মহেশখালীতে মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহ নেই মানুষের

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ

কাঁচা বাজারে দেখা হওয়া বৃদ্ধ ফোরকান আহমদকে মুখে মাস্ক নেই কেন জিজ্ঞেস করলে জানান, “খাওয়ার জন্য ঠিকমত ভাত পাইনা, মাস্ক কিনবো কি করে! ফার্মেসীতে একটা মাস্কের দাম ১৫/২০ টাকা নেয়। শুনেছি এগুলো একবারের বেশি ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন মাস্ক কেনার টাকা কোথায় পাব? তাছাড়া কি যেন ভাইরাস আসলো তা আমি বিশ্বাস করি না।”

কক্সবাজারের মহেশখালীতে বৃদ্ধ ফোরকান আহমদের মত মাস্ক পরিধান না করেই বেপরোয়া চলাফেরা করছে বেশির ভাগ মানুষ। ফলে বাড়ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি। মাঝেমধ্যে দু’একজন মাস্ক পরিধান করলেও বেশির ভাগের মুখে মাস্কের দেখা মিলেনা। মাস্কের ব্যবহারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না বলে স্থানীয়রা জানান।

গোরকঘাটা বাজার, নতুনবাজার, টাইমবাজার, কালারমারছড়া ও শাপলাপুর বাজারে দেখা যায়- চায়ের দোকান, বিভিন্ন অফিস, মুদির দোকান সহ অন্যান্য দোকান ও স্থানে সামাজিক দুরত্ব না মেনে মাস্কবিহীন কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। কাঁচা বাজার ও মাছ বাজারের অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে সামাজিক দুরত্ব কেউ মানছেন না বরং মাস্কের ব্যবহারও নেই কারো মুখে। এতে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমের ঝুঁকি। অপরদিকে সাপ্তাহিক পানের বাজারেও ভীড় লেগে থেকে।

এদিকে গণপরিবহনে সামাজিক দুরত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি কখনো। টমটম, সিএনজি, ছারপোকা, ম্যাজিক গাড়িতে যাত্রীদের ভীড় থাকলেও কারো মুখে মাস্কের ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব নেই। উদাসিন ভাবেই ঘুরাফেরা করছে সবাই।

তবে কারো কারো মুখে মাস্ক পড়া থাকলেও বেশিরভাগই মাস্কটি গলায়, মুখের নীচে, থুতনিতে এবং পকেটে নিয়ে ঘুরার দৃশ্য চোখে পড়ে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমার বদলে বাড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয় আবদুল মালেক, নুরুল হক ও শফি আলম জানান, তারা জ্বর, সর্দি, কাশি এসবকে ভয় পাননা। এই মৌসুমে এই রকম জ্বর-সর্দি প্রতিবছর হয়ে থাকে। তারা করোনা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বাস করেন না বলেও জানান। মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা আরো জানান, মাস্ক পড়লে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। প্রথম প্রথম মাস্কের ব্যবহার করলেও এখন আর পড়তে ইচ্ছে হয়না।

চিকিৎসকরা জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম মাধ্যম মাস্ক। মাস্ক শুধু করোনার জন্যে নয় বরং নানান ধরণের ভাইরাস থেকে মানবদেহকে সুরক্ষিত রাখে। তাই মাস্কের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে এই বিষয়টি সাধারণ মানুষ মেনে চলেন না। এতে করে মানবদেহে অন্যান্য ঝুঁকির পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, জনসাধারণের মাঝে করোনা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব ও পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে মাইকিং, পোষ্টার, লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি বাজারে বাজারে বিভিন্ন কর্মসূচী পালণ করা হয়। এরপরেও সাধারণ মানুষ সামাজিক দুরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য সচেতনতা সঠিক ভাবে মেনে চলছেন না।