সীমান্তে মাদক ও গরু চোরাচালান রোধে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয় প্রয়োজন

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০


এম এ মোতালিব ভুঁইয়া :

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার ১নং বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাশতলা, কলোনি, ঝুমগাও, পেকপাড়া,কলাউড়া, নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্যামারগাও, শ্রীপুর, সোনাপুর, বোগলাবাজার ইউনিয়নের ইদুকোনা, বাগানবাড়ি, গাছগড়া,লক্ষীপুর ইউনিয়নের ভাংগাপাড়া,মাঠগাও সীমান্ত মাদক ও গরু চোরাচালানীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে চোরাকারবারীদের তৎপরতা পূর্বের তুলনায় অনেকজন বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বিঘ্নে সীমান্তে চোরাচালান চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন। এলাকাবাসী এই প্রতিনিধিকে বলেন, সন্ধ্যার শুরু থেকে ভারতীয় বিএসএফের সহযোগিতায় চোরাকারবারীরা কাটাতারের বেড়া ও কাটাতারের বেড়াবিহীন এলাকা দিয়ে অবাধে গাঁজা, মদ, গরুসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে আসছে।

বিজিবির সদস্যদের টহল থাকা সত্বেও সীমান্তে চিহ্নিত চোরাচালানী ও গডফাদাররা মোবাইলের মাধ্যমে একে অন্যকে সতর্ক করে মাদকদ্রব্য ও গরু নিয়ে আসছে। বিজিবি সদস্য ও পুলিশ কোন এলাকায় রয়েছে তা মুহূর্তের মধ্যে মোবাইলের মাধ্যমে জানানো হয়। ফলে এলাকা দিয়ে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়। বিজিবির সদস্যরা তথ্যের ভিত্তিতে কোন এলাকায় অভিযান করতে গেলে তাদের যাওয়ার পূর্বেই চোরাচালানীরা মাদকদ্রব্য নিয়ে ঐ এলাকা থেকে সটকে পড়ছে। ফলে বিজিবি সদস্যরা অনেক পরিশ্রম করেও তাদেরকে দমনে ব্যর্থ হচ্ছে। কলাউড়া,শ্রীপুর, শ্যামারগাও, বাশতলা কলোনি, ঝুমগাও, পেকপাড়া, ইদুকোনা, ভাংগাপাড়া, বাগানবাড়ি সীমান্তের চোরাচালানীদের অনেক বাড়িতে দূর-দুরান্ত থেকে মোটর সাইকেল নিয়ে আসা মাদক সেবীরা মদ, গাঁজা সেবন করে এবং সাথে নিয়ে চলে। সীমান্তের অনেক বাড়িতে এই মাদক ব্যবসা রয়েছে। মাদকসেবীরা ১টি মোটর সাইকেলে ৩/৪ জন করে বসে সীমান্তের নির্ধারিত বাড়িতে গিয়ে মাদক সেবন করে আসে। তাছাড়া মাদক চোরাকারবারীরা অটো রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করে মদের আসরে সামিল হচ্ছে। এমনকি অনেক বাজারের চায়ের দোকানে মদ্য পান চলছে। সীমান্ত এলাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, কথিত সমাজসেবী এই মাদক সেবনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে এবং মাঝেমধ্যে নিজেরাও মাদক সেবন করছে। অনেক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরীজীবী এখন চোরাকারবারের ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন।

সীমান্তে মাদক, গরু চোরাচালানী বন্ধে বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয় প্রয়োজন। চোরাচালানীদের দমনের ক্ষেত্রে দু’বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তে ৮ কিলোমিটার এলাকায় চোরাচালানী দমনের দায়িত্ব বিজিবি’র। অন্যদিকে বিজিবি’র বক্তব্য হচ্ছে একটি সীমান্ত ফাঁড়িতে সর্বোচ্চ ২৫ জন কর্মরত। তন্মধ্যে ৮/১০ জন নিয়মিত টহলে থাকতে পারে। অল্প সংখ্যক বিজিবি সদস্য দিয়ে বিশাল এলাকায় চোরাচালান দমন করা কষ্টকর। সে ক্ষেত্রে পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। চোরাচালান দমনে পুলিশ বাহিনী সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে অবহিত করে কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন। অপরদিকে বিজিবি চোরাচালানী দমনে তাদের অধিনায়কের মাধ্যমে পুলিশ সুপারকে অবহিত করে পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে চোরাচালান দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, দোয়ারাবাজার সীমান্ত এলাকায় শুধুমাত্র বিজিবি’র সদস্যকে দিয়ে ধূর্ত চোরাচালানীদের দমন করা সম্ভব নয়।
বর্তমান অবস্থায় ভারত থেকে মদ, গাঁজা ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য নিয়ে আসা, গরু চোরাচালান সীমান্তবর্তী এলাকার বেকার যুবকের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। যা জাতির জন্য এক অশনি সংকেত। এই সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানী ও তাদের গড ফাদারেরা বিশাল বাড়ী নির্মাণ করেছে। অথচ এদের কোন বৈধ আয় নেই। চিহ্নিত চোরাচালানী ও লাইনম্যানদেরকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এই বেকার শিক্ষিতরা নিজেরা আর্থিকভাবে কিছুটা লাভবান হলেও আগামী প্রজন্মকে কিংবা ভবিষ্যৎ নাগরিকদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ মাদক ও গরু চোরাচালান রোধে শুধুমাত্র বিজিবি ও পুলিশের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। প্রত্যেক সুনাগরিক তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক ও গরু চোরাচালান দমনের সক্রিয় হতে হবে। চোরাচালানীদের বিষয়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরে প্রশাসনকে প্রয়োজনে সরকারের ৯৯৯-এ মোবাইল করতে হবে। অভিযোগ পাঠাতে হবে। পুনঃ পুনঃ এ কাজ করতে হবে।

সর্বপরি বিজিবি কিংবা পুলিশ বাহিনী কোন কর্মকর্তা ও সদস্য চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকলে তাও কর্তৃপক্ষের নজর আনতে হবে। প্রতিকার করতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই বিশ্বাস ধারন করে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। চোরাচালানী ও তাদের সহযোগিরা প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করছে। এরা ধরা পরলেও টাকার জোরে দ্রুত জামিন পেয়ে আবারও চোরাচালানে জড়িত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

লেখক : জেলা প্রতিনিধি
নিউজ ভিশন।