ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ জুনe ২০২৪
  1. সর্বশেষ
  2. সারা বাংলা

এশিয়া এখন জ্বলন্ত উনুন চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
২৫ এপ্রিল ২০২৪, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

Link Copied!

মোঃ তৌফিক হাসান(তানজিম),
(কুষ্টিয়া কুমারখালী)থেকেঃ

বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এ ধরনের আবহাওয়ার কারণে এসব দেশের জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন দেশে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ। মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষরা। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থা। বাংলাদেশসহ এশিয়া মহাদেশে এ তাপপ্রবাহ মে মাসজুড়ে থাকতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এ ধরনের চরম আবহাওয়া এশিয়া মহাদেশের জন্য এক অশনিসংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছে জাতিসংঘ। জানাচ্ছেন ওয়াহেদুজ্জামান সরকার

বাংলাদেশে এপ্রিলের শুরু থেকে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যেও একই অবস্থা। কিন্তু এ অবস্থা শুধু এখানকারই না। এ অবস্থা গোটা এশিয়াজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে। চলতি মাসের শুরু থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ভয়ংকর গরম পড়তে শুরু করে। ৪ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় হিট স্ট্রোকে তিন বছর বয়সী এক শিশু মারা যায়। এর পর থেকে এ দেশে জলবায়ু-সম্পর্কিত অসুস্থতার প্রবণতা বেড়ে যায়। ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলেও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা দেখা দিতে শুরু করে। শুকিয়ে যায় ধানক্ষেত। জারি হয় জরুরি অবস্থা। ফিলিপাইনেও তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়। সর্বত্রই গরমের বিভীষিকা! জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বিপন্ন অঞ্চলগুলোর একটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এপ্রিলের শুরু থেকেই সেখানে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশে, যার মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম; এসব দেশে প্রায় ৬৮ কোটি মানুষের বসবাস। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা বেড়েছে থাইল্যান্ডে। ৩ এপ্রিল থেকে থাইল্যান্ডে শুকনো মৌসুম শুরু হয়। এ সময় থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়ে যায়। কাছেই ভিয়েতনামে শুরু হয় খরা-পরিস্থিতি। সেখানকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়ায়। ভিয়েতনাম বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক দেশ। কম বৃষ্টিপাতের ফলে সেখানকার কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি। এ বছর জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আরও দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করছেন। কেন করছেন? কারণ হিসেবে তারা এল নিনোর প্রভাবের কথা বলছেন। এল নিনো প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঘটে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনোর কারণেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়ছে। এল নিনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও এবারের এই নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের পেছনে এল নিনো বৈশ্বিক জলবায়ুবিদদের মতে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হতে যাওয়া এল নিনো আবহাওয়াগত প্যাটার্ন এই দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের জন্য মূলত দায়ী এবং একে আরও অসহনীয় করে তুলছে মানবসৃষ্ট কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ব্যাপারটি। স্প্যানিশ ভাষার দুই শব্দ ‘এল নিনো’ এবং ‘লা নিনা’র আক্ষরিক বাংলা অর্থ ছোট খোকা ও ছোট খুকি। তবে কয়েকশ বছর ধরে এ শব্দ দুটি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের জলবায়ুগত অবস্থা বা চক্রকে বোঝানো হয়। এ চক্রের একটি অংশের নাম ‘এল নিনো’, অন্যটির নাম ‘লা নিনা’। এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। কোনো কোনো অঞ্চলে অতিবর্ষণও ঘটে থাকে। সাধারণত দুই থেকে চার বছর স্থায়ী হয় এল নিনো। তারপরই আসে ‘লা নিনা’। সে সময় এল নিনোর বিপরীত অবস্থা দেখে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের জলবায়ু মডেলগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছর প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা আবহাওয়া প্যাটার্ন ছিল।

ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ থাকা সত্ত্বেও খানিকটা কম ছিল বৈশ্বিক তাপমাত্রা; কিন্তু গত বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় এল নিনো প্যাটার্ন। এর ফলে তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রায় গোটা এশিয়া মহাদেশ।

66 Views

আরও পড়ুন

বাঁশখালীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচী পালিত

দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ‘তদন্তে মিলেনি সত্যতা’

লোহাগাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিন দোকানিকে অর্থদণ্ড

ঘুমধুমে ইয়াবাসহ ২জন পাচারকারী আটক !!

ঈদুল আযহা : আত্মসমর্পণের এক জ্বলন্ত শিক্ষা

কাপাসিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির নির্বাচন ১৪ জুন

নাটক নির্মাতা অমিকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর ও মেডিকেল কলেজের দাবিতে মানববন্ধন

আদমদীঘিতে আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

রেল সেবা আধুনিক হলেও কমছে না দালালদের দৌরাত্ম্য

আনোয়ারায় ড্রেনে মিলল অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ।