সামাজিক দূর্যোগে হযরত আলীর ভুমিকা অতুলনীয় !

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

মফিজুল-মাদারীপুরের সংবাদাতা :

বয়স নয়, মহৎ কাজের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চতুরপাড়া গ্রামের এক দিনমজুরেরর ছেলে হযরত আলী। পিতা – মো: হায়দার আলী। পিতার মতো কাজে কর্মে খুব পরিশ্রমী। সমাজে কোনো প্রাকৃতিক বিপদ থেকে শুরু করে সব বিপদ আপদে এলাকায় অগ্রনী ভুমিকা পালন করে আসছে। কথায় আছে যে মানুষ বাঁচে মরে তার কৃত কর্মের ফলে। জীবকে যিনি দয়া করবে স্রাষ্টা তার প্রতি দয়া করে। স্রাষ্টাকে পাওয়ার শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসা। স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই।

ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণের মাধ্যমে প্রত্যেকেই স্রষ্টাকে পেতে চায়। সে জন্য অনেকে লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করতে চায়। কিন্তু স্রষ্টার অস্তিত্ব তাঁর সমস্ত সৃষ্ট জীবের মধ্যেই নিহিত। বিশ্বের সব জনপ্রাণী তাঁর ভালোবাসারই সৃষ্টি। তাই তাঁর সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলে বিধাতা খুশি হন। দুঃখী মানুষের দুঃখ মোচনে, বিপন্নজনের কল্যাণে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েই স্রষ্টার সেবা পাওয়া যায়। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষ অপর মানুষ কিংবা অন্য প্রাণীর প্রতি সদয় ও যত্নবান হওয়ার মাধ্যমেই কেবল মনুষ্যত্ব লাভ করতে পারে। জীবের সেবা বাদ দিয়ে কেউ যদি ঈশ্বরের সেবা করতে চায়, ঈশ্বর তাতে সন্তুষ্ট হন না।
তাই বলা যায়—জীব প্রেমই ঈশ্বর প্রীতির প্রকৃত সেবার পথ।

করোনাকালীন উদ্ধাম যোদ্ধা মো: হযরত আলীকে জিজ্ঞাসা করলে নিউজভিশন কে বলেন –

আমি সমাজে বাস করি। আমরা সামাজিক জীব। সমাজ বদ্ধ হয়ে বসবাস করি। আমি ছোট বেলা থেকে অন্যের দুঃখ দেখলে সহ্য করতে পারতাম না। সেই প্রতিবেশী কথা মনে আছে খাবার জন্য ছটফট করছিলো আমার তখন বয়স ১৪ বছর যোগানো টাকা দিয়ে ২ প্যাকেট মুড়ি ও ১ হালি কলা ক্রয় করে দিছিলাম ঐ ক্ষুধার্থ প্রতিবেশীকে! তখন থেকে আমি এই সামাজিক কল্যানমুলক কাজের মাধ্যমে সমাজে, রাষ্ট্রে স্বরণী হয়ে থাকতে চাই। আমি কেবল অর্নাস ২য় বর্ষের ছাত্র আমি এই পর্যন্ত বড় হয়েছি আমার মা-বাবার দোয়া। তাঁদের এই দোয়ার বিনিময় আমি আমার তরুন বয়সে যে কাজ গুলো করেছি অনেক লোকের দোয়া ভালবাসা পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন- মানুুষের জীবনকে দীর্ঘ বয়সের সীমারেখা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। জীবনে যদি কোনো ভালো কাজ না থাকে, তবে সে জীবন অর্থহীন। তার কোনো মর্যাদা থাকে না। সে নিষ্ফল জীবনের অধিকারী মানুষটিকে কেউ মনে রাখে না। তার বয়স নিছক দিনযাপনের গ্লানি ছাড়া আর কিছু নয়। অপরদিকে যে মানুষ জীবনকে কর্মমুখর রাখে এবং যার কাজের মাধ্যমে জগৎ ও জীবনের উপকার হয়, তাকে বিশ্বের মানুষ হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসন দান করে।

সাংবাদিকগণ জিজ্ঞাসা করেন আপনার সামাজিক কর্মকান্ডে করোনা পূর্বে ও করোনা কালীন কি কি ভূমিকা পালন করেছেন যদি একটু বলেন

হযরত আলী উত্তরে বলেন-করোনা কালীন সময় যে সব কাজ করছি :

প্রথমে-
করোনা ভাইরাস COVID-19 প্রতিরোধে কর্মসূচি:
২০ মার্চ, মাদারীপুর সদর মস্তফাপুর বেঁধে পল্লীতে সবান বিতরণ এবং সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া শিখানো হয়।

দ্বিতীয় – ২৩ মার্চ, নিজ গ্রামে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিং করা হয়।

তৃতীয়-২৪ মার্চ, সকালে মাদারীপুর সদর ঘটকচর গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৩০০ মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড ওয়াশ বিতরণ করা হয়, এবং বিকালে মস্তফাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এলাকায় বিদেশ ফেরত লোকদের হোম কোয়ারেন্টাইন এ নিশ্চিত ভাবে অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

চতুর্থ -২৫ মার্চ, নিজ গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রত্যেক ঘরে একটি করে লিফলেট দিয়ে সচেতনতার বার্তা দেয়া হয়।

পঞ্চম -২৬ মার্চ, মাদারীপুর সদর বাহাদুরপুর ইউনিয়নে তিথিরপাড়া গ্রামে প্রথম আল লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে সচেতনতার বার্তা দেয়া হয়।
২৮ মার্চ, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল নৈয়রবাড়ি গ্রামে লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে সচেতনতার বার্তা দেয়া হয়।

ষষ্ঠ — ২৯ মার্চ থেকে লকডাউনের প্রতিদিন মাদারীপুর শহরে রাস্তায় থাকা ভারসাম্যহীন মানুষদের একবেলা খাবার দেয়া হয়।

সপ্তম– ১ এপ্রিল, নিজ গ্রামে ৩ দিনের খাবার সামগ্রী দিয়ে প্রায় ২০ টি অসহায় দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়।

অষ্টম – ২ এপ্রিল, মস্তফাপুর বেঁধে পল্লীতে ৩ দিনের খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও, রমাজান মাসে ইফতার সামগ্রী বিতরণ এবং ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।এবং, জরুরী প্রয়োজনে রোজা রেখে এই দুর্যোগের সময় নিজের ৫ম বারের মতো রক্তদান সহ প্রায় ৫০+ জনকে রক্ত ম্যানেজ করে দিতে পেরেছি।

উক্ত কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করেন আমার ফেসবুক বন্ধুরা এবং প্রবাসী ভাইয়েরা।

করোনা পূর্ব কালীন সময়ে- আ‌মি আর্থ-সামা‌জিক উন্নয়ন ও মানব সেবায় নিঃস্বার্থভা‌বে স‌ক্রিয় অংশ্যগ্রহণসহ বি‌ভিন্ন কর্মকান্ড প‌রিচালনা ক‌রে‌ছি। বিনামূ‌ল্যে রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ।

৪০ জন পথশিশুদের ঈদের পোশাক বিতরণ, ১০০ টি পরিবারে ঈদ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, বাল্য‌বিহাহ রোধ, মাদক বি‌রোধী কার্যক্রম, অসহায় ও দুঃস্থ‌দের সাহায্য হাত বাড়িয়ে দেই। যেমন বৃক্ষ‌রোপণ ও বিতরণ, ব্লাড গ্রুপিং নির্ণয়, ব্যা‌ক্তি উ‌দ্যো‌গে গ্রা‌মে পাঠাগার প্র‌তিষ্ঠান, সা‌হিত্য চর্চা, পদ্মা সেতুতে মাথা লাগে এই গুজব এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা, সন্ত্রাস, জ‌ঙ্গিবাদ, বাল্য‌বিবাহ নি‌রোধ-মাদকদ্র‌ব্যের অপব্যবহার রো‌ধে স‌চেতনতামূলক কর্মসূ‌চি‌তে অংশ্যগ্রহণ।

এছাড়াও টিকাদান কর্মসূ‌চি, জাতীয় ভিটা‌মিন ‘এ’ প্লাস ক্যা‌ম্পিং সহ ই‌পিআ‌ই সকল কার্যক্র‌মে স্বেচ্ছা‌সেবক হি‌সে‌বে দা‌য়িত্ব পালন।

এছাড়াও আনসার ভিডিপি সদস্য হিসেবে জাতীয় নির্বাচন সহ বিভিন্ন সরকারি কাজে সহায়তা করে আসছি।

এবং ৩৭ তম জাতীয় সমাবেশ (২য় পুরস্কার) রৌপ্য পদক পেয়েছিলেন এই অদম্য ইচ্ছা শক্তির আলোড়ন হযরত আলীর।। হযরত আলী বলেন – আমার ইচ্ছা, এ বাহিনীর হয়ে আজীবন মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।