মাদকমুক্ত হোক বিশ্ববিদ‌্যালয় ক‌্যাম্পাস

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৯

আল আমিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ :

বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা।এখানে জ্ঞান সৃষ্টি করা হয় এবং একই সাথে জ্ঞান বিতরন করা হয়।একজন শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত করার উপযুক্ত স্থান হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সংস্কৃতি, গবেষনা, মূল্যবোধ ও মুক্তচিন্তা চর্চার প্রাণকেন্দ্র।বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই একজন শিক্ষার্থী দেশের অর্থনীতি,রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় প্রসার লাভ করে।কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিত্র যেন একটু ভিন্ন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞান চর্চার পরিবর্তে মাদক গ্রহনের চর্চায় মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো যেন মাদকের কারখানা। উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে এসে অবশেষে মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হয় শিক্ষার্থীরা । পরিবার ও নিজের স্বপ্নগুলোকে চাপা দিয়ে হাতে তুলে নেয় মাদকের মতো মরণ নেশা। পরিবার থেকে পাঠানো টাকা দিয়ে তারা মাদকদ্রব্য গ্রহন করে।ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি তারা এতোটাই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে যে, মাদকের টাকা যোগার করতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।অনেকে মাদকের টাকা যোগার করতে ক্যাম্পাসে চুরি,ছিনতায়,রাহাজানির মতো ঘৃন্য পথ অবলম্বন করে। নারী নির্যাতন ও শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করে থাকে।যে বয়সে একজন শিক্ষার্থীকে গবেষনা, সংস্কৃতি চর্চা ও দেশ নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনার করার কথা, সেই সময়টাতেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকের মতো মরণ নেশায় বিভোর। এভাবে যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মাদক গ্রহনের কারখানা হিসেবে পরিগনিত হয় তাহলে আমাদের জাতি একদিন মেধাশূন্য হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে মেধাবীদের সম্পৃক্ত করতে না পারলে দেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উন্নত জাতি গঠনের কারখানায় মাদক গ্রহন একটি জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে উপযুক্ত আইন প্রনয়ণ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।সম্প্রতি আমরা দেখতে পাই, সরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট করার একটি প্রস্তাপ উপস্থাপন করেছে। যেন মাদকাসক্ত কোন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারে। এটা একটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর মাদক গ্রহনের প্রতি আকৃষ্ট হয় বেশি। কারন এখানে তারা অবাধ ব্যক্তি স্বাধীনতার সুযোগ পায়। পরিবার থেকে দূরে থাকার কারনে এই অবাধ স্বাধীনতাটাকে অপব্যবহার করে। ফলে মাদকের মতো মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে যায়। পরিবারের সাথে থাকাকালীন সময়ে এই সুযোগটা তারা কম পায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে শুধু ভর্তির আগেই নয়, ভর্তির পরও নিয়মিত ডোপ টেস্ট করতে হবে। ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।