রাবি শিক্ষার্থী সোবরাবকে ছাত্রলীগ কতৃক নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবরোধ

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

আব্দুর রহিম,রাবি :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহরাব মিয়াকে ছাত্রলীগের দুই কর্মী পিটিয়ে বাম হাত ভেঙে দেয়া এবং মাথা ফাটানোর প্রতিবাদে আজ শনিবার রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সাধারন শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন,এবং বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ১১.২০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে এসে তারা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, কিছুদিন আগে আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের টর্চার সেল রয়েছে। বুয়েটে আবরার হত্যা, রাজশাহী পলিটেকনিকে অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলেছে ছাত্রলীগ। রাবিতেও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের মারপিট করে ছাত্রলীগ। সব অপকর্মে ছাত্রলীগের কিছু দুষ্কৃতিকারী জড়িত। তাদের এ ক্ষমতা কে দেয়?

এ সময় তারা জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য যে, গতকাল শুক্রবার
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে সোহরাব মিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রলীগ কর্মী বেধড়ক পিটিয়ে বাম হাত ভেঙে দেয় মাথা ফাটিয়ে দেয় ।
তার মাথায় ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মারধরে জড়িতরা হলেন- ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবির নাহিদ। এরা দুই জনই জোহা হল শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্বে রয়েছেন এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

হল সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ লাকের নেতৃত্বে সোহরাবসহ ফ্যাইনান্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হলের তৃতীয় ব্লকের ২৫৪ নম্বর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহরাবকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন আসিফ লাক ও হুমায়ুন কবির নাহিদ। একপর্যায়ে তারা দুই জন মিলে সোহরাবকে রড দিয়ে মারধর শুরু করেন। সোহরাব রক্তাক্ত হলে তারা মারধর বন্ধ করেন। পরে সোহরাবের বন্ধুরা গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ও পরে রাজশহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সোহরাবের সহপাঠীরা জানান, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপর ও নিচে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। মাথার তিন জায়গায় মোট ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার মাথা থেকে প্রচণ্ড পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আপাতত এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে সিটিস্ক্যান করানো হয়েছে।