যুগান্তর স্বজন সমাবেশের পক্ষ থেকে ট্যাকেরঘাটে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বিজয় দিবসের উপহার প্রদান

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ :
একাওরের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ট্যাকেরঘাট সাব সেক্টরের শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের পক্ষ হতে মিষ্টিসহ উপহার তুলে দেয়া হয়।,
৫নং সেক্টরের সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট সাব সেক্টরের প্রথম শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের পরিবারের হাতে এ উপহার তুলে দেয়া হয়।,
রবিবার সকালে উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের শিকরাম (শিবরামপুর) গ্রামে শহীদ পরিবারের সাথে কুশলাদী বিনিময় শেষে বিজয় দিবনের উপাহার তুলে দেন
থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শহীদ সিরাজ স্মৃতি সংসদ সভাপতি হাজি মো. রৌজ আলী।,
শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের সহোদর ভাই ফুলে রহমান (৯০), অপর সহোদর ভাই আফতাব উদ্দিন (৭৩) ও একমাত্র বিধবা বোন মনরুপ বেগম ( ৬৫) যুগান্তর স্বজন সমাবেশ তাহিরপুরের স্বজনদের পক্ষ হতে বিজয় দিবসের উপহার হিসাবে নতুন শাড়ি, লুঙ্গি ও মিষ্টি গ্রহন করেন।,
এ সময় ইউনিয়ন ডেপুটি কমান্ডার মো. আবু তাহের, শিকরামপুর গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল হান্নান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান দৈনিক যুগান্তরের ষ্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদ, তাহিরপুর প্রেসক্লাব সভাপতি রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ, সিলেট বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থী শিহাব সরোয়ার শিপু, সিলেট ক্যান্টম্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থী তাসনিন সরোয়ার আনিকা, সাংবাদিক রাহাদ হাসান মুন্না,স্বজন বাবুল আহমেদ তালুকদার, রাসেল আহমদ রতন প্রমুখ সহ এলাকার গগণমাণ্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
স্বজন সমাবেশের পক্ষ হতে বিজয় দিবসের উপহার পেয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যরা দৈনিক যুগান্তর পরিবার ও স্বজন সমাবেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।,
তাহিরপুর থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শহীদ সিরাজ স্মৃতি সংসদ সভাপতি হাজি মো. রৌজ আলী বলেন, উপজেলার শিকরামপুর গ্রামের প্রয়াত গাবরু মিয়া ও মফিল নেছা দম্প্রতির টসবগে যুবক সন্তান অবিবাহিত অবস্থায় মাত্র ২০ বছর বয়সে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে নিজের বীরত্বপুর্ণ অবদান রাখেন।,
তিনি আরো বলেন, একাওরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামালগঞ্জের লক্ষীপুরের তালিকাভুক্ত কুখ্যাত রাজাকার পাকবাহিনীর দালাল আবুল মনসুর আহমদ ওরফে লাল মিয়ার গ্রামের বাড়িতে সফল অপারেশন শেষে ট্যাকেরঘাট সাব সেক্টরে গস্থি (দেশীয় তৈরী) নৌকায় করে ফেরার পথে হালির হাওরে কুখ্যাত রাজাকার লাল মিয়ার সহযোগীতায় পাকসেনাবাহিনীর হামলায় হতাহত হয়ে তাদের হাতে বন্দি হন আবুল কালাম সহ তার সাথে থাকা আরো কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।,
পরে লাল মিয়া তার হেফাজতে রেখে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দিনের পর দিন অমানুষিক কায়দায় শারিরীক নির্যাতন করতে থাকে।,
আবুল কালামসহ বন্দি থাকা অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের শরীরে গরম পানি ঢেলে ঢেলে ঝলসে দিয়ে লবন ছিটিয়ে তাদের আর্তনাদ শুনে উল্লাস করে হত্যাকান্ড নিশ্চিত করে ট্যাকেরঘাট সাব সেক্টরের প্রথম শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম সহ অন্যান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের লাশ গুম করে রাজাকার লাল মিয়া তার সহযোগীরা।,
থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শহীদ সিরাজ স্মৃতি সংসদ সভাপতি হাজি মো. রৌজ আলী আরো বলেন, শহীদ জননী মফিল নেছা জীবত থাকা অবস্থায় সরকারি ভাতাদি সুবিধা পেতেন, উনার মৃত্যুর পর গত প্রায় ২০ বছর ধরে নানা জঠিলতায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা ভাতাদী সুবিধা বঞ্চিত হয়ে আসছেন।,
কিন্তু শহীদ জননীর মৃত্যুর প্রায় ২০ বছর পর শহীদ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মানে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে বিজয় দিবসের মিষ্টিসহ নতুন পোশাক উপহার প্রদান করায় যুগান্তর স্বজন সমাবেশের এমন ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে যুগান্তর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিজয় শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।