মাগুরায় দুই বছর ধরে ছাত্রীর বৃত্তির টাকা তুলে নিচ্ছে বিকাশ এজেন্ট

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রায় দুই বছর ধরে ছাত্রীর বৃত্তির টাকা তুলে নিচ্ছে বিকাশ এজেন্ট অনুজ রায় প্রতারনার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছর ধরে ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিকাশ এজেন্টের বিরুদ্ধে৷ ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলার সদর উপজেলার কুল্লিয়া গ্রামে৷ অভিযোগ উঠা ঐ বিকাশ এজেন্টের নাম অনুজ রায়৷ তিনি হত্যা মামলায় সাময়িক বহিঃস্কৃত হাই স্কুল শিক্ষক৷ দীর্ঘ দিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিকাশ ও ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর নামে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে৷
আর ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থীর নাম মোছাঃ পায়েল খাতুন সে কুল্লিয়া কুচিয়ামোড়া সৈয়দ আতর আলী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ) এর নবম শ্রেনীর ছাত্রী৷

জানা যায়, ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী পায়েল খাতুন সপ্তম শ্রেনীতে থাকা অবস্থায় উপবৃত্তির জন্য মনোনীত হয়৷ ঐ সময়ে পায়েল ও তার মা বৃত্তির টাকা মোবাইলে পেতে স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কুল্লিয়া বাজারের বিকাশ এজেন্ট অনুজ রায়ের কাছে যায়৷ বিকাশ এজেন্ট অনুজ রায় একাউন্ট খোলার কথা বলে তাঁদের থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি ও মোবাইল নম্বর রেখে দেয়৷ পরবর্তীতে একাউন্ট না খুলে অনুজ রায় তাঁর নিজের বিকাশ একাউন্ট নম্বার স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়৷ এর পর থেকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে পায়েলের নামে বৃত্তির টাকা আসলেও অনুজ রায় তা উঠিয়ে নিচ্ছিলো৷
কয়েকদিন আগে ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থীর পরিবার স্কুলের অফিস সহায়ক নাজমুল হাসানের মাধ্যমে জানতে পারে পায়েলের নামে নিয়মিত বৃত্তির টাকা আসছে৷ বিষয়টি তাদের সন্দেহ হলে স্কুলের উপবৃত্তির রেজিস্ট্রেশন খাতায় থাকা নম্বরে ফোন দিলে ফোনটি অনুজ রায়ের দোকানের সহকারী রকি রিসিভ করে৷ পরে বিষয়টি জানাজানি হয়৷

ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থীর বাবা উজ্জ্বল মোল্যা বলেন, “আমি জানতাম আমার মেয়ে উপবৃত্তি পায় না৷ কয়েকদিন আগে জানতে পারি সে নিয়মিত উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে৷ পরে স্কুল থেকে ঐ একাউন্ট নাম্বার নিয়ে জানতে পারলাম অনুজ রায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমার মেয়ের বৃত্তির টাকা তুলে নিচ্ছে৷ আমি তার কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সে আমাকে হুমকি দেয় ও দুর্ব্যবহার করে৷ আমি এই প্রতারকের বিচার চাই।”

ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত বিকাশ এজেন্ট অনুজ রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে অশোভন আচরণ করেন এবং হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে কুল্লিয়া কুচিয়ামোড়া সৈয়দ আতর আলী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল এন্ড কলেজ) এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি। অভিযুক্ত বিকাশ এজেন্ট অনুজ রায়ের এধরণের কাজ কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এরকম ঘটনা আরো কোন শিক্ষার্থীর সাথে হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আমরা বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি। কমিটির সভাপতি সহ সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”