শিক্ষকদের সম্মান কেন লোপ পাচ্ছে দিনদিন!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০

——–
আগেরকার শিক্ষকের ছাত্র-অভিভাবক অনেক সম্মান করতেন। শিক্ষক শব্দটার সাথে কি কোমল, শ্রদ্ধা, নৈতিকতা জড়িত।কিন্তু এখনকার বেশির ভাগ শিক্ষক কাঙিত সম্মান মর্যাদা পান না! আগেকার বেশির ভাগ শিক্ষকের মনে নৈতিক জোর ছিল,মেধা মনন ছিলো তুখোড় স্বাবলম্বী।ছিল ছাত্রদের ওপর কমান্ডিং-ক্ষমতা।সঠিক শিক্ষা গবেষণা ব্যাখ্যা দানে নিয়োজিত ছিলো প্রতিটি শিক্ষক।একবিংশ শতকের শিক্ষকদের মাঝে যা এখন ঠিক উল্টো হয়ে গেছে!শিক্ষকরা নিয়োগে,পাঠদানে,নৈতিকতায় বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ছে, ভাবার বিষয় এটি।
ছাত্ররা কেন অবক্ষয়ের শিকার।শিক্ষকদের দেখা শুরুতেই কেন ছাত্ররা তাদের থেকে মুখ তুলে নিচ্ছে,আদব কায়দা আদায়ের স্বার্থটুকুই পর্যন্ত আজ হারাচ্ছে শিক্ষক সমাজ।আজ শিক্ষকরা একটু স্বার্থ বা ঠুনকো কাজের উছিলায় অনৈতিক কাজেও নিজেকে আত্মনিয়োগ করে থাকেন।আজ অনেক শিক্ষকের ওপর মানসিক নির্যাতন থেকে শারীরিক নির্যাতন পর্যন্তও হচ্ছেন,পথেঘাটে, রাস্তায়,এবং কি নিজ কর্মস্থল শিক্ষা ক্যাম্পাসেও। শিক্ষক মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়ার মত নিচু মানের ঘটনাও ঘটছে সাম্প্রতিক সময় গুলোতে।বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পেরিয়ে আজ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত চলে গেছে এ অসহিষ্ণুচর্চা।
বর্তমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতারা যা বলেন, সেটাই বাস্তবায়ন করতে হয় শিক্ষককে।এ ব্যর্থতা এই অরাজকতার দায় আজ শিক্ষকের না ছাত্রে?
আমার পক্ষে উভয়পক্ষের দায় হলেও অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকই দায়ী বেশি মনে করি।
অনৈতিক ও অনিয়ম ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা বেশি দায় নিতে বাধ্য। এবং তারা নিজেরাই তৈরি করছে শিক্ষকদের এই অবনতির ধারা।
প্রচলিত রকমের প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেলে কমান্ডিং ক্ষমতা পাওয়া যায় সম্মান আর নৈতিকতা না!
নিজের স্বার্থের জন্য অন্যায়-অনিয়ম অনেক শিক্ষক করে থাকেন। নম্বর বেশি দেওয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছুই হয়। চরিত্রের স্খলনও হয়। যারা জানেন, তারা সে শিক্ষককে কেন মানবেন?
আজ শিক্ষক শিক্ষকের অবস্থানে নেই। তাদের একাংশ ক্ষমতা নিতে চান।যোগ্যতার বাহিরে গিয়াও ক্ষমতা চায়। ভবিষ্যতে লাভজনক পদ পেতে আগ্রহী। নীতিনৈতিকতার ধার ধারেন না অনেক শিক্ষক। ফলে অনেক সময় ছাত্রসংগঠনের লেজুড়বৃত্তি করে থাকেন স্বয়ং শিক্ষকরাই। ক্ষমতাসীন সংগঠনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি হয়। দেখা যায়, নিজের ছাত্রদের (ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতা) তোয়াজও করে থাকেন। এদের সন্তুষ্টির জন্য বেশির ভাগ সময় নষ্ট করেন, ব্যবহার করেন। ফলে রিমোট কন্ট্রোল শিক্ষকের হাতে থাকে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অশুভ শক্তির হাতে চলে যায়।শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করে ছাত্ররা।

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ছাত্র ও শিক্ষক সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।যার দরুন পদেপদে শিক্ষকরা অপদস্ত হচ্ছে,অথচ ছাত্র শিক্ষকের এটি মধুর সম্পর্ক হওয়ার কথা। শিক্ষক কী অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারছেন আজ?নাকি রাজনৈতিক দল আর রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রনাদি হচ্ছেন। ছাত্ররা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে কেন? এ রকম নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এখন। রাজনীতি দায়ী কি? না লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি দায়ী?
———–
শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকুক রাষ্ট্রে।
আব্দুর রহিম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
rahimcou@gmail.com