যশোর বিজয়স্তম্ভে রাখা কামানের ইতিহাস……

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০২০

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর :

শায়েস্তা খাঁর পরে বাদশা আওরঙ্গজেব নূর উল্যাহ নামক এক আত্মীয়কে ইব্রাহিম খানের সুবেদারী আমলে যশোর, বর্ধমান ও হুগলির ফৌজদার পদে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি ফৌজদারের শাসন এলাকা বৃদ্ধি করেন। সাতক্ষীরার ধুমঘাটের নিকটবর্তী সুন্দরবনের ধারে শ্যামনগর থানায় নূরনগর পরগনা সৃষ্টি করে সেখানে তিনি বসবাস করতেন। নিজের সুবিধার জন্য সহকারীর সাহায্যে রাজস্ব আদায় ও শাসনকার্য পরিচালনা করতেন। লবনাক্ত আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যহানী ঘটলে যশোরের কেশবপুরের মির্জানগরের নিকট ত্রিমোহনীতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তার আবাসস্থল ছিল মির্জানগরের প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণে। এখন কিল্লাবাড়ী নামে পরিচিত। এটা ছিল একটা বিস্তীর্ণ দুর্গ। দীর্ঘ দূর্গের চারদিকে পরীখা খনন করা ছিল এবং এই পরীখার মাটি দিয়ে দুর্গটির পার্শ্ববর্তী স্থান ৮/১০ ফুট উঁচু করা ছিল। এর নাম হয় মতিঝিল। মতিঝিলে রাজ হাঁস চরে বেড়াত। এই কারণে এর আর এক নাম বতক খানা। দূর্গের চারিদিকে ছিল প্রাচীর বেষ্টিত। পূর্ব দিকে সদর তোরণ ছিল। এখানে বহুকাল যাবত ৩টি কামান পড়ে ছিল। ১৮৫৪ সালে যশোরের ম্যাজিষ্ট্রেট মিঃ বেকার্ট দুটি কামান কয়েদীদের বেড়ী তৈরি করার জন্য যশোরে নিয়ে আসে। তার মধ্যে একটি রাস্তার মেরামতের কাজে রুলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাজ শেষে একজনের কাছে ৩ টাকা মূল্যে বিক্রি করে দেয়া হয়। পরে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। যে কামানটি মির্জানগরে অবহেলায় পড়ে ছিল সেটি যশোর শহরের পূর্ব দিকে (বর্তমান মনিহার সিনেমা হলের সামনে বিজয় স্তম্ভ) খুলনার দিকে যে সড়কটি গেছে তারই মোড়ে স্থাপন করা হয়। এই কামানটির দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং নলের ভিতরের ব্যাস ৫ ইঞ্চি মাত্র। যশোহর খুলনার ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা সতীশচন্দ্র মিত্র ১৯১৪ সালের আগে মীর্জানগরে আসেন। তখন তিনি একটি কামান দেখতে পান। সেই কামানের উপর বসে তিনি ছবি তোলেন।