মহেশখালী-কক্সবাজার ঘাটে সামাজিক দুরত্বের অযুহাতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ
করোনার এই দুঃসময়ে থেমে নেই মহেশখালী ঘাটের অনিয়ম। প্রতিনিয়ত হয়রাণী হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নিয়ম চালু থাকলেও যাত্রীরা সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করছেনা। অপরদিকে বর্ষামৌসুমে কয়েকটি বোটে লাইফজ্যাকেট থাকলেও তা অপরিস্কার ও ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় যাত্রীরা ব্যবহার করছে না বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে স্পীড বোট ও গাম বোটে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ। যার কারণে নির্দিষ্ট ভাড়ার দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। পূর্বে স্পীড বোটে যাত্রী প্রতি ৭৫টাকা ভাড়ায় ১১জন যাত্রী এবং গাম বোটে ৩০ টাকা ভাড়ায় ৪০ জন করে যাত্রী নিয়ে মহেশখালী- কক্সবাজার পারাপার করতো। অপরদিকে মহেশখালী ঘাট থেকে চৌফলদন্ডী ঘাটে জনপ্রতি ৬০টাকা ভাড়ায় সর্বনিম্ন ১০ জন যাত্রী নিয়ে গাম বোট পারাপার করত। করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতকল্পে ১৪০টাকা ভাড়ায় ৬জন যাত্রী নিয়ে স্পীডবোট এবং ৭০ টাকা ভাড়ায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে গামবোট চলাচল করছে। কিন্তু মহেশখালী থেকে চৌফলদন্ডী ঘাটে গামবোটে করে পূর্বে ১০ জন যাত্রী নিয়ে ৬০টাকা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করলেও বর্তমানে সামাজিক দুরত্বের অযুহাতে ২০/২৫ জন যাত্রী নিয়েও জনপ্রতি ১২০ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। যা অতিরিক্ত হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।

গতকাল মহেশখালী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বোটে উঠার জন্য সামাজিক দুরত্ব না মেনে যাত্রীরা ঘাটে ভীড় করছে এবং হুমড়ি খেয়ে স্পীড বোটে ১০/১২ জন উঠে যায়। পরে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতের অযুহাতে বাকিদের নামিয়ে দিয়ে ৬জন নিয়ে বোট চলে যায়। এতে সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

আল মামুন নামের এক যাত্রী জানান, গত ৪জুলাই মহেশখালী ঘাটে বোট সংকটের কারণে ঘাটে যাত্রীদের জ্যাম ছিল। ঐ সময় তাকে সহ স্পীডবোটে ৯ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার ঘাটে যায়। সেখানে জনপ্রতি ১৪০টাকা ভাড়া আদায় করে। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে খারাপ আচরণ করে বোট চালক। যাত্রীদের ভীড় থাকলে নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করে স্পীডবোট চালকরা। এমনটি অভিযোগ করছে যাত্রীরা।

ঘাটে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না থাকায় করোনা ঝুঁকি বাড়ছে এবং সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার অযুহাতে জনসাধারণকে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। যাতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তারা ভাড়া কমিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এদিকে বেশির ভাগ বোটে লাইফজ্যাকেট রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করে যাত্রীরা জানান, চলতি বর্ষামৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক যাত্রীদের লাইফজ্যাকেট বাধ্যতামুলক করা হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যে ক’টি বোটে লাইফজ্যাকেট রাখা হয়েছে তাও ব্যবহার অনুপযোগী। তবে যাত্রীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ সঠিক নয় বলে বোট চালকরা জানান, বোটে লাইফজ্যাকেট থাকলেও যাত্রীরা পড়তে অনীহা প্রকাশ করে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।