রোহিঙ্গা কর্তৃক স্থানীয় অপহরণ,ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবী

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৭:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

সালাহ উদ্দিন সালাম, কক্সবাজার :

গত ২৭ তারিখ কক্সবাজার শহরের পশ্চিম নতুন বাহার ছড়ার এক দিনমজুরকে স্থানীয় প্রতিবেশির সহযোগীতায় কয়েকজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী অপহরণ করে কুতুপালং ক্যাম্পে আটকে রাখে।
অপহৃত ব্যক্তি শহরের পশ্চিম নতুন বাহারছড়ার মোহাম্মদ আবু তাহেরর ছেলে মোহাম্মদ আকবর (২৬)।

অপহরণের পর আকবরের ছোট বোন জাহানারা বেগমের কাছে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন আসলে তাকে বলায় হয়,আকবর তাদের হাতে জিম্মি যদি দ্রুত ৭ লাখ টাকা না দেয় তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে । এমন অবস্থায় পরিবারের সবাই বিলচিত হয়ে পড়লে জাহানারা বেগম তার স্বামীকে নিয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকে, আকবরের বোনের অভিযোগ তাদের প্রতিবেশী রাশেদুল ইসলাম (৩০) এর সহযোগীতায় তার ভাইকে অপহরণ করা হয়েছে। । এক পর্যায়ে তারা মানবাধিকার ও অনুসন্ধানী সংস্থা “লাভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন” কক্সবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের বিষয় টি অবগত করলে তারা বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার এক অফিসারকে অবগত করেন। তারা যৌথভাবে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নাম্বারের সূত্র ধরে রাতভর অভিযান চালিয়ে অপহরণ চক্রের এক সদস্যকে আটক করেন কলাতলীর একটা কটেজ থেকে । আটককৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ রশিদ (৩৫), পিতা ঃ ইয়াকুব আলী। মোঃ রশিদ ২০১৭ সালে মায়ানমার থেকে পালিয়ে কুতুপালং ক্যাম্পের বি ব্লকের সি-২৮ নাম্বারে আশ্রয় নেন, তাদের মাঝির নাম এনায়েত উল্লাহ। রশিদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানা যায় অপহৃত ব্যক্তি মোহাম্মদ আকবরকে তারা কুতুপালং ক্যাম্পে আটকে রাখে। মোঃ রশিদ কক্সবাজার অবস্থান করছিলেন আকবরের পরিবার থেকে টাকা রিসিভ করার জন্য এবং আকবরের পরিবার সাথে ফোনে যাবতীয় কথাবার্তা রশিদই বলে আসছিলেন।
অপহৃত ব্যক্তির অবস্থান সনাক্ত হলে ঐ গোয়েন্দা অফিসার কক্সবাজার সদর থানাকে অবগত করলে সদর থানা সাথে সাথে এস আই আতিকুলের নেতৃত্বে ফোর্স পাঠিয়ে দিলে রশিদকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। এস আই আতিকুল ভিকটিমকে আস্বস্ত করেন তারা ধৃত আসামীকে নিয়ে ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে আকবরকে উদ্ধার করবেন।
পরের দিন আকবরের বোন জাহানারা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন, মামলা নাম্বার -৪৬/২০ (তা-২৮/৯/২০)। মামলায় এক নাম্বার আসামী করা হয় রাশেদুল ইসলাম (৩০),পিতা: মন্নান সওদাগর,ঠিকানা: পশ্চিম নতুন বাহারছড়া। দুই নাম্বার আসামী করা হয় মো: রশিদ (৩৫),পিতা: ইয়াকুব আলী এবং আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা করে আসামী করা হয়।
অন্যদিকে ক্যাম্পে রশিদের আটকের খবর পৌঁছালে আকবরকে আরো মারধর করে এবং তিন টা বিকাশ নাম্বার দেয় দেড় লাখ টাকা পাঠানোর জন্য।
রশিদ আটকের পর তবুও আতংক কাটছে না আকবরের পরিবারের।