সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড বিক্রির অভিযোগ, ভুয়া সাংবাদিক আটক

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

নিলয় ধর,স্টাফ রিপোর্টার(যশোর):

যশোরে সাংবাদিক পরিচয়ে ভুয়াকার্ড করে চাঁদাদাবি ও কার্ড তৈরী করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে প্রদীপ কুমার সাহা নামে এক যুবককে আটক করেছেন যশোরের নরেন্দ্রপুর ক্যাম্পের পুলিশ। প্রদীপ অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট এলাকার রতন সাহার ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রুপদিয়া বাজারের সুরত আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

ভুক্তভোগী বাঘারপাড়া উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের জয়দেব চক্রবর্তীর ছেলে সুমন চক্রবর্তীর অভিযোগে, তিনি সদরের রূপদিয়া বাজারে তার মামার ১টি ওষুধের দোকানে কাজ করে। প্রদীপ কুমার সাহা প্রায় সময় তার কাছে এসে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন। এই সময়ে তিনি তাকে প্রস্তাব দেন যে, তোমাকে এমন ১টি সাংবাদিকতার কার্ড করে দেবো, যে কোন বিপদ হলে কাউকে কার্ডটি দেখালে উদ্ধার হওয়া যাবে। এই কার্ড যার কাছে থাকবে পুলিশ তাকে সালাম দিয়ে চলবে। ফলে প্রলোভনে পড়ে তিনি প্রদীপ কুমার সাহাকে নগদ ২ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তাকে কার্ড দেওয়া হয়নি। এই কার্ড চাওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার (সুমনের) কাছে আরও ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন, প্রদীপ কুমার সাহা। এরপর গত ২০ আগস্ট ওই ব্যক্তি তার কাছে এসে জোরপূর্বক ৫ হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছেন । এই ঘটনায় তিনি স্থানীয় নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ করে। এরই প্রেক্ষিতে ক্যাম্পের (এসআই) গোলাম মোর্তুজার গতকাল বিকেলে রূপদিয়া বাজার থেকে তাকে প্রদীপ কুমার সাহাকে আটক করে।

কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছে, আটক প্রদীপ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। তার কাছে ১টি কার্ড রয়েছে যেখানে পরিচয় লেখা আছে, ন্যাশনাল ক্রাইম জার্নালিস্ট অ্যান্ড রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালক জিএম মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাদেশ বার্তার যশোর ব্যুারো প্রধান। এছাড়া হিউম্যাান রাইটস রিভিউ সোসাইটির খুলনা বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান। আর প্রদীপ এই সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় যুগ্ম মহাসচিব। যার বিভাগীয় অফিস রুপদিয়া বাজারে।

শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছে, কার্ডটি দেখে সন্দেহ হলে তিনি কয়েকজন সাংবাদিককে দেখান। সাংবাদিকরা ভুয়া বলে জানালে তাকে আটক করে মামলা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

প্রদীপ জানিয়েছেন, তিনি কয়েকদিন হলো সাংবাদিকতা করছেন। তার নেতা জিএম মিজানুর রহমান সাংবাদিকতার কার্ডটি দিয়েছেন।

যশোরের কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, এই মিজানুর রহমান গত কয়েক বছর ধরে যশোরে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে নানা ফন্দি ফিকির করে আসছেন। মূলত ধান্দাবাজ হিসাবে পরিচিত। এক সময়কার কাঠ মিন্ত্রি মিজানুর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির করে আসছে। এখন ভুঁইফোড় সংগঠন খুলে নতুন ধান্দাবাজিতে মেতেছে।।