ঢাকা২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সহ: অধ্যাপক শিহাব উদ্দীননের লেখা –’তুমি রবে নীরবে’

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

মে ১, ২০২২ ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

——

মরণশীল মানুষ মাঝেমধ্যে এমনকিছু মহৎ কাজ করেন যেগুলোর জন্য আমরা তাদেরকে কখনো ভুলতে পারি না। সমাজ উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের জন্য মরহুম ফিরোজ আহমেদ স্যার আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ফিরোজ আহমেদ স্যার একজন শিক্ষক ছিলেন। আমি নিজেও একজন শিক্ষক। অনেকে বলেন, শিক্ষকতা মহান পেশা। আমি এমন কথা সমর্থন করি না। আমার মতে, যে কোনো পেশাই মহান হতে পারে যদি ব্যক্তি মহান হন। একজন টেক্সি চালক যদি যাত্রীদের জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মকানুন মেনে গাড়ি চালান, তাহলে তিনি মহান; তাঁর পেশাও মহান। একজন হোটেল ব্যবসায়ী বা চা দোকানদার যদি ক্রেতাদেরকে স্বাস্থ্যসম্মত, ভেজালমুক্ত, পরিচ্ছন্ন খাবার পরিবেশন করেন, তিনি মহান; তাঁর পেশাও মহান। একজন শিক্ষকও মহান হতে পারেন যদি তিনি দিল খোলে, সততার সাথে শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য কাজ করেন। এদিক দিয়ে আমাদের ফিরোজ আহমেদ স্যার অবশ্যই একজন মহান ব্যক্তি। শুধু নিজের ছাত্রছাত্রীদের নয়, পুরো উত্তর ফটিকছড়ির উন্নয়নে তিনি ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন হেয়াকো বনানী ডিগ্রী কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি ছিলেন হেয়াকো ইকরা হিফজুল কোরআন মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। বস্তুত, সে শিক্ষকই সফল শিক্ষক যে শিক্ষককে ছাত্রছাত্রীরা মনে রাখে। ফিরোজ আহমেদ স্যারকে যে শুধু ছাত্রছাত্রীরা মনে রাখবে তা নয়, যতদিন উত্তর ফটিকছড়ির উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান/ সংগঠনসমূহ থাকবে ততদিন তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।

নিজের যোগ্যতা এবং সাহসের দ্বারা ফিরোজ আহমেদ স্যার সমাজে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করেছিলেন। স্বার্থপরতার উর্ধ্বে থেকে এবং নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় হয়েছেন। তাঁর মন ছিল উদার, বিশাল। আমার মত নামমাত্র ক্যাডার সার্ভিসের কর্মচারীর বাংলাদেশের সমাজের কোথাও কোনো দাম নাই কারণ আমাদের কোনো ক্ষমতা নাই, আমাদের হাতে অস্ত্র নাই, আমাদের কলমের পাওয়ার নাই, আমরা মানুষের কোনো উপকার করতে পারি না। কিন্তু আমাদের মত ক্ষমতাহীন মানুষের মূল্যায়ন আছে পরিচ্ছন্ন মনের ফিরোজ আহমেদ স্যারদের মত মানুষের কাছে। এজন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি আমাকে আন্তরিকভাবে দাওয়াত দিতেন; গেলে সম্মান দিতেন। উনার কাছে আমি ঋণী।

রবীন্দ্রনাথ ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন কিন্তু তিনি ভারতের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেননি। অবহেলিত উত্তর ফটিকছড়ির উন্নয়নের জন্য ফিরোজ আহমেদ স্যার স্বপ্ন দেখেছিলেন উত্তর ফটিকছড়িতে একটা স্বতন্ত্র উপজেলা হবে এবং এজন্য তিনি আন্তরিকভাবে কাজও করে যাচ্ছিলেন। সেদিন হয়তো দূরে নয় যেদিন উনার স্বপ্ন সত্য হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে তিনি তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারেননি। নিবেদিতপ্রাণ ফিরোজ স্যারকে আমাদের মাঝে আরো অনেকদিন প্রয়োজন ছিল। সমাজের কাছে নিবেদিতপ্রাণ এ ব্যক্তিকে আরো অনেকদিন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মাত্র ৫৯ বছর বয়সে চলে গেলেন ফিরোজ স্যার। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ফিরোজ স্যারের মাটির দেহকে আমরা মাটির কাছে, প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি কিন্তু উনার অবস্থান আমাদের অন্তরে। এ গুণী ব্যক্তি আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন নীরবে।

শিহাব উদ্দীন
সহকারী অধ্যাপক(ইংরেজি)
ফেনী সরকারি কলেজ

সম্পর্কিত পোস্ট