সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ডেঞ্জার জোনে ভোলা;১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

মো. সাইফুল ইসলাম,ভোলা প্রতিনিধি::

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার সাইক্লোন আম্ফান।ঘূর্ণীঝড় আম্ফানের আওতায় রয়েছে ভোলা জেলা সহ মোট ১৪টি জেলা এবং জেলা জুড়ে জারি করা হয়েছে ১০নম্বর মহাবিপদ সংকেত।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তেরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর সূমহকে স্থানীয়৭ নম্বর বিপদ সংকেতের পরিবর্তে ১০নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা,খুলনা,বাগেরহাট,ঝালকাঠি,পিরোজপুর,বরগুনা,ভোলা,পটুয়াখালী,বরিশাল,লক্ষীপুর,নোয়াখালী,ফেনী,চাঁদপুর,চট্টগ্রাম এবং এদের অদূরবর্তী দ্বীপ সূমহের ১০নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।ঘূর্ণিঝড় ও অমাবশ্যার প্রভাবে উল্লিখিত উপকূলীয় জেলা সূমহের এবং এদের অদূরবর্তী দ্বীপ এবং চর সূমহের নিন্মাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০-১৫ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।এছাড়া এসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষন সহ ঘন্টায় ১৪০-১৬০কিঃমিঃ বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দক্ষিন বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিন পশ্চিম বঙ্গোপসাগর অবস্থানরত অতি প্রবল সুপার সাইক্লোন আম্ফান উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে বর্তমানে পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিন বঙ্গোপসাগর এলাকায়(১৯.৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৪° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ)অবস্থান করছে।এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর ও উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর মধ্যবর্তী ২০মে ২০২০ বিকাল/ সন্ধ্যার দিকে সুন্দরবন দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল -পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করতে পারে।

আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে।কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে।মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

এদিকে সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’ মোকাবিলার ভোলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতি মধ্যে ভোলার ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, মনপুরা ও কলাতলীর চরসহ ঝুঁকিপূর্ণ ২১ টি চর থেকে ৩ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে মূল ভূখন্ডে।এছাড়া উপকূলের মানুষকে সতর্ক করতে বিভিন্ন এলাকায় রেড ক্রিসেন্ট ও সিপিপির কর্মীরা মাইকিং শুরু করেছে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান;মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে সুপার সাইক্লোন আম্ফান দুর্যোগ মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই দু’দফা জরুরী সভা হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে ৮ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মাঠে থাকা বোরো ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নদী এবং সাগরের থাকার সকল মাছ ধরার ট্রলার গুলো নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান;করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে থাকার মতো করে ১১০৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে অন্তত আড়াই লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়া পর্যাপ্ত আশ্রয়ের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলো খুলে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সিপিপি ও রেড ক্রিসেন্টের ১০ হাজার ৫০০ ভলান্টিয়ার, ৭৯টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় ইতিমধ্যে সরকারের তরফ থেকে ভোলার জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল, সাত লক্ষ টাকা ও তিন হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ২০মে সকাল থেকে ভোলার আকাশে অনেক মেঘ লক্ষ্য করা গেছে।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘলা আবহাওয়ার পরিমানও বৃদ্ধি পাচ্ছে।স্বাভাবিকের চেয়ে প্রচুর পরিমাণে ঘূর্ণি বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে।কখনো বৃষ্টি হচ্ছে আবার কখনো বা থেমে যাচ্ছে।এখন গুমোট আবহাওয়ায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।এখন সুপার সাইক্লোন আম্ফানের তান্ডব দেখা শুধু মাত্র সময়ের ব্যাপার।