মানবতার সেবায় রাঙ্গুনিয়া ব্লাড ব্যাংক ।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ২:১৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

জাহেদুর রহমান সোহাগ,স্টাফ রিপোর্টার;

চট্টগ্রাম ষাটোর্ধ্ব ইউসুফ চৌধুরী হঠাৎ কিডনি জনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি করে দ্রুত ডায়ালোসিস করতে হবে।প্রয়োজন হবে বি পজিটিভ রক্ত। রোগীর স্বজনরা স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে যোগাযোগ করেন। “রাঙ্গুনিয়া ব্লাড ব্যাংক ” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে সময়, স্থান, রক্তের গ্রুপ, পরিমাণ ও মুঠোফোন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস দেন গ্রুপের এক কর্মী। সঙ্গে সঙ্গে সাড়া মেলে। জোগাড় হয়ে যায় রক্ত। ইউসুফ চৌধুরীর মতো গত আগষ্ট মাসে ১৯০ জন রোগীর জন্য রক্তদাতা খুঁজে দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রাঙ্গুনিয়া ব্লাড ব্যাংকের কর্মীরা। এর মধ্যে সংগঠনের এডমিন ও সদস্যরা নিজেরা এই মাসে ২৫ জনকে রক্ত দেন। এই কাজে তাঁরা কারো কাছ থেকে কোনো টাকা গ্রহন করেন না।বাবা ইউসুফ চৌধুরীর জন্য রক্ত জোগাড় করতে পেরে খুশি ছেলে আমির হামজা।

জানতে চাইলে তিনি বলেন,“ করোনা পরিস্থিতির কারনে হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দিতে রাজি হচ্ছেন না কেউ। পরে রাঙ্গুনিয়া ব্লাড ব্যাংক’র কর্মীরা এগিয়ে এসে রক্তদাতা খুঁজে দেন।”করোনা পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে কেউ স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে রাজি হতে চায়না জানিয়ে সংগঠনের এডমিন (প্রশাসক) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, “ করোনার সময় রক্তদাতাদের বুঝিয়ে তাঁদের সুরক্ষিত করে রক্ত দিতে নিয়ে যেতে হয়। করোনার আগে এই সমস্যাটা ছিলনা। কয়েক বছর ধরে ব্ল্যাড ব্যাংক স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তদাতা খুঁজে দেয়ার কাজটি করছেন। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয় দেশের বিভিন্ন এলাকায় জরুরী রোগীকে রক্ত দিতে আগষ্ট মাসে ১৯০ জন রক্তদাতা খুঁজে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংগঠনের কো-এ্যাডমিন সরর্ণা চক্রবত্তী একাই ১০৫ জন রক্তদাতা খুঁজে দেন। এসব রক্তদাতারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দেন। এর জন্য তাঁরা কোনো টাকা নেয়না । রক্ত দিতে যাতায়াত খরচও নিজেরা বহন করেন। ”

জানতে চাইলে সংগঠনের কো- এ্যাডমিন সরণা চক্রবত্তী বলেন, “মানবিক কাজ করতে পেরে নিজের ভাল লাগে। করোনার সময় রক্তদাতা খুঁজে বের করা একটু কষ্টকর ছিল । ফেসবুকভিত্তিক এই গ্রুপে রয়েছে ১৭ হাজার সদস্য। রাঙ্গুনিয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই রক্তের সন্ধান চান এই গ্রুপের মাধ্যমে। রক্তের সন্ধান দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে দুস্থদের শীতবস্ত্র, ঈদের পোশাক, শিক্ষাসামগ্রী ও ক্যানসার রোগীদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। সংগঠনের ১৯৮ জন তরুণ সদস্য নিয়মিত রক্ত দেন। এলাকার কোথাও কোনো অসুস্থ রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলে ছুটে যান সংগঠনের সদস্যরা।রক্ত দিয়ে কারও জীবন বাঁচাতে পারলে আমাদের চেষ্টা সার্থক বলে মনে হয়।
শুধু রক্তদান নয়, সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন সামাজিক কাজেও অংশগ্রহণ করেন।’সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রক্ত দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালের ১২নভেম্বর তাঁদের যাত্রা শুরু করে রাঙ্গুনিয়া ব্লাড ব্যাংক। ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের মাধ্যমে মূলত কর্মকান্ড চালায় সংগঠনটি । সারা দেশেই এখন তাঁদের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এই নেটওয়ার্কে যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়মিত রক্তদান করে যাচ্ছেন সদস্যরা।