ঢাকা১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ ১০:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডিজিটাল বিষয়টা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে ছিল না। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাংলাদেশের সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তথ্যমন্ত্রীর চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুর পাড় বাসভবনে সমসাময়িক বিষয়ে ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে যখন একজন সাংবাদিকের চরিত্র হনন করা হয়, একজন গৃহিণীকে যখন অপবাদ দেওয়া হয়, একজন সাধারণ মানুষ যখন ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হন, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন? তখন কোন আইনের বলে সে নিরাপত্তা পাবে? সেজন্য একটা আইনের দরকার। এই জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, মুশতাক আহমেদের মৃত্যু সত্যিই অনভিপ্রেত। আমিও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না সেটা খুঁজে দেখা যেতে পারে। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেটির জন্য আমরা সচেতন আছি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশেষত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যাতে এই আইনের অপব্যবহার না হয়, সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয় ও আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় সচেতন আছি। কোথাও এধরনের ঘটনা ঘটলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবর দেওয়া উচিৎ- ডা. জাফরুল্লাহর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ তো নানা কথা বলেন। যেমন, করোনার টিকার বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার ছিলেন। আবার নিজে করোনার টিকা নিয়ে বলেছেন এই টিকা সবার নেওয়া উচিৎ। সুতরাং আজকে জাফরুল্লাহ সাহেব যে কথা বলেছেন দুদিন পর দেখবেন তিনি আবার অন্য সুরে কথা বলবেন। সুতরাং এটার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে- দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দিনে বেগম খালেদা জিয়া, যিনি দিনের ১২টার আগে ঘুম থেকে উঠেন না, তিনি কেন প্রত্যুষে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে চলে গিয়েছিলেন? তিনি কেন এদিন তারেক রহমানের সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ বার কথা বললেন? এই রহস্যগুলো বের হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাহলেই মুখোশ উন্মোচিত হবে কারা এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল।

তিনি বলেন, তখন আওয়ামী লীগ সদ্য সরকার গঠন করেছিল। আমাদের সরকারের তখনো দুই মাস পূর্তি হয়নি। প্রায় দেড় মাসের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করা। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। শুধু দেশের ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের নিরিখেও এতগুলো আসামির বিচার কম হয়েছে। আমাদের দেশের ইতিহাসে এত আসামির বিচার আর হয়নি। বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও এতগুলো আসামির বিচার কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মামলার বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে মামলা যে কেউ করতে পারে। মামলা করার অধিকার সবারই আছে। তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে বিএনপিকে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডা. শাহাদাতকে আমি অনুরোধ জানাব তার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশ্ন রাখার জন্য, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুস্থ সবল থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ চট্টগ্রামে আসলেন না কেন। এমনকি চট্টগ্রামে যেসব কেন্দ্রীয় নেতা আছেন তারাও কিন্তু নির্বাচনের সময় তার পক্ষে নামেননি। আমির খসরু মাহমুদকে দুয়েকদবার দেখা গেলেও তা প্রেস কনফারেন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তার দলের স্থানীয় নেতারাও প্রথমে কিছুটা সরব থাকলেও পরবর্তীতে তারা ঘরে চলে যান। এজন্য ডা. শাহাদাতকে বলব এই প্রশ্নগুলো তার দলের নেতাদের কাছে করে তাদের বিরুদ্ধেও যাতে একটা মামলা করেন।

সম্পর্কিত পোস্ট