সুন্দরগঞ্জে অবৈধভাবে ইউপি সদস্য কর্তৃক মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগের অভিযোগ

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০১৯

বাপ্পী রাম রায়
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধঃ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ইউপি সদস্য কর্তৃক অবৈধভাবে মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১ নং হরিপুর ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য দুই সন্তানের জননী মোছাঃ হানিফা আক্তার সরকারী বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেকে গর্ভবতী দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগ করে আসছেন। হরিপুর ইউপি কর্তৃক মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগীর নামের তালিকায় হানিফা আক্তারের ক্রমিক নং ১২ এবং হিসাব নং ১০৮৩৩৪৩২০২৩৬৮২। দরিদ্র পরিবারের জীবন মান উন্নয়নে প্রথম সন্তান অথবা দ্বিতীয় সন্তানের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের বিধান থাকলেও জনসাধারনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ইউপি সদস্য নিজেই অবৈধভাবে সরকারি অর্থ মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগ করছেন। বর্তমানে হানিফার সন্তান মোঃ মিজান মিয়া (১২) ও কন্যা মোছাঃ সাদিয়া আক্তার মীম(৮) বিদ্যমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়রম্যান ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সহযোগিতা ছাড়া এ অবৈধ ভাতা উত্তোলন সম্ভব নয় বলে জানা গেছে।
হানিফা আক্তার হরিপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড কানিচরিতাবাড়ী গ্রামের ছামিউল ইসলামের স্ত্রী। অভিযোগে আরো প্রকাশ থাকে যে, ৩২১৯১৪৪৫২৬৩৩৫ নং জাতীয় পরিচয় পত্র মোতাবেক মোছাঃ হানিফা আক্তারের জন্ম তারিখ ১৪/০৫/১৯৮৬ ইং। এতে তার বয়স চলমান ৩৪ বছর। কিন্তু হানিফা আক্তার অবৈধভাবে মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগের পরও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পুনরায় বয়স্কভাতা ভোগের জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে জন্ম তারিখঃ ১৪/০৫/১৯৩২ ইং অর্থাৎ ৮৭ বছর বয়স দেখিয়ে উপজেলা সমাজ সেবা দপ্তরের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় কানিচরিতাবাড়ী গ্রামের সমসের আলীর ছেলে আঃ হাকিম শেখ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তরে গত ৩০ জুলাই অভিযোগ দাখিল করলেও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পুনরায় ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক গাইবান্ধা বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম সরকার জিমির সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তদন্ত সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোলেমান আলী জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।