“শীত আর ব্যাডমিন্টন যেন একসুত্রে গাঁথা”

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০১৯

তাওসিফুল ইসলাম
—————

শীতের শিরশির হাওয়ার আগমনী বার্তা হলো গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অলিতে গলিতে ব্যাডমিন্টনের কোর্ট। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে খেলাটির প্রতি প্রবল আগ্রহ জানান দেয় শীত আর ব্যাডমিন্ট যেন একসুত্রে গাঁথা ভাই।বাংলাদেশে ক্রিকেট এবং ফুটবল প্রেমীদের সংখ্যা বেশি হলেও এদেশের মানুষের কাছে শীত মানেই ব্যাডমিন্টন।

আগেকার মানুষ শীতের সন্ধ্যায় লাকড়ি জ্বালিয়ে বৃত্তাকার হয়ে ঘিরে বসে থাকতো। হাতে পায়ে আগুনের তাপ দিয়ে উষ্ণ করতো শরীর।বৃদ্ধ থেকে শুরু করে গ্রামের মক্তবে আমসিপাড়া পড়ুয়া শিশুটিও গল্প জুড়ে দিত বড়দের সাথে।তবে এখন শীতের মৌসুমে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি ব্যাডমিন্টন খেলায় মত্ত থাকে প্রায় সব বয়সের মানুষ।গ্রামের উঠোনে,ক্ষেতে এবং শহরের অলিগলি ও বাসার ছাদে এই ‘মৌসুমি’ খেলার হিড়িক পড়ে যায়।শরীর চাঙ্গা করার জন্য এই খেলাটি খুবই কার্যকরী।

সব বয়সের মানুষই খেলতে পারে এই খেলাটি।এই খেলাটি শিখতেও বেশিক্ষণ সময়ের প্রয়োজন হয়না;হয়না বিশাল বড় জায়গার প্রয়োজন।বিশেষ ব্যায়বহুল সরঞ্জামের দরকার পড়েনা।দরকার শুধু একটা নেট,কয়েকটি কর্ক,ব্যাট আর বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে আলোর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটা হলে ব্যাডমিন্টনের কোর্ট করা হয়েছে।এছাড়াও টিএসসি,সূর্যসেন হল ক্যাফেটিয়ার সামনে,হলের মাঠে একাধিক খেলার জন্য কোর্ট তৈরি করেছে শিক্ষার্থীরা। এক পক্ষে দুই জন করে মোট চারজন অংশগ্রহণ করে একসাথে।ব্যাডমিন্টন কোর্টকে ঘিরে বসে থাকে দর্শকরা। দর্শকসারীর বন্ধুরা বসে থাকে কবে একটা রাউন্ড শেষ হবে এবং বন্ধুদের ব্যাটটা দৌড়ে আগে গিয়ে নিবে। ডাকসুর ক্রিড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর বলেন, আমরা সাধারণত রাতে খেলতে খুব কমই দেখি।কিন্তু শীত আসলে রাতের অন্ধকার ব্যাডমিন্টন কোর্টের আলোয় আলোকিত হয়ে যায়।খেলতে খুব ভাল লাগে।যদিও চারজন খেললে অনেকে উৎসুক হয়ে বসে থাকে কবে একটু ব্যাটটা হাতে নিতে পারবে।শীতের রাতে একদম পারফেক্ট একটা খেলা ব্যাডমিন্টন।

সূর্যসেন হল ছাত্র সংসদের জিএস সিয়াম আহমেদ সূর্যসেন হল ক্যাফেটেরিয়ার সামনের কোর্টে খেলছিলেন। তিনি বলেন, ‘শীতের হিম প্রবাহের কারনে যেখানে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় সেখানে আমরা দেখতে পাই যে গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে ঢাকা শহরের অলিগলি,এমনকি রাস্তায়ও ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। এখন ব্যাডমিন্টন কোর্টের কারনে আলোকিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি জায়গা। আমি এই খেলার মাধ্যমে শারীরিক এবং মানসিক দুইভাবেই প্রশান্তি অনুভব করি।একজন মানুষের দৈনিক যতটুকু পরিশ্রম করা প্রয়োজন ঢাকা শহরে থেকে তা আসলে সম্ভব হয়না। কিন্তু রাতের এই খেলাটি শারীরিক এবং মানসিক উৎকর্ষ উভয়ই সাধন করে।’
তিনি আরো বলেন, শীতের শুরুতেই আমরা হল সংসদ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৮টি ব্যাট,১২ ডজন কর্ক দিয়েছি যাতে সারাবছর খেলতে পারে এবং প্রতি বছর সূর্যসেন হলে একটি কোর্ট করা হলেও এবারে আমরা দুইটা করেছি।

ঢাবির ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র হৃদয় মোস্তফা বলেন, ‘সবচেয়ে অস্থির মুহুর্ত হচ্ছে যখন দর্শকসারিতে বসে থাকি।কখন খেলা শেষ হবে,কখন মাঠে নামব এই প্রবল আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি।শীত আসলে আমি সব খেলা বাদ দিলেও ব্যাডমিন্টন খেলা ছাড়তে পারিনা।’

এই খেলা শুধু আনন্দের না, স্বাস্থের জন্য উপকারীও বটে। জেনে নিই কয়েকটি উপকারিতা।

১।ওজন কমাতে ব্যাডমিন্টন খুবই কার্যকর একটি খেলা। ১ ঘন্টা ব্যাডমিন্টন খেললে প্রায় ৫০০ ক্যালরি বার্ন হয়।

২।কাজের প্রতি আগ্রহ এবং মনোযোগ বাড়ায়।ব্যাডমিন্টন খেলা মনকে সতেজ ও ফুরফুরে করে তোলে।মানসিক ক্লান্তি দুর হয় এবং কাজের প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি করে।

৩।ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই খেলাটি।দৈনিক এক ঘন্টা এই খেলাটি খেললে রক্তের সুগার কমাবে যা ডায়বেটিসের জন্য মূলত দায়ী।

৪।উচ্চ রক্তচাপ কমায় এবং চাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে।

৫।কার্যক্ষমতা এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে।

ব্যাডমিন্টন উপকারী খেলা হলেও এটাকে ঘিরে খুনের মত ঘটনাও অনেক ঘটেছে।
যেমন, ২০১৮ সালের ৬ই জানুয়ারি ময়মনসিংহে ব্যাডমিন্টনকে ঘিরে ২ কলেজ ছাত্র ছুরিকাঘাতে খুন হয়,(NTV online ৬ই জানুয়ারি, ২০১৮),২০১৮ সালের ৯ই ডিসেম্বর গাজিপুরের বোর্ড বাজারের চান্না এলাকায় ১৪ বছরের শিশু শ্রাবন খুন হয়।এছাড়াও রয়েছে অনেক ছোটবড় আঘাত এবং দুর্ঘটনা।সুতরাং কিছু ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

১। সতীর্থদের সাথে কোন ধরনের যাতে বাক বিতন্ডার সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

২।কোর্ট যাতে সমতল হয়।না হলে হোঁচট খেয়ে পায়ে আঘাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩।চোখের সমস্যা থাকলে রাতে কম আলোতে না খেলা।

৪।ত্রুটিপূর্ণ ব্যাট এবং কর্ক পরিহার করা।তা নাহলে শরীরে আঘাত লাগতে পারে অন্য কারোর।

তাওসিফুল ইসলাম
শিক্ষার্থী : ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়