সোমবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

রাবি ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে মুনাফালোভীদের ব্যাপক অতৎপরতা

অক্টোবর ৪, ২০২১
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

স্টাফ রিপোর্টার,রাবি :

আজ থেকে শুরু হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। তিন দিনব্যাপী শুরু হওয়া এই পরীক্ষা চলবে আগামী ০৬ অক্টোবর পর্যন্ত। চলতি বছর তিনটি ইউনিটের ১ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা অংশ নিচ্ছেন। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এবারই প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা ভর্তিচ্ছু কয়েকলাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণের পদচারণায় বর্তমানে মুখরিত হচ্ছে শান্তির শহর খ্যাত রাজশাহী। গ্রীন সিটি ও ক্লিন সিটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর সৌন্দর্যে দূর-দূরান্ত থেকে আগত এইসব মানুষজন যতটা মুগ্ধ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি যাতায়াত থেকে শুরু করে আবাসন ব্যবস্থা ও খাবার হোটেলে মুনাফালোভীদের অপতৎপরতায় অসন্তোষ প্রকাশ করছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী ও অবিভাবকদের প্রতি মানবিক আচরণের জন্য বারবার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তবে মুনাফালোভী সম্প্রদায় এতে পিছপা হন নি। দেদারসে পরিচালনা করছে তাদের মুনাফাখোরী কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা গেছে, যাত্রীদের জব্দ করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ -৭গুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করছে রাজশাহীর অটো-রিকশা চালকেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাসহ বিনোদপুর, কাজলা, আমজাদের মোড়, তালাইমারী ও রাজশাহী শহরের বিভিন্ন হোটেল ঘুরে দেখা গেছে খাবার মূল্য প্রায় দ্বিগুণ করেছে হোটেলমালিকেরা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কিছু মুনাফালোভী শিক্ষার্থীরাও স্বল্পমূল্যে আবাসনের নাম করে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ ওঠেছে। তাছাড়া মেসমালিকদের পক্ষ থেকে ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থীদের নিকট থেকে থাকার জন্য অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হবে না প্রকাশ্যে এমন ঘোষণা এলেও গোপনে কিছু মেসমালিকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
কিশোরগঞ্জের থেকে আগত অনন্ত নামের ভর্তিচ্ছু অভিযোগ করেন- আমরা রেলগেট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট পর্যন্ত এসেছি। আমাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে ভাড়া হিসেবে ৮০ টাকা করে অটোচালক। অচেনা শহরে এসে আমরা পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা জয় নামের ভর্তিচ্ছু অভিযোগ করেন, “শহরটা ভালো লাগলেও মানুষজনদেরকে ভালো মনে হচ্ছে না। যাতায়াত থেকে শুরু করে খাবারের দোকান সবজায়গায় প্রতারণা আর ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।”

বগুড়া থেকে আগত আল-হালিম জীম বলেন, “আমি আজ ৮ দিন ধরে এখানে। রাজশাহী পরিষ্কার শহর হলেও এখানে অনেক অপরিষ্কার মানসিকতার মানুষ দেখেছি। এটা খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা। মানুষকে কায়দায় ফেলে মাত্রাতিরিক্ত গাড়িভাড়া ও খাবারের দাম বাড়ানোকে নিন্দা জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের দ্বিতীয় শিক্ষার্থী কামরুল ইসলামের অভিযোগ,” অটোচালক ও খাবারের দোকানদারদের কথা না হয় বাদই দিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও স্বল্পমুল্যে আবাসিক সুবিধার কথা নামে যা শুরু করেছে এটাকে চাদাবাজিই বলাই চলে! এতটুকু মাথাগুজার আশ্রয় দিয়ে প্রতিরাত বাবদ মাথাপিছু ৪০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এটা সত্যিই নিন্দনীয় ঘটনা। অটোরিকশা চালক ও খারাপ দোকানের লোকদের মধ্যে হয়তো শিক্ষার আলো নেই, কিন্তু তাই বলে কি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও আলোহীন! ”

ব্যাংকিং এন্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের এমবিএ শিক্ষার্থী শফিউল ইসলাম সিফাত বলেন,”ঐতিহ্যবাহী রাজশাহীর সুনাম বিনষ্টকারী এইমুনাফালোভীগুলো রাজশাহী তথা দেশের শত্রু। নূন্যতম মূল্যবোধ থাকলে এরা এরকম কাজ করতে পারতো না। স্টুডেন্টরাই এই এলাকার অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। অথচ এই স্টুডেন্টদেরকে এরা সম্মান দিতে জানে না। গত দুই বছরে করোনার কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এদের ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলে ওঠে ছিলো। তবু এদের শিক্ষা হলো না এটাই অনেক আফসোসোর বিষয়। এখানকার মুনাফাখোরীদের প্রতি নিন্দা জানাই।”

ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান বলেন, “এটা খুবই নিৎকৃষ্ট মানসিকতা। এখানে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী ও তাদের অবিভাবকগণ সবাই আমাদের ক্যাম্পাসকে পছন্দ করলেও স্থানীয় মেসমালিক, অটোরিকশা চালক ও খাবারের দোকানদারদের ছোটলোকি মন-মানসিকতার জন্য আমাদের ক্যাম্পাসের সুনাম নষ্ট হয়। এদের আচরণ খুব খারাপ।
এসবক্ষেত্রে সুযোগের সদ্ব্যবহার এরা খুব ভালো জানে।
তবে আমি যে মেসে থাকি তার আব্দুর রহিম ছাত্রাবাস, বিনোদপুর, রাজশাহী। মেসমালিক জুয়েল চাচা ও মেস ম্যানেজার রমজান আলী এসকল বিষয়ে অত্যন্ত অমায়িক। ওনারা প্রকাশ্য ঘোষণা না দিলেও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিকট অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোন ইতিহাস তাদের বিরুদ্ধে নাই। রাজশাহীর সকল মেস মালিককে তাদের নিকট থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ”

মাসুদ চৌধুরী নামের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, “একজনের অতিরিক্ত পরীক্ষার্থী রুমে রাখলে মাথাপিছু ২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মেসমালিকের দাবি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েই এমনটা করছেন।”

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানার দাবি, “তার মেসেও মেস মালিকগণ মাথাপিছু ২০০ টাকা আদায় করতেছে।”

আজিজুন্নাহার নামের আরেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর অভিযোগ, “অথচ আমাদের মেসে একজন থাকলেও ২৫০ টাকা। কোন ছাড় নাই,থাকলে থাকো নইলে যাও।”

রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের আনিফুল ইসলাম সোহান বলেন,” আমরা অভিযোগ পেয়েছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে খাবারের হোটেলগুলোতে খাবারের নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি মুল্যে টাকা আদায় করছে।আমরা ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ্য থেকে রাবি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। আর না হলে শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে আমরা দোকানগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হবো।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ছাত্রনেতা হিসেবে সুপরিচিত ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলের শরণাপন্ন হলে তিনি জানান, “তবে যেখানে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রয়াসে নিজেকে নতুন কোন উদ্ভাসে প্রতিনিয়ত গড়ে তোলায় মত্ত হবে বলে শপথ নেয় সেখানে অবশ্যই তাদেরকে ভালো সেবাদানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। মুনাফালোভীদের খপ্পরে পরে তাদের সামান্য লোভের কারণে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মনেরর উপর যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরবে যা পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষদেরসহ বিশ্ববিদ্যালয় এর উপর চরমভাবে আস্থাহীনতা কাজ করবে।”

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।