যশোরে উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা আদায় হলেও চরম বঞ্চনার শিকার বাস টার্মিনাল

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

নিলয় ধর,স্টাফ রিপোর্টার(যশোর):

যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের উন্নয়নের জন্যে পৌরসভা মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করলেও টার্মিনালটি চরম অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। মাঝে মাঝে আমা ইট ও ঘ্যাস ফেলা ছাড়া তেমন কোন কাজ করেনি পৌরসভার।

ফলে, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের এই টার্মিনালে নানামুখি বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। যশোর শহরের শংকরপুরে বিরাট এলাকা জুড়ে টার্মিনালটি অবস্থিত। যেটি ছিল পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি। পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত বৃহত্তর এই টার্মিনালটি নির্মাণের দেড় যুগ পরও বড় ধরনের কোন উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ করা হয়নি বলে জানান। প্রবেশ ও বাইরে রাস্তাসহ পুরো এলাকায় বছর জুড়ে থাকে কাঁদা পানি। যার কারণে বিভিন্ন রুটের গাড়ি সেখানে অবস্থান ও অতিকষ্টে চলাচল করে আসছে। পোহাতে হয় অবর্ণনীয় ভোগান্তি। রাস্তাগুলোর অবস্থা এতটাই বেহাল যে হেঁটে চলার অবস্থাও নেই। পানি অপসারণের জন্যে ড্রেন থাকলেও ময়লা আবর্জনায় তা অবর্ণনীয় হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ড্রেনে কোন ঢাকনা নেই। সেগুলো আলগা অবস্থায় রয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, মাঝে মধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে টার্মিনালের প্রবেশ ও বাহিরের রাস্তায় বিভিন্ন ভাটা থেকে আমা ইট বা ঘ্যাস এনে ফেলেন। যা তেমন কোন কাজে আসছে না। বরং গাড়ী চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করছে। এর ওপর দিয়ে চলাচলের কারণে গাড়ীর যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে। সংস্কার ও রং না করার কারণে টার্মিনালের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। টয়লেটগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। সেগুলো এতটাই স্বাস্থ্যকর যে আশপাশ দিয়ে দুর্গন্ধে চলাচলা করা যায় না। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, এখানে রাতে প্রায় ৫০০ বাস থাকে। তার নিরাপত্তার স্বার্থে পৌরসভার পক্ষে থেকে নেই কোন নৈশপ্রহরী। রাতে থাকে না কোন পুলিশ টহলের ব্যবস্থা। রাতে ১০ জন প্রহরী থাকে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায়। তাদের বেতন দিতে হয় গাড়ির মালিক-শ্রমিক এবং টার্মিনালে থাকা দোকানদারদের। রাতে প্রবেশ মুখের বাতি জ্বললেও ভেতরের বাতি জ্বলে না। যে কারণে টার্মিনালের বিরাট একটি অংশ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। নিজেদের টাকায় নৈশপ্রহরী রাখা সত্বেও অন্ধকারের কারণে গাড়ি ও দোকানের কোন নিরাপত্তা থাকে না।

এই দিকে, যশোরের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস ও দূরপাল্লার পরিবহনের কাছ থেকে দৈনন্দিন টাকা নেওয়া হয়। স্থানীয় রুটে চলাচলকারী বাস থেকে ৩০ টাকা এবং দূরপাল্লার পরিবহন থেকে নেওয়া হয় ৫০ টাকা করে। পৌরসভার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, গত বছরে এই খাতে জমা হয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। চলতি বছরে জমা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। তারপরও চোখে পড়ার মত কোন উন্নয়ন ও সংস্কার হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক নেতা জানায়, এই খাত থেকে পৌর কোষাগারে মাসে অর্ধলাখেরও বেশি টাকা জমা হয়েছে। এক সময়ে স্থানীয় এবং দূরপাল্লার বাস থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান মেয়র তা বাড়িয়ে ৩০ ও ৫০ টাকা করেছে। এই বিষয়ে কথা বললে পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেছেন, এটি অনেক জরাজীর্ণ হয়ে আছে। অচিরেই সংস্কার করাও সমস্যা, সমাধানের জন্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।