৌও সম্ভব হয় কি না তা প্রশ্ন থেকে যায়।

স্বাভাবিকভাবে, পারিবারিক স্নেহ – মমতা ও ভালোবাসা বঞ্চিত শিশুরা পরবর্তীতে স্বীয় পিতা- মাতার ওপর অস্ত্র ধরতে তাদের হাত কাঁপে না। পিতা- মাতার সম্পদ লুণ্ঠন করতে কোনো সংশয় করে না। সেখানে অন্যের সম্পদ লুটতরাজ করা তাদের কাছে মামুলি ব্যাপার।

সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের গুরু দায়িত্ব পরিবারের। এক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।পিতা -মাতার সম্পর্ক ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পর্ক শিশুর ব্যক্তিত্ব বিকাশে প্রভাব ফেলে। তাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধন ও নিবিড় সম্পর্ক থাকা সমীচীন ।পিতা – মাতার সাথে শিশুর সম্পর্ক হবে বন্ধুসূলভ । পারিবারিক শিক্ষার প্রভাবে শিশুর মূল্যবোধ, নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও জ্ঞান অর্জনের পথ প্রসারিত করে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে “সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষা ” বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে অবগত করতে হবে।
সুষ্ঠু পারিবারিক শিক্ষা নিশ্চিত হলে পরিবারে নেমে আসবে সুখ ও শান্তি। সমাজ ও দেশের যাবতীয় সমস্যা ও বিশৃঙ্খলা দূরীভূত হবে। সর্বোপরি দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধন হবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

মোঃ মোখলেছুর রহমান
শিক্ষার্থী ,সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।