মাতারবাড়িতে নিজের বাড়ি ফিরে পেতে অনশনে অসহায় পরিবার; অভিযোগের তীর ইউপি চেয়ারম্যানের দিকে

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ২:৫১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

মহেশখালী প্রতিনিধিঃ
রাত থেকে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে গোলাম কাদের ও তার পরিবারের লোকজন। বসতঘর থেকে তার আপন ভাই গোলাম কুদ্দুছ ও তার ছেলেরা মারধর করে বের করে দেয়, এমন অভিযোগ এনে বাড়িতে প্রবেশ করতে অনশনে বসেছে পরিবারটি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৬অক্টোবর) রাত ১১টায় মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের মাঝের ডেইল গ্রামে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বমহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু মাতারবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি নিষ্পত্তির কথা বলে কালক্ষেপণ করে প্রতিপক্ষের লোকজনের পক্ষে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোলাম কাদের ও গোলাম কুদ্দুছের মধ্যে বাড়ির দখল নিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর মারামরির ঘটনা নিয়ে গোলাম কাদের থানায় মামলা করতে যান। জমি সংক্রান্ত বিরোধ হওয়ায় মামলা না নিয়ে মহেশখালী থানার ওসি গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মাতারবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু দীর্ঘ এক মাস ধরে ব্যস্ততার অযুহাতে চেয়ারম্যান বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেননি।

ভূক্তভোগী গোলাম কাদের বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে রাতেই বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। ঘটনাটির ব্যাপারে পূর্বে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশ স্থানীয় চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহকে বিচার করার জন্য দায়িত্ব দেন। কিন্তু দীর্ঘ এক মাস ধরে চেয়ারম্যান বিরোধীয় বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমার মনে হয় প্রতিপক্ষের লোকজন চেয়ারম্যানকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছে। কারণ এই বিষয়টি সমাধান করতে চেয়ারম্যানের সাথে অনেকবার দেখা করে কোন সুরাহা হয়নি। চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়েই ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে গভীর রাতে আমাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।

স্থানীয় রুহুল আমিন বলেন, গোলাম কাদের আমাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে দ্বিতলা বাড়িটি নির্মাণ করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর তার অপর ভাই গোলাম কুদ্দুছ বাড়িটি তার দাবী করে উল্টো গোলাম কাদেরকে রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়ে বের করে দেয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান বিচারটি বিলম্ব না করলে এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিলনা।

অভিযুক্ত গোলাম কুদ্দুছের পুত্রবধু সুবর্ণা মোস্তফা বলেন, বাড়ির দখল সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চলছে। তবে কি কারণে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে তা জানিনা। বিচারে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে বাড়ীতে প্রবেশ করার চেষ্টা করায় তাদের বাধা দেয়া হয়েছে মাত্র।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর ছিদ্দিক সহ কয়েকজন বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে বাড়ির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিরোধটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা না হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এই ব্যাপারে মাতারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহর বারবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ফোন না ধরায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে পুলিশের নানান সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে মাতারবাড়ির বিষয়টি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও অবগত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেই বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।