১৫ গ্রাম ভাঙ্গনের কবলে

সুরমা নদীতে চাঁদাবাজি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

হাছান আহমেদ,
ছাতক প্রতিনিধি::

ছাতকে শহরের সুরমা নদীতে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে খননযন্ত্রের সাহায্যে
বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ঘটনায় ১০টি গ্রাম নদী ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে বলে গত বৃস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভুমি ) ও উপজেলার নিবার্হী অফিসার বরাবরে পৌর শহরের আবজল মিয়া. কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ইসাকলম ইউনিয়নের টুকেরগ্রাম গ্রামে নিজাম উদ্দিন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ নদীতে চাদাবাজি ও অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাকি দিয়ে বালু উত্তোলন করছে আসছে র্দীঘদিন ধরেই।সুরমা নদীতে দীঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চত্রæ। এ সিন্ডিকেট চত্রæরা হচ্ছেন পৌর শহরের
তাতিকোনা গ্রামে রজ্জাক আলী পুত্র তারেক. একই গ্রামে মনির পুত্র শামীম.ইশাদ আলী পুত্র রফিক ও পীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আনোয়ার হোসেন সোহাগসহ ৩০-৩৫জনের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট চত্রæ গড়ে উঠেছে। এ চত্রেæর মুলহোতা হচ্ছেন ছাত্রদল নামধারি মটর সাইকেল ছিনতাইকারি ইজাজুল হক রনির নিদের্শেই সুরমা নদীতে চাদাঁবাজি করে যাচ্ছেন। অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ দুজন চাঁদাবাজকে আটক করলেও বন্ধ হয়নি নৌপথে চাঁদাবাজি। ছাত্রদলের নামধারি ইজাজুল হক রনির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন থেকে ৩৫ জন একটি সিন্ডিকেট এই চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে। চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবসায়ীরা একাধিবার দাবি জানিয়ে আসার পর, লোক দেখানো ধরপাকর করে প্রশাসন। এমন অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার থেকে সুরমা নদীতে ভাসমান বিভিন্ন নৌযানে চাঁদাবাজরা চাঁদা তুলেছে। এদিকে অবৈধ ড্রেজার বালু উত্তোলনে ফলে পৌর শহরের তাতিকোনা বৌলা. কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তির গাও শিমুলতলা পীরপুর হরিষপুর নানশ্রী রংপুর মিত্রগাও ও কোম্পানীগঞ্জের ইসাকলস ইউনিয়নের
পারকুল টুকেরগাওসহ ১২টি গ্রাম এলাকায় নদী ভাঙ্গন কবলে পড়েছে। মুক্তির গাও পাকা রাস্তা নদীর ভাঙ্গনে নদীর গভে বিলীন হয়ে গেছে দীঘদিন একবছর আগে। এলাকার জনসাধারন একমাত্র রাস্তা চলাচলে বিচ্চিন্ন হয়ে পড়ে। নদী ভাঙ্গন রোধপ্রকল্পের নামে বরাদ্ধকৃত হলে জনৈক ঠিকাদার অনিয়মে কারনে এলাকাবাসি সুফল পাচ্ছে না। ছাতক পাথর জানান, বিভিন্ন সমিতির সাইনবোড ব্যবহার করে বার্জ-কার্গো ও মালবাহী নৌকা থেকে ১০০০ টাকা ট্যাক্সের নামে চাদা আদায় করে, সেখানে বিআই ডাব্লিউটিএ (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)-এর নামে ২শ’ টাকার স্থলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, ছাতক
পৌরসভার নামে ৩৫০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা, পৌরসভার অপর একটি ট্যাক্স ৪০০ টাকার স্থলে ৫শ’ টাকা আদায় করে আসছে এছাড়াও ছাতক পৌরসভার কাউন্সিলর আ’লীগ জনৈক তার সহযোগীসহ কয়েক জন জনপ্রতিনিধি ও জড়িত রয়েছে। ছাতক উপজেলার সুরমায় চাঁদাবাজিতে একাট্টা আওয়ামী লীগ-বিএনপি। এমনিতে দলীয় মতবিরোধ থাকলেও এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোন রাখ-ঢাক নেই। পাথর-বালু ও চুনাপাথর ব্যবসায়ীদের পণ্যপরিবহনে নানা কায়দায় নানা ওসিলায় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা চরম বিরক্ত ও হতাশ। অনেকেই ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীদের
চাপের মুখে অবশেষে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়েছে। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তারা দুই চাঁদাবাজকে আটক করেছে। নৌপথে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোতে এ ব্যাপারে বারবার অভিযোগ দেয়া হলেও সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিবাদ করলেই প্রশাসন একটু নড়েচড়ে বসে। এরপর আবার যেই-সেই। ছাতকে সুরমা নদীতে বিআই ডাব্লিউটিএ (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)-এর নামে ২শ’ টাকার স্থলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, ছাতক পৌরসভার নামে ৩৫০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা, পৌরসভার অপর একটি ট্যাক্স ৪০০ টাকার স্থলে ৫শ’ টাকা এবং নবগঠিত শাহজালাল সমবায় সমিতির নামে এক হাজার টাকা করে অবৈধ চাঁদা হচ্ছে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ছাতকে সুরমা নদীতে অবৈধভাবে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে কিছু চিহ্নিত
চাঁদাবাজ। এবার চাঁদাবাজদের কোন ছাড় দেয়া হবেনা। সুরমায় অভিযান চালিয়ে ২ চাঁদাবাজ মুজাহিদ ও মানিক মিয়াকে আটক করা হয়। নৌপথে পুলিশ অভিযান অব্যাহত
রেখেছে। ছাতক কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নৌপথে চাঁদাবাজরা -পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। এদের অত্যাচারে নৌযানগুলো অতিষ্ঠ পরিবহন শ্রমিকরা।ছাতক ও ভোলাগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের দুর্লভপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজরা সক্রিয়। ৫০০ থেকে ১ হাজার কোনো কোনো স্থানে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। এভাবে এই রুটে একটি নৌকাকে বৈধ ও অবৈধ চাঁদা খাতে ৩-৪ হাজার টাকা গুনতে হয়। এই রুটের কয়েকজন বলগেট মালিক জানান, ‘ব্যাংক ঝণ, হাওলাত করে ২০-৩০ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে বলগেট নামিয়েছিলাম বালি-পাথর পরিবহনের জন্য। কিন্তু এখন চাঁদাবাজ চক্রের ভয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার চিন্তা করেছি। এব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, চাঁদাবাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে চাঁদাবাজদের ছাড় নেই। ইজারার শর্তে বলা আছে, শুধু ঘাটে মালামাল উঠানামা ও নৌযান নোঙর করা হলে নৌযান প্রতি ৫০ টাকা করে টোল আদায় করা যাবে। কিন্তু মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ধূম্রজাল সৃষ্টির মাধ্যমে চলতি, সুরমা ও রক্তি নদীতে যাওয়া-আসায় লোড-আনলোড নৌযান থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ও রক্তি নদীতে প্রবেশ করলে ২ হাজার টাকা আদায় করছে তারা। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ঐ চক্র। কয়লা, বালিপাথর, চুনাপাথর বহনকারী বলগেট, স্টিল বডি নৌকা, সারা দেশে মালামাল যোগান দেয়। কিন্তু যাতায়াতের সময় নৌযানগুলোকে আটকিয়ে ছাতকে সুরমা নদীর বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রটি। প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচ শতাধিক নৌযানে চাঁদা আদায় করে তারা। ভুক্তভোগীরা
জানান, কথামতো চাঁদা না দিলে বেদম মারপিটসহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয় তারা। কেন্দ্রীয় বলগেট কার্গো সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি সুরমা ও রক্তি নদীতে যে কোনো ধরনের চাঁদাদাবি বেআইনি। চাঁদার বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। তিনি জানান, অভিযোগের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কয়েক দিন চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। এখন আবার চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানিতে ছোট
জাহাজে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে গভীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী পাড়ে ১৫টি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। আশপাশের আবাদি জমি
ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে তাদের পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। উপজেলার নিজাম উদ্দিন জানান, এভাবে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেই তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী বাড়িঘর ও আবাদি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। এর আগে একই কারণে তাদের অনেক বাড়িঘর ও জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বিলীন হয়ে যাবে ১৫টি গ্রাম। ফলে বালু ও মাটি উত্তোলন এসিন্ডিকেট আরো ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এব্যাপারে
উপজেলা সহকারি কমিনার (ভুমি) তাপসশীল জানান, অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে বলেন. চলমান নদীতে অবৈধ ডেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনে সঠিক স্থান
ও তথ্যদিলে আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।##

Advertisement