বুধবার ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

সন্তান পিতামাতাকে ভরণ-পোষণ না দিলে জেল-জরিমানা !

জানুয়ারি ১৪, ২০২২
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

মোঃআবু হাসনাত আব্দুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক

এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জীবনে পিতামাতা এক অমূল্য সম্পদ। পরিবারের প্রধান হিসাবে সন্তানের সুরক্ষা ও সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠা এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে সংসারকে আগলে রাখেন বাবা-মা। যাতে ভবিষ্যতে তাদের বৃদ্ধকালে তাদের পথের সহায় হোন তাদের প্রিয় সন্তানেরা। বাংলাদশের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় যুগ যুগ ধরে এ রীতিই চলে আসছে। কিন্তু বর্তমানে দূর্ভাগ্যবশত সমাজের দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে ভেঙ্গে পড়ছে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা। যার ফলে বৃদ্ধকালে বাবা-মা একা হয়ে পড়েন ও সন্তানদের অবহেলায় পতিত হোন সীমাহীন দুঃখকষ্টে। অধিকন্তু, অনেক পিতামাতার জায়গা হয় বৃদ্ধাদশ্রমে, যা সময়ের সাথে সাথে মহামারী আকার ধারণ করছে।

সমস্ত পিতামাতা তাদের সন্তানদের মঙ্গল প্রত্যাশা করেন। কোন পিতামাতা তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে যেতে চান না, যদি না পরিস্থিতি এমন হয় যে কোন সন্তান তার পিতামাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পিতামাতার যত্ন বা জীবনযাপনের জন্য অন্য কোন পথে যেতে বাধ্য করে। অথবা কোনো সন্তান যদি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তার বৃদ্ধ পিতামাতাকে রক্ষণাবেক্ষণ না করে, তাহলে তার প্রতিকার কী হবে? এই প্রসঙ্গে প্রতিকার প্রয়োজন হতে পারে. এবং অভিভাবকরা আইনের অধীনে তাদের ভরণপোষণের অধিকার পেতে পারেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে এ ধরনের একটি কল্যাণ আইন পাস হয়েছে।আইনটি অনেক আগে পাশ হলেও এটি সর্ম্পকে এখনো জানেনা সিংহভাগ মানুষই। আজকে অ নিয়েই থাকছে বিস্তারিত-

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ কি?
সরকার ২০১৩ সালে “পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন” নামে একটি কল্যাণ আইন পাশ করেছে। এই আইনের অধীনে, যদি কোনও সন্তান কোনও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তার পিতামাতার ভরণপোষণ না দেয় বা তাদের পিতামাতার যত্নে বা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য কোনও জায়গায় থাকতে বাধ্য করে, তবে তারা অভিযোগের মাধ্যমে প্রতিকার পেতে পারেন। এবং অপরাধীকে এই আইনের অধীনে দায়ী করা হবে।

কে কাকে রক্ষণাবেক্ষণ করবে?
এই আইনে ছেলে এবং মেয়ে উভয়েই তাদের পিতামাতার যত্ন নেওয়ার জন্য দায়ী থাকবে। এভাবে তাদের মধ্যে সমতা তৈরি হয়েছে। এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট সন্তানের জন্য নয় বরং সব সন্তানের জন্য। তবে একাধিক সন্তান থাকলে তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে পারবে।
পিতামাতার ভরণ-পোষণে তাদের সাথে একই স্থানে অবস্থান করতে হবে।যদি কোন সন্তান আলাদা বসবাস করে তবে তাদের মাসিক অথবা বার্ষিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ খরচ বহন করিবে এবং নিয়মিত তাদের সর্ম্পকে খোজ খবর নিবে এবং চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন পুরণ করবে। পিতামাতার অবর্তমানে তারা তাদের দাদা-দাদীর ভরণপোষণ নিশ্চিত করবে।(অনুচ্ছেদ-৩)

কি পরিমাণ অর্থ দিতে হবে?
উল্লেখিত আইনে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয়া না থাকলেও সন্তানের আয় থেকে একটি যৌক্তিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

অনাদায়ে কি শাস্তি হতে পারে?
কোন সন্তান কর্তৃক এই আইনের বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
কোন সন্তানের স্ত্রী, বা ক্ষেত্রমত, স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোন নিকট আত্নীয় ব্যক্তি পিতামাতার ভরণ-পোষণে বাধা প্রদান করে তাহলে তারাও অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবে। (অনুচ্ছেদ-৫)

অপরাধের ধরণ কি হবে?
এই আইনের অধীন অপরাধ আমলযোগ্য জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য হইবে।

কোথায় অভিযোগ করবেন?
কোনো পিতামাতা এই আইনের সহায়তা নিতে চাইলে তাদেরকে ১ম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে লিখিত অভিযোগ করতে হবে।
কোন আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট সন্তানের পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ব্যতীত আমলে গ্রহণ করবে না।

আপোষ-নিষ্পত্তি কিভাবে?
আদালত এই আইনের অধীন প্রাপ্ত অভিযোগ আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার, কিংবা ক্ষেত্রমত, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলর, কিংবা অন্য যে কোন উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।
কোন অভিযোগ আপোষ-নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হইলে, সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, মেয়র, মেম্বার বা কাউন্সিলর উভয় পক্ষকে শুনানীর পর নিষ্পত্তি করবে এবং এভাবে নিষ্পত্তিকৃত অভিযোগ উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত বলে পরিগণিত হবে।

একটি শক্তিশালী সমাজব্যবস্থা গঠন করতে হলে পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার ও তাদের ভরণ-পোষণ ও প্রয়োজন পূরণ করে একসাথে বসবাস করলে এই পৃথিবীটাই হতে পারে জান্নাতের একটি টুকরো।

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।