“শৈশবের স্মৃতিমুখরিত বর্ষাকাল “

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০

————————-
বর্ষা আসার সাথে সাথে আমাদের মনে এক নতুন রেশের সৃষ্টি হয়। খাল-বিল পানিতে থৈথৈ, মাছ ধরা, বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে বৃষ্টিতে ভেঁজা।
সব মিলিয়ে বর্ষাকাল যেন এক স্বপ্নের সময় হয়ে উঠে।
কিন্তু, আমাদের সেই স্বপ্নের সময়টা আজ স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে । হারিয়ে ফেলেছি সেই সব আনন্দের দিন গুলো৷ সময়ের সাথে সাথে আজ আমরা কর্মব্যস্ত হয়ে পরেছি।

শৈশবের বর্ষা আসার শুরুতেই আমাদের গ্রামের পেছন দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া ছোট্ট নদীটা বৃষ্টির পানিতে টইটুম্বুর ভরে উঠতো৷ নদীতে নেমে আসতো পাহাড়ি ঢল। আর সাথে নানান প্রজাতির মাছ।
আমরা গ্রামে একদল চঞ্চল, দুষ্টছেলে তখন দলবেঁধে নদীতে মাছ ধরতে যেতাম। নদীতে সারিবদ্ধ হয়ে লাফালাফি করতাম। নদীর ধারে বেঁধে রাখা নৌকা নিয়ে চলে যেতাম নদীর বুকে। পেছনেই শুরু হতো মাঝির চিৎকার। তবুও আমরা তীরে ফিরতাম না। বর্ষাকালে নানান ফল পাঁকার সময় । তাই আমরা অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে খুঁজে বেড়াতাম অন্যের গাছের পাকা আম, পেয়ারা, আরো নানান ফল। ফল নিয়েই দৌড়।
সকলে একসাথে শেওলা জমে থাকা জায়গায় পিছলে খেতাম। একজন অন্যজনের উপর পরতাম। ব্যাথা পেয়েও তা লুকাতে হাসি মুখে উঠে দাঁড়াতাম।

শৈশবে গা’য়ে পরা বৃষ্টির ফোঁটা গুলো যেন আমাদের শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আনন্দের জোয়ার বয়ে দিতো৷ বৃষ্টিতে কাকভেঁজা হয়ে যখন বাড়ি ফিরতাম বাবা দিতো দৌড়ানি।
দৌড়ে ঘরের পেছনে দাঁড়িয়ে ঠান্ডায় কাঁপতে থাকতাম। মা রাগী চোখে শাসিয়ে নিয়ে আসতো ঘরে৷

যেদিন আমরা বৃষ্টিতে ভিজতে পারতাম না সেদিন ঘরের ভেতর লুডো আর চোর-পুলিশ খেলতাম। লুডো আর চোর-পুলিশ বর্ষার সময়োপযোগী খেলা ছিলো।

সময়ের সাথে সাথে আজ গেছে পাল্টে বর্ষাকাল। চলে গেছে আমাদের শৈশব।
হয়ে পরেছি আজ আমরা কর্মব্যাস্ত।
আজ শুধু শৈশবের কাটানো সেই স্মৃতি মুখরিত বর্ষাকালগুলো স্মৃতিই রয়ে গেল।
——————
≈ ইমতিয়াজ হাসান রিফাত
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়