ঢাকারবিবার , ১৬ জুনe ২০২৪
  1. সর্বশেষ

আদর্শ সমাজ গঠনে সত্যের চর্চা

প্রতিবেদক
নিউজ এডিটর
২৭ নভেম্বর ২০১৯, ২:২১ পূর্বাহ্ণ

Link Copied!

——————-
সত্য মানুষকে প্রকৃত সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে এবং চরিত্রকে করে পবিত্র।এই পবিত্রতার স্পর্শেই হৃদয়ে সত্যের জয়গান শুরু হয়।কোনো ভাবেই মিথ্যার কাছে এই সত্য পরাজিত হয় না।সত্যের ওজন অনেক ভারী যার সমতুল্য দ্বিতীয় কিছু আর নেই।একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন সত্যের চর্চা। এই চর্চা ব্যক্তি,পরিবার, সমাজ তথা পুরো রাষ্ট্রকে করে শ্রদ্ধাশীল। একজন ব্যক্তিকে অন্য একজন ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কথা বলতে হবে।যদি সমাজে বসবাসরত প্রত্যকেটি মানুষ সত্যকে গ্রহণ করে,তাহলে সেই সমাজে সর্বদাই শান্তি বিরাজ করবে।সত্য ছাড়া কোনো শান্তি নেই।কেননা সত্যই হলো শান্তির ধারক।অপরদিকে মিথ্যা হলো ধ্বংসের পথ।তাই মিথ্যাকে বর্জন করতে হবে।মিথ্যা হলো সত্যের বিপরীত। যখন কোনো ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্র মিথ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন সেখানে উন্নয়নের আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।কেননা, সেখানে দুর্নীতির দ্বারা মিথ্যার পরিচয় সৃষ্টি করা হয়।আর এই মিথ্যা পরিচয় ধীরে ধীরে আমাদের মনুষ্যত্বকে গ্রাস করে নির্জীব প্রাণীতে পরিণত করে।যার ফলে অনেকেই সমাজে অমানবিক জীবন-যাপন করে।মূলত এই অবস্থার পিছনে একমাত্র মিথ্যাই দায়ী। সবক্ষেত্রেই মিথ্যা কে বর্জন করে সত্যের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

একজন সত্যবাদী মানুষ সর্বদাই সত্যের পথে অটল থাকেন।মিথ্যার অগ্নি-ধোয়া তাঁকে গ্রাস করে না।সত্যের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে মহাবিশ্ব। আর সেই আলোতে আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে দেখতে পাই।হৃদয়ে জাগে শিহরন। আহা! কি চমৎকার!কিন্তু মিথ্যা ও অপশক্তিতে যারা আসক্ত তাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়।ওদের ভিতরে আত্মা নেই,আছে হিংস্রতার বসবাস। কিন্তু কেন এই হিংস্রতার বসবাস?এর পিছনে দায়ী কি বা কারা?এর পিছনে দায়ী কিছু মানুষরুপী শয়তান।এরা সহজ-সরল মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্বীয় মন্দ স্বার্থ হাসিলে তৎপর হয়। জন্মের সময় তো কেউ আর খারাপ মানুষ রুপে জন্মায় না।প্রতিটি মানুষ নিষ্পাপ হয়ে জন্ম গ্রহণ করে।তারপর মহান সৃষ্টিকর্তার সকল নিয়ামত ভোগ করে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।একসময় ভালো-মন্দ বিষয়গুলো বুঝতে পারে।হৃদয়ে সত্যকে ধারণ করে।প্রতিনিয়ত সত্যের পথে চলতে চেষ্টা করে।কিন্তু দিন শেষে অনেকেই হেরে যায় মিথ্যার কাছে।আবার কেউ কেউ সকল বাধা অতিক্রম করে জয়ী হয়।

পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন বিষয় মানুষের জীবনের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত।পরিবার থেকে পাওয়া সুশিক্ষা ব্যক্তি জীবনে প্রয়োগ করতে পারলেই নিজেকে একজন প্রকৃত আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আর সামাজিক শিক্ষা ব্যতীত কোনো ব্যক্তির মূল্যবোধের সঠিক বিকাশ সাধন সম্ভব নয়।সামাজিক শিক্ষা হলো ব্যক্তিত্ব গঠনের শিক্ষা। কারণ,সমাজ থেকেই সুনাগরিক হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্তির মনোবলকে একটি সুদৃঢ় শপথে উন্নিত করে।সমাজে বসবাসরত মানুষের ভালো-মন্দ, আচার-ব্যবহার,বিধিনিষেধ থেকে সহজেই সামাজিক শিক্ষা অর্জন করা যায়।সুন্দর সমাজ গঠনে সামাজিক শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
আর কেউ যদি সামাজিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে সে নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে না। সমাজ জীবনে বিভিন্ন রকম বাধা আসবে।তখন সেগুলো অতিক্রম করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।আমাদের দেশে রাজনীতি খুবই জটিল। নোংরা রাজনীতিতে ভোরে গেছে দেশ।সত্যের পথে কেউ রাজনীতি করতে চায় না।স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ভুলে গিয়ে সবাই অশুভ শক্তি,মিথ্যা,ভন্ডামিতে নিজেদেরকে করেছে আসক্ত। যার ফলে সমাজ তথা রাষ্ট্রের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন সম্ভব হয় নি।

আমাদের সমাজে কিছু নিজ স্বার্থবাদী লোক আছে।এরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। দেশের মানুষের কথা মনের ভুলেও চিন্তা করে না।কারণ, এদের রক্তে মিশে গেছে লোভ-লালসা।এরা দূর্নীতির করে গতিশীল সমাজব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেয়।যার ফলে সাধারণ জনগণের অনেক আশা- আকাঙ্খা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।একটি সুন্দর সমাজ গঠনের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় শুধুমাত্র কতিপয় মিথ্যার চাদরে ঢাকা মানুষরূপী মনুষ্যত্বহীন ব্যক্তির দ্বারা।এদের হৃদয়ে সত্যের আলো পড়ে নি।মিথ্যা নামক অন্ধকারে থাকতে থাকতে প্রকৃত সত্যকে বুঝতে পারে না।সত্যকেও তারা মিথ্যার সাথে মিশ্রণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে।।আমরা অনেকই এসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সফল মনে করি।সত্যিকার অর্থে তারা কখনোই সফল হয় না।তারা হেরে যায় স্বয়ং নিজেদের বিবেকের কাছেই। কিন্তু প্রকাশ করার কোনো পথ থাকে না।কারণ, তাহলে সত্যকে প্রকাশ্যে হৃদয়ে স্থান দিতে হবে।আর যখন সত্যকে হৃদয়ে স্থান দিবে তখন স্বীয় স্বার্থের জন্য নিজেকে সপে দিতে পারবে না।তারা মনে করে মিথ্যাই হলো সত্য। কারণ, মিথ্যার সাথে থেকে থেকে সত্যকেও মিথ্যা মনে করে।এদের দ্বারা সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।তারা প্রাণহীন মানবে পরিণত হয়।সমাজের কোনো উন্নতি এদের দ্বারা সম্ভব না।এরা উন্নয়নের কথা বলে সবকিছু লুটেপুটে খায়।আর এই খাওয়ার মাঝেও নাকি তৃপ্তি পায়!ছি! এরা সমাজ সেবক,রাষ্ট্র প্রতিনিধি হয়ে দেশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করতে পারবে না।দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সত্য পথের মানুষ।সত্যের পথ সর্বদাই আলোয় পরিপূর্ণ থাকে।যার ফলে সত্যবাদী ব্যক্তি কখনো মিথ্যার অন্ধকারে নিজেকে সমর্পণ করে না।সৎ,ন্যায়-পরায়ণ ও সত্যবাদী মানুষ সমাজপতি হলে সমাজের অনেক উন্নয়ন হয়।একটি আদর্শ সমাজ গঠনে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।কিন্তু মন্দ লোকেরা নিজের স্বার্থ ছাড়া কখনোই করে না। এজন্যই আমরা আদর্শ সমাজব্যবস্থা গঠন করতে পারছি না।

আদর্শ সমাজ গঠনে সত্যের চর্চা প্রতিটি ক্ষেত্রেই করতে হবে।সত্যের চর্চা ব্যতীত সমাজের উন্নয়ন হয় না। মানুষ সামাজিক জীব।সবাই মিলেমিশে সমাজের উন্নয়ন করতে হবে।একক ভাবে কেউ একটি সমাজকে মানুষের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে না।সকলের সিদ্ধান্ত, মতামতের উপর ভিত্তি করে সকল কল্যাণকর কার্য সম্পাদন করতে হবে।সমাজে বসবাসরত ধনী -গরীব লোকের মধ্য বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করতে হবে।একে অপরের বিপদে সাহায্য করতে হবে।তাহলেই আমাদের সমাজব্যবস্থা সুন্দর হবে।কেননা, সত্য চেতনার কারণেই ইতিবাচক বিষয়ের সফলতা সম্ভব হয়।মনে রাখতে হবে যে, সত্যই সুন্দর। সত্য মানুষের হৃদয়ে শান্তির সুবাস ছড়িয়ে দেয় এবং ব্যক্তিত্বকে করে সৃষ্টিশীল।আমাদের সবাইকে সত্যবাদী হতে হবে।একজন সত্যবাদী মানুষ সবকিছু সৎ ভাবেই করে।কোনো অপশক্তির কাছে সে মাথা নত করে না।সমাজ তথা রাষ্ট্রকে একটি সম্মানজনক পরিচয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।আর এই চেষ্টা করাটাই হলো ব্যক্তিত্ব গঠনের মূলমন্ত্র।আমাদের সবসময় সত্যের পথে থাকতে হবে এবং সত্যের জন্য লড়তে হবে।মনে রাখতে হবে যে, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে সত্যের চর্চার বিকল্প কোনো পথ নেই। । সত্যের চর্চা সমাজের প্রতিটি স্তরেই প্রয়োজন। সত্যের আলো ছাড়া কখনোই আদর্শ সমাজ গঠন করা যায় না।সুতরাং প্রত্যেকের হৃদয় সত্যের স্থান দিতে হবে।

নাম: জুয়েল নাইস
শিক্ষার্থী : ঢাকা কলেজ,ঢাকা
বিভাগ : ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

131 Views

আরও পড়ুন