শরীয়তপুরের চরাঞ্চলে বেড়েছে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

———————
সম্প্রতি শরীয়তপুরের পদ্মার তীরবর্তী এলাকাগুলোতে আসঙ্কাজনক হারে বিষাক্ত রাসেল ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রব বেড়েছে।নদীর তীরবর্তী কাচিঁকাটা ইউনিয়ন ও মাথাভাঙ্গা এলাকাতে প্রতিনিয়তই দেখা মিলছে ভয়ঙ্কর এই সাপের।গত এক মাসে স্থানীয়দের মাছ ধরার চাই,জাল,এবং ধানক্ষেতে অন্তত ৯ টি চন্দ্রবোড়া সাপ ধরা পরেছে।এর মধ্যে ৭ টি সাপ মেরা ফেলা হয়েছে এবং ২ টি সাপ উপজেলা বন বিভাগের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়দের থেকে জানা যায়,কয়েকদিন আগে মাহিন নামে ৫ বছরের একটি ছেলে চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারা গিয়েছে এবং আরেকজনের ৫ টি ছাগল মারা গেছে।যার ফলে গ্রামবাসির আতঙ্কে দিন কাটছে।

চমকপ্রদ ব্যাপার হলো গতকাল শনিবার ৭ বছরের একটি ছেলে একাই পিটিয়ে মেরেছে বিশালাকৃতির একটি চন্দ্রবোড়।সে হয়তো চন্দ্রবোড়ার বিষাক্ততার কথা না জেনে সাধারন সাপ ভেবে মেরেছে।

অন্যান্য সাপ সাধারনত মানুষ দেখলে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু চন্দ্রবোড়ার স্বভাব উল্টো। মানুষ দেখলে তার মেজাজ ক্ষিপ্ত হয় এবং দৌড়ে গিয়ে কামড় দেয়। ফলে অধিকাংশ মানুষ চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারা যায়।

চন্দ্রবোড়া বা রাসেল ভাইপার হলো পৃথিবীর পঞ্চম বিষাক্ত সাপ। চন্দ্রবোড়ার দেহ মোটাসোটা, লেজ ছোট ও সরু। প্রাপ্তবয়স্ক সাপের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত এক মিটার; দেহের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১.৮ মিটার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে চন্দ্রবোড়া সাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরের যে কোনো সময় প্রজনন করে। একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারণ শেষে ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোনো কোনো চন্দ্রবোড়া সাপের ৭৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়ার রেকর্ড আছে।

চন্দ্রবোড়া নিচু জমির ঘাসযুক্ত উন্মুক্ত পরিবেশে এবং কিছুটা শুষ্ক পরিবেশে বাস করে। এরা নিশাচর, এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, টিকটিকি ও ব্যাঙ ভক্ষণ করে। পৃথিবীতে প্রতিবছর যত মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়, তার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারা যায়। এদের বিষদাঁত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃহৎ। এরা প্রচণ্ড জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে। চন্দ্রাবোড়ার বিষ হোমটক্সিন, যার কারণে কামড় দিলে মানুষের মাংস পচে যায়।

অন্যান্য সাপ শিকারের সময় শিকারকে কামড় দিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলে কিন্তু হিংস্র চন্দ্রাবোড়ার শিকারকে শুধু একা নয়, তার পুরো পরিবারসহ খেতে ভালোবাসে। তাই অন্যান্য সাপ যেমন একটি ইঁদুরকে কামড় দিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলে, চন্দ্রাবোড়া সে ক্ষেত্রে কামড় দিয়ে ছেড়ে দেয়। প্রচণ্ড বিষের যন্ত্রণায় ইঁদুর যখন তার গর্তের দিকে ছুটে চলে চন্দ্রাবোড়া তার পিছু পিছু গিয়ে সে গর্তে ঢুকে সব ইঁদুরকে খেয়ে ফেলে।

রাজশাহী অঞ্চলে এ সাপ বেশি পাওয়া যায়। রাসেল ভাইপার ভারত- বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। আক্রমণের ক্ষিপ্র গতি ও বিষের তীব্রতার কারণে রাসেল ভাইপার সাপটি ‘কিলিংমেশিন’ হিসেবে পরিচিত।
——————
আসিফ আহমেদ
শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়