মাতারবাড়ি কোহেলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, হুমকির মুখে রাজঘাট

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

মাতারবাড়ি প্রতিনিধি :

মাতারবাড়ী রাজঘাট ব্রিজ সংলগ্ন কোহেলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ৫ শতাধিক পরিবার বিলীন হওয়ার পথে।
ড্রেজার দিয়ে লোকালয়ের কাছাকাছি কোহেলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে বেড়িবাঁধ ভেঙে বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে মাতারবাড়ী ইউনয়নের রাজঘাট গ্রামের বাসিন্দারা
স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালে বেড়িবাঁধের বাইরে ব্লক ও প্রশস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজঘাট রক্ষার বেড়িবাঁধ যৎসামান্য সংস্কার করা হলেও বর্তমান সময়ে কোহেলিয়া নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও নদীর স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে এবং বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি অংশে ভাঁঙন ধরায় নদীর তীরবর্তী অবস্থিত কাঁচা বসতবাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় ঝুপড়ি ঘরের ন্যায় তৈরি করে বসবাস করছে স্থানীয়দের।
মাতারবাড়ী রাজঘাট এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, বর্তমান সরকার জনগণের ক্ষতি করে উন্নয়ন করে না। আজম এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোকালয়ের কাছ থেকে কেনো বালি উত্তোলন করছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আজম এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন সড়কটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেলেও স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও সাব ঠিকাদারের ইন্ধনে লোকালয়ের নিকটবর্তী স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করছে। স্থানীয়রা মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলে, প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে কিছুদিন আগে অভিযান পরিচালনা করে ওই পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলনের যন্ত্রাংশ নষ্ট করে দেয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাবেক সহকারী কমিশনার ভূমি সুইচিং মং মারমা।

মাতারবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহর মাধ্যমে গণস্বাক্ষর দিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও উউর্ধবতন কতৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করেছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে আজম এন্টারপ্রাইজের প্রপাইটর আজম খানের মোবাইল নাম্বারে বারবার ফোন করেও মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ড্রেজারের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা জানান, স্থানীয়রা না চাইলে তারা এখান থেকে বালি উত্তোলন করবেন না। স্থনীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বেশি লাভের আশায় জনগণের ক্ষতি করে লোকালয়ের কাছাকাছি স্থান থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন না করতে ঠিকাদারের লোকজনকে বারবার নিষেধ করলেও তা কর্ণপাত করছে না ঠিকাদারের লোকজন। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে অব্যাহত এই বালি উত্তোলনে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার সর্বস্তরের জনতা। সোাস্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সর্বত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কবে বন্ধ হবে রাজঘাটে কোহেলিয়া নদী থেকে বালি উত্তোলন?

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে “রাজঘাট বাঁচাও আন্দোলন”র নামে রাজঘাটে ছাত্র-যুবক সমাজ কোহেলিয়া নদী থেকে বালি উত্তোলন বিরোধী শক্ত প্লাটফর্ম রেডি করেছে। নেতৃত্বদানকারী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বাভাবিক পন্থায় বালি উত্তোলন বন্ধ না হলে রাজঘাটের সর্বস্তরের জনতাকে সাথে নিয়ে তারা এসব বালি খেকোদের বিরুদ্ধে গনপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।। ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দ তাদের এই যৌক্তিক দাবীর সাথে ঐক্যমত্য পোষণ করতে রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। অন্যথায় সামনে ইউপি নির্বাচনে তার ফল ভোগ করতে হবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।