রাজনীতির শুদ্ধ পুরুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১১:৩৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২০

———————–
রাজনীতির শুদ্ধ পুরুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্যই আদর্শ নয়, বরং তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য আদর্শ ও অনুকরনীয় ব্যক্তি। ১৯৫২ সালের ১লা জানুয়ারী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহন করার ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনীতি সচেতন ছিলেন। সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শকে বুকে ধারন করে যে মানুষের ভালবাসা অর্জন করা যায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তা রাজনীতি অঙ্গনে প্রমান করে গেছেন। ক্ষমতার চেয়ারে বসে কিভাবে দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসতে হয় তিনি তার জীবনাদর্শে তা দেখিয়ে গেছেন। তিনি আজীবন জবাবদিহিতার রাজনীতি করেছেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে কলঙ্কের কোন দাগ ছিলনা। ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি কোন দিন। সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন । ক্ষমতাকে তিনি সবসময় দায়িত্ব মনে করতেন। আর এই সততার কারনেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বারবার তাকে গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ- ৩ আসন থেকে সপ্তম ও অষ্টম এবং পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ -১ আসন থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।পরপর দুইবার তিনি বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রনালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।তাছাড়াও পরপর দুইবার ২০০৯-১৬ পর্যন্ত দক্ষতার সাথে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে তিনি নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও পরিশ্রম দিয়ে দলের হাল ধরেছেন। তিনি আমৃত্যু দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন কর্মী হিসেবে দেশের জন্য সততার সাথে কাজ করে গেছেন। কখনো নিজেকে নেতা হিসেবে ভাবতেন না, নিজেকে জনগণের প্রতিনিধি মনে করতেন। মিডিয়ার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার চেয়ে, মিডিয়ার পেছনে থেকে দল, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে ভালবাসতেন। তার নির্বাচনী এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ,শিক্ষা, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিন করেছেন। কিশোরগঞ্জকে আধুনিক শহরের রূপরেখা বাস্তবায়নে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন তিনি। ক্ষমতার চেয়ারে বসেও যে সাদামাটা জীবনযাপন করা যায় তিনি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মন্ত্রনালয় ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অবস্থান করা সত্ত্বেও কোন দিন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেনি তার বিরুদ্ধে। তিনি কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন না।বরং মন্ত্রিত্ব ও দলের সাধারন সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে তার নিজস্ব সম্পদের পরিমান কমেছে। যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিহাসের এক বিরল দৃষ্টান্ত। এ জন্যই তাকে ‘বিউটি অব পলিটিক্স’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক উজ্জ্বল নকত্রের নাম।বাংলাদেশের স্বচ্ছ, ত্যাগী ও উদার মনের রাজনৈতিক আদর্শের অপর নাম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সততা ও আদর্শ বুকে ধারন করে ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারী না ফেরার দেশে চলে যান রাজনীতির এই শুদ্ধ পুরুষ।

————–
আল আমিন হোসেন,
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়