ঢাকা২০শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লবণাক্ত পানিতে ধ্বংস হচ্ছে দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ; যান ও মানব চলাচলে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

মার্চ ৫, ২০২১ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাছান মাহমুদ সুজন,কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা ঃ
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আজম সড়ক সহ গ্রামীণ সড়ক ও ছোট ছোট ব্রিজ-সাঁকো গুলো লবণের পানি পড়ে দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।পলিথিন বিহীন লাল গাড়ি(মাহিন্দ্রা) ও ট্রলিতে লবণ বহন করার কারনে প্যারাসুটের বস্তা থেকে লবণাক্ত পানি রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিঠিয়ে পড়ে।ফলে চলাচলের রাস্তা কাদামাখা,পিচ্ছিল হয়ে জন-যোগাযোগে যে কোন মুহুর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘঠতে পারে।লবণ ব্যবসায়ীরা নিজস্ব লাল গাড়ি(মাহিন্দ্রা) ও ট্রলি নিয়ে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুন লবণ পরিবহন করে রাস্তা-ঘাট বিনষ্ট করিতেছে। অতিরিক্ত লবণ পরিবহনে এক ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও লবণ ব্যবসায়ী এবং অদক্ষ ট্রলি চালকেরা তা কিছুতেই মেনে চলতেছে না।লবণ পরিবহনের বিষয়ে তৎসংশ্লিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কতিপয় অসাধু লবণ ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও জনসাধারণের চলাচল এবং যান চলাচলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। লবণের ট্রলি থেকে গলিত লবণাক্ত পানি কুতুবদিয়ার প্রধান প্রধান সড়কের স্থায়িত্ব দিন দিন নষ্ঠ করে দিচ্ছে।

সাধারণত দ্বীপের পর্যটকগামী দরবার সড়ক, উত্তর ধূরুং এবং দক্ষিণ ধূরুংস্থ আজম সড়কের প্রায় অংশে যত্রতত্র লাল গাড়ি(মাহিন্দ্রা)/ট্রলিতে লবণ লোড করতে দেখা যায়।এমন দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন, কতিপয় অসাধু লবণ ব্যবসায়ীরা রাস্তার উপর জেদ করে গাদাগাদি ভাবে লবণ লোডের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। প্রতিনিয়ত দুঘর্টনা এবং লবণের পানিতে সড়ক নষ্ট হওয়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,দ্বীপের প্রধান আজম সড়কের আকবর বলী ঘাট থেকে ধুরুং বাজার পর্যন্ত বেশ কিছু অংশ,উত্তর ধূরুং এর বাঁকখালী,ছাদের ঘোনা,বাইঙ্গাকাটা,সতরুদ্দিন,জহির আলী সিকদার পাড়া,কৈয়ারবিলের নজর আলী মাতবর, বিন্দা পাড়া,মলমচর,দক্ষিণ ধূরুং এর দরবার ,আশা হাজির পাড়া,আকবর শাহ্ ,রাজাখালী,লেমশীখালীর আফাজ উদ্দিন সিকদার পাড়া,গাইনে কাটা,মতি বাপের পাড়া,বড়ঘোপের আজম কলোনী, তাবালেরচর ও বায়ুবিদ্যুৎ সড়কসহ জন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থা।এসব এলাকার সড়কগুলোর উপর মৌসুমজুড়ে অনৈতিক ভাবে যত্রতত্র স্তুপ আকারে রাখা হয় অহরহ লবণের বস্তা।ফলে ওই স্তুপ থেকে লবণাক্ত জল ও কাদা বের হয়ে রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে যায়।যার ফলে যান ও মানব চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি হয়।এতে সাধারণ পথচারীসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ দেখা দেয়। প্রতিনিয়ত অন্যায় ভাবে এলোপাতাড়ি স্তুপ আকারে লবণের বস্তা মজুদ করে প্রতিদিন ডজন ডজন লাল গাড়ি(মাহিন্দ্রা) ও ট্রলি সড়কের দু’পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে পলিথিন বিহীন গাড়িতে লবণ লোড করায় যাত্রীবাহী গাড়ী চলাচলে চরম ভোগান্তি পোঁহাতে হচ্ছে পথচারীদের।এসব সড়কের উপর ট্রলিতে লবণ লোড করার সময় পথ যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত বাক-বিতন্ডা লেগে থাকে।কেউ কিছু বললে লবণ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধমকি প্রদান করে।তাতে উল্টো পথচারীদের উপর বিপদ নেমে আসে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা বলেন, রাস্তার পাশে মাটির কলাম না করে সরাসরি সড়কের উপর লবণের বস্তা মজুদ করার কারনে লবণাক্ত পানি পড়ে কুতুবদিয়ার প্রধান আজম সড়কটির দু’পাশের মাটি সরে গিয়ে সংকীর্ণ হয়ে দ্রুত সময়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়তেছে।স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ীরা সড়কের সংস্কার কাজেও কোন ধরনের ভূমিকা রাখেনা। কিন্তু অসাধু লবণ ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত সড়কের বারোটা বাজাচ্ছে।লাল গাড়ি(মাহিন্দ্রা) ও ট্রলির ড্রাইভারেরা কৌশলে প্রচুর পরিমাণ লবণ লোড করে দ্বীপের প্রধান দুটি ঘাট দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চালান করে থাকে।জরুরী ভিত্তিতে সড়কের উপর অনিয়ন্ত্রিত গাড়ী পার্কিং করে লবণ লোড বন্ধ করতে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। খোলা ট্রালিতে লবণ পরিবহন করায় এবং সড়কের দু,পাশে লবণের বস্তা মজুদ রাখায় লবণাক্ত পানি পড়ে ক্ষতি হচ্ছে চলাচলের রাস্তাগুলো।স্থানীয় সচেতন মহল জরুরী ভিত্তিতে ক্ষতির দিক বিবেচনা করে পলিথিন বিহীন মাহিন্দ্রা ও ট্রলির মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ পরিবহন বন্ধ করনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবী জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এম জহিরুল হায়াত বলেন,সড়কের উপর লবণের বস্তা না রেখে যে কোন এক পাশে মাটির উঁচু টিলা করে লবণের বস্তা রাখার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বারংবার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।ইতিপূর্বে বেশ কিছু লবণ ব্যবসায়ীকে দ্বীপের গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলোর উপর যত্রতত্র লবণের বস্তা রাখার দায়ে এবং মাহিন্দ্রা/ট্রলি অতিরিক্ত লবণ বহন করার কারনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে।এবং জনস্বার্থে প্রশাসনের এ অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্পর্কিত পোস্ট