ঢাকা২০শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রমজানের আলোয় আলোকিত হোক , পুরোটা বছর।

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

এপ্রিল ২৫, ২০২২ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

‘সাওম ‘ বা ‘ সিয়াম ‘ আরবি শব্দ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত রোযা মূলত ফারসি শব্দ। যার অর্থ কোন কিছু থেকে বিরত থাকা,পরিত্যাগ করা। শরিয়তের পরিভাষায় ( সাওম) এর অর্থ সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানা- পিনা ও যৌন ক্রিয়াকর্ম থেকে বিরত থাকা।

রমজান মাস প্রতিটি বছর রহমত,মাগফিরাত এবং নাজাতের বার্তা নিয়ে আগমন করে প্রতিটি মুসলমানের ঘরে। সবাই রমজান মাস এলে আলাদা সুখ- প্রশান্তি অনুভব করে। যারা (সাওম) রোজা পালন করে , তাঁরা অন্যসময় নামাজ না পড়লেও রোজা রাখলে তখন নামাজ ঠিকমত- ই পড়ে। যারা পুরো বছর টুপি মাথায় দেয় না, তাঁরাও রোজা রেখে মাথায় টুপি লাগায় ; রমজানের সম্মানে। মনে হচ্ছে, এ যেন – একটা জান্নাতি পরিবেশে সমবেত সবাই। আসলে রমজান মাস কেন আসলো? কি তাঁর দাবি? আল্লাহ কেন এত সম্মান দিলেন এ মাসকে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন: হে ইমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতগনের উপর। আশা করা যায় তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ ও বৈশিষ্ট্য জাগ্রত হবে। ( সূরা -বাকারা : ১৮৩) রোজা শুধুমাত্র আমাদের মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত নয় ; বরং এটা পূর্ববর্তী থেকে চলে আসছে।

রমজান মাসে ধনীদের মধ্য থেকে যারা রোজা রাখে, তাঁরা অনুভব করে যে, যারা অসহায়, দুস্হ, ইয়াতিম ঠিকমত তিন বেলা খাবার খেতে পারে না। তাঁরা যখন ক্ষুধার্ত থাকে কতটুকু কষ্ট পায় সেটার নমুনা রমযান মাসে যারা ধনীরা রোজা রাখে তাঁরা তখন সেটা অনুভব করে। আর এই রোজার শিক্ষা নিয়ে যারা জীবন পরিচালনা করবে, তাঁরা পেট পুরে খাবে,আর প্রতিবেশীরা উপবাস থাকবে, এটা কখনো হবে না। গরীবদের খাদ্য – প্রদান সহ সকল ক্ষেত্রে তাঁদের সহযোগিতা করাটাই হল মাহে রমযানের অন্যতম একটা শিক্ষা।

রোজা প্রকৃত পক্ষে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি গুলোকে নিয়ন্ত্রনের ট্রেনিং দেয়। মানুষের মধ্য তিনটি প্রবৃত্তি খুবই জোরাল। সে তিনটি পর্যায়ক্রমে হচ্ছেঃ ১) খাদ্য গ্রহন প্রবৃত্তি
২) যৌণ প্রবৃত্তি
৩) পরিশ্রমের পর বিশ্রাম প্রবৃত্তি।
এ তিনটি প্রবৃত্তি হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং কড়া প্রবৃত্তি। এদেরকে যদি দমন করা যায়, তবে অন্যান্য প্রবৃত্তি গুলো সহযে দমন হয়ে যায়। আর এ প্রবৃত্তি গুলো দমন করা যায়, রোজার মাধ্যমে।

দিনের বেলা খাদ্য গ্রহন ও যৌণ প্রবৃত্তি কে নিয়ন্ত্রন করা হয়। আবার রাতে এ দু’ টাকে ছেড়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, বিশ্রাম প্রবৃত্তিকে। কারণ রাতে তারাবি নামাজ, পড়া যা অন্য সময় নেই, এবং রাতে উঠে আবার সাহরি খাওয়া যেটা অন্য কোন সময় নেই। আর এসবই হচ্ছে বিশ্রামকে নিয়ন্ত্রণ করা। এ নিয়ন্ত্রনের পিছনে মাত্র একটাই শক্তি কার্যকর থাকে তা হচ্ছে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসগত ভয়।

রমজান মাসে কুরআন নাযিল হয়। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন: – রমযান মাস, ইহাতেই কুরআন মাজিদ নাজিল হয়েছে, তা গোটা মানব জাতির জন্য জীবন- যাপনের বিধান এবং তা এমন সুস্পষ্ট উপদেশাবলিতে পরিপূর্ণ যা সঠিক ও সত্য পথ প্রদর্শন করে এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য পরিষ্কার রুপে তুলে ধরে। ( সূরা বাকারা -১৮৫)।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) (আঃ) ঘোষণা করেছেন, যে লোক রমযান মাসের রোযা রাখবে ঈমান ও চেতনা সহকারে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (বুখারি- মুসলিম)। যদি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দেখানো পথে যদি আমরা চলি, তবে আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সহয, সরল পথে পরিচালিত করবে।

রমজান শেষ হয়ে গেলে আমাদের মসজিদ গুলো আবার শূন্যের ন্যায় খালি হয়ে যায়। মানুষের আচার – আচরণ সবগুলো অস্বাভাবিক হতে থাকে। সুদ,ঘুষ সহ নানা অশালীন কর্মকান্ড পুনরায় চালু হয়ে যায়। এ ধরনের কার্যক্রম যদি রমজানের রোজা আমাদের বিরত না রাখতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে, আমাদের রোজা পরিপূর্ণ আদায় হয় নাই।

শুধুমাত্র নামাজ, দান,সদকা, নফল ইবাদাত, ভাল কাজ, সৎ কাজে আদেশ,অসৎ কাজে নিষেধ এগুলো রমজান মাসে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরোটা বছর যদি এ কাজ গুলো চালু রাখি, তাহলে আমরা রমজান মাসের আলোকে জীবন গড়তে সক্ষম হব। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের হক পরিপূর্ণ ভাবে আদায় করার তাওফিক দিন। আমিন।

মো. আব্দুল করিম গাজী
শিক্ষার্থী : ফেনী সরকারি কলেজ,
ইংরেজী বিভাগ।

সম্পর্কিত পোস্ট