যশোরের মণিরামপুরে স্বামীর পরকীয়ায় প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে হত্যা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর :

যশোরের মণিরামপুরে স্বামীর পরকীয়ায় প্রতিবাদ করায় ও যৌতুক বাবদ মাইক্রেবাস গাড়ি কিনে না দেয়ায় শারমিন খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার প্রচার চালাতে গলায় রশি দিয়ে ঘরের আড়ায় ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। তবে, শশুর পরিবারের দাবী বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শারমিন আত্মহত্যা করেছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল রাত ৮টার দিকে গৃহবধূ শারমিনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
জানাযায়, প্রায় ৫বছর আগে মনিরামপুর উপজেলার পদ্মনাথপুর গ্রামের আব্দুস সালামের কন্যা শারমিনের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের আলী আকবরের পুত্র মাইক্রোবাস চালক রাজু আহম্মেদের সাথে। বিয়ের তিন বছর পর তাদের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। দুগ্ধপোষ্য শিশুকন্যা ইলমা খাতুনের বয়স এখন এক বছর পার হয়েছে।

নিহত শারমিনের পিতা আব্দুস সালাম মেয়েকে হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এ অবস্থায় কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, তার জামাই রাজু আহম্মেদ অনেক আগে থেকে যৌতুক বাবদ একটি মাইক্রেবাস গাড়ি দাবী করে আসছিল। কিন্তু মেয়ের সুখের জন্য অনেক চেষ্টা করেও এখনও পর্যন্ত জামাই রাজুর দাবী তিনি পূরণ করতে পারেননি। তার অভিযোগ আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেনা। তাকে তার শশুর পরিবারের লোকজন হত্যার পর আত্মহত্যার প্রচার চালাতে ঘরের আড়ায় লাশ ঝুঁলিয়ে রেখেছে। কন্যা হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

এদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, পাশের গ্রামের এক নারীর সাথে রাজু আহম্মেদের দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া চলে আসছে । এতে কয়েকবার স্ত্রী শারমিন প্রতিবাদ জানায়। স্বামীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে শারমিনকে ইতিপূর্বে কয়েক দফা মারপিট করা হয়েছে। গৃহবধূ শারমিন নিহতের ঘটনায় জানতে চাইলে শশুর আলী আকবর দাবী করেন, তাকে কেউ হত্যা করেনি। বাড়িতে কেউ না থানার সুযোগে গলায় রশি দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। কি কারণে শারমিন আত্মহত্যা করেছেন অপর এক প্রশ্নের জবাবে শশুর আলী আকবর বলেন, কেন সে আত্মহত্যা করল তা আমরা কেউ বলতে পারিনা। মণিরামপুর থানার এসআই শাহাবুল ইসলাম জানান, গৃহবধূ শারমিনের লাশ গতকাল রাতে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে লাশের সুরতহাল অনুযায়ী তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর পরিষ্কার করে জানা যাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি সে আত্মহত্যা করেছে।