ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ মে ২০২৪
  1. সর্বশেষ

গরিব হোটেল-মালিকের হৃদয় ছোঁয়া মানবিকতার গল্প

প্রতিবেদক
নিউজ এডিটর
২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২:১৮ অপরাহ্ণ

Link Copied!

ফেসবুক কর্ণার :

হৃদয় যেখান প্রসারিত, “অর্থ” সেখানে গৌণ। সৃষ্টির শুরু থেকেই ” মানুষ মানুষের জন্য” তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে চলছে পৃথিবী, আর কামিনী রায়ের কথাটি তো না বললেই নয়- ” সকলের তরে সকলে আমরা,প্রত্যেকে আমরা পরের তরে” ! তবে পরের কল্যাণে মানবতার খাতিরে কাজ করা আজকের বস্তুবাদী পৃথিবীতে হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন, তবে এখনো মানবতা বেঁচে আছে কিছু মহান – মহীয়সীর হৃদয়ে। যেদিন ধীরে ধীরে একটি মানবতাবাদী মানুষও থাকবেন না,হয়তো সেদিনই হবে “মহাপ্রলয় “! তবে মানবকল্যাণে মহৎ কাজ করতে বিপুল অর্থকড়ি লাগে না, বরং দরকার শুধু একটা মহৎ হৃদয়। সেজন্যই তুলে ধরছি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত একটি গল্প, হয়তো এসব মানুষের জন্যই পৃথিবী আজও এত সুন্দর……….

” চট্টগ্রামের রাউজানে বাজারের একটি হোটেলে বসলাম। লক্ষ্য ছিলো সিংগাড়া খাবো। লোভে পড়ে খাই।

আমি সব সময় হোটেল-রেস্টুরেন্টের এক কোণায় গিয়ে বসি। একটু লুকিয়ে থাকার ইচ্ছে আরকি। আমি অবশ্যই অন্তর্মুখী মানুষ।

গতকাল কোণার টেবিল ফাঁকা না থাকায় ম্যানাজারের খুব কাছের একটি টেবিলে বসলাম। তার সব কথা শুনতে পাচ্ছিলাম।

একজন বয়োঃবৃদ্ধা ভিক্ষুক এলেন। কাতর কন্ঠে বললেন, “বাবা, খুব ক্ষুধা লেগেছে। কিছু খেতে দিতে পারো?”

ম্যানেজার একটা টেবিল দেখিয়ে বললেন, “ঐ জায়গায় গিয়ে বসেন খালা।”

তারপর চিৎকার দিয়ে বললেন, “খালাকে এক প্লেট খিচুড়ি দে।”

আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম। ছোট্ট হোটেল। তেমন বেচাকেনা হয় বলেও মনে হলো না।

দুই তিন মিনিটের মধ্যেই আরো একজন বৃদ্ধা ভিক্ষুক ভিক্ষা নিতে এলেন। ম্যানেজার বললেন, “খাওয়া দাওয়া হয়েছে খালা?”

খালাকে নিশ্চুপ দেখে আগের খালার পাশের চেয়ারে বসালেন এবং তাকেও এক প্লেট খিচুড়ি দেওয়া হলো। দুই জন ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বয়োঃবৃদ্ধাকে খেতে দেখে কী যে ভালো লাগছিলো!

এরপর আরো একজন বয়োঃবৃদ্ধা ভিক্ষুক এলেন। ম্যানাজারের সামনে দাঁড়ালেন। বললেন, “বাবা, ভিক্ষা করতে এসেছিলাম। তেমন ভিক্ষা পাইনি আজ। বাড়ি যাওয়ার ভাড়া নেই। ভাড়াটা দিতে পারো।”

ম্যানাজার বললো, “আমার তেমন বিক্রি হয়নি খালা। আপনি বরং একটু খেয়ে যান। দেখেন কেউ ভাড়াটা দিতে পারে কিনা।”

এতোক্ষণ যে বয়টি খাবার পরিবেশন করছিলো সে বললো, “খালা কয় টাকা ভাড়া লাগে বাড়ি যেতে?”

-১৫ টাকা বাবা।

হোটেল বয়টি পকেট থেকে ২০ টাকার একটা নোট বের করে খালার হাতে দিয়ে বললেন, “নেন, এটা রাখেন। একটু খিচুড়ি খেয়ে বাড়ি যান। আমি খিচুড়ি দিচ্ছি।”

হোটেল ম্যানাজার হাসতে হাসতে বললেন, “শালা যেমন ম্যানাজার, তেমন তার কর্মচারীরা! কেউ মানুষকে ফিরাতে জানে না।”

তারপর বললেন, “শোন, কোন ভিক্ষুক যেন খেতে এসে না ফিরে যায়। সবাইকে খাওয়াবি।”

আমি সব দেখছিলাম। মাথা নিচু করে বসে আছি। চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। মনের ভেতর তোলপাড় চলছে।

ম্যানাজারকে এক সময় কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললাম, “ভাই, আপনার ঐ কর্মচারী ছেলেটি সম্পর্কে আমাকে একটু বলুন তো প্লিজ। কয় টাকা বেতন দেন ওকে।”

– ব্যবসা তো তেমন চলে না ভাই। সারাদিন হোটেল খোলা। রাত নয়টা পর্যন্ত। ওকে ১২০ টাকা দিই।

– বাড়িতে কে কে আছে ওর?

– কেউ নেই তেমন। মা মারা গেছে। বাবা আরেকটি বিয়ে করেছে। ওর নানা-নানি বয়স্ক হয়ে গেছে। কোন কাজ করতে পারে না। এই ছেলেটি কাজ করে নানা-নানিকে খাওয়ায়।

আমার কাছে এবার অনেক কিছু পরিস্কার হয়ে গেল। সারাজীবন ভালোবাসা, মায়া, স্নেহ বঞ্চিত বলেই, এই ছেলেটার হৃদয় ভালোবাসা আর মায়ায় পরিপূর্ণ।

ছোট্ট ছেলেটিকে কাছে ডাকলাম। বললাম, “লেখাপড়া করেছো?”

– না স্যার।

– ঢাকার দিকে কোন কাজ ম্যানেজ করে দিলে যাবা? একটু বেশি বেতনের?

– নানা-নানি চলতে পারে না। তাদের গোসল করার পানি তুলে দিতে হয়। টয়লেটের, অযুর। খাওয়ার রান্না করতে হয়। আমি এদের রেখে যেতে পারবো না স্যার।

আরো কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরে এসেছি। মনটা কেমন ভার হয়ে আছে। ছেলেটা সারাদিন কাজ করে একশত কুড়ি টাকা পায়। তিন জন মানুষের সংসার। কীভাবে চলে! এর থেকে সে আবার অসহায়দের দান করে!

মন খারাপ হলে আমি আল-কুরআন খুলে বসি। আজও কুরআনুল কারীম খুলতেই সূরা আল-বাকারার একটি আয়াতে চোখ আটকে গেল। “এরা নিজেদের রিজিক থেকে অসহায়দের দান করে.. ”

আমি আয়াতটির তাফসীর পড়া শুরু করলাম। সেখানে লেখা, “মানুষের এমন পরিমাণ দান করা উচিত, যাতে তার নিজের খাবারে টান পড়ে।”

মনের মধ্যে তোলপাড় হচ্ছে। নিজের খাবারে টান পড়া মানে, গোশত খেতাম, দান করার কারণে এখন মাছ খেতে হচ্ছে। দুই প্লেট ভাত খেতাম এখন এক প্লেট খেতে হচ্ছে।

কী অদ্ভুতভাবে আয়াতটি আমার কাছে খুলে যাচ্ছে! তাবুক যুদ্ধের সময় আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ(সাঃ) বললেন, “আজ কে বেশি দান করতে পারো দেখি?”

উসমান (রাঃ) একশত উট দিয়েছিলেন। উমর (রাঃ) তার সম্পদের অর্ধেক দিয়েছিলেন। আবু বকর (রাঃ) দিয়েছিলেন এক মুষ্টি খেজুর বা একটু যব জাতীয় কিছু আর তার বাড়িতে ঐটুকু সম্পদই ছিলো।

রাসূল (সাঃ) যা বলেছিলেন তার সারমর্ম হলো, আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) দানে প্রথম হয়েছে। সে তার সম্পদের শতভাগ দিয়েছে।

আসলে কোন কিছুই তো মহান আল্লাহ তাআলার দৃষ্টির আড়ালে নয়।”

গল্পটি সত্যিকার অর্থে মানব হৃদয়ের গহীনে নাড়া দেওয়ার মতো। প্রতিটি মানুষই যদি এরকম হতো তবে পৃথিবীটা কতই না সুন্দর হতো! হ্যাঁ, কিন্তু এটাও বাস্তবতা যে সকল মানুষ তো এমন মহৎ হবে না, কিন্তু যদি আপনি আমি এমন হতে পারি, তবেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিলে বিশালসংখ্যকে পরিণত হবে, আমরাও সাজাতে পারবো একটি রঙিন পৃথিবী।

—————-
কাওসার আহমেদ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

576 Views

আরও পড়ুন

যেকোনো সময় সৃষ্টি হবে লঘুচাপ : বেড়েছে তাপপ্রবাহ

মাইশা আক্তার নিশিলার কবিতা “বীর রাইসি”

আদমদীঘিতে রাজু খান আবারো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী যারা

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রাজু তৃতীয়বার পেকুয়া উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত

কুতুবদিয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ওসিসি কার্যক্রম অবিহিত করণ সভা

চরবাঘুন গণপাঠাগারের পুরষ্কার ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচন
জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবক আটক

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন) ৩ প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন, নাগরপুর ভোটের মাঠে তোলপাড়

চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুল ইসলাম জুয়েলকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসিসহ সফরসঙ্গী কেউ বেঁচে নেই

শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নে চার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা।