মহেশখালীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২০

মহেশখালী প্রতিনিধিঃ

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এবং এসএআরপিভি, এসিএফ ও ডব্লিউএফপি ‘র সহযোগীতায় ‘মাতৃদুগ্ধদানে সহায়তা করুন, স্বাস্থ্যকর পৃথিবী গড়ুন’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ০১-০৭ আগস্ট ২০২০ উদযাপন শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ০৪ আগস্ট সকালবেলা মহেশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহফুজুল হক বলেন, শিশুকে জন্মের পরপরই মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে। যা ০৬ মাস পর্যন্ত চলমান থাকবে, এ সময়টাতে অন্যকোন কিছু খাওয়ানো যাবেনা। যথেষ্ঠ সময় নিয়ে ধৈর্য্যধরে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে এক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকে সহায়তা করতে হবে। জন্মের পর শিশুকে বারবার মায়ের বুকে দিতে হবে এতে করে খুব দ্রুত মায়ের বুকে দুধ চলে আসবে। তিনি শিশুকে কৌটারদুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য উপস্হিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শান্তনু ঘোষ বলেন, মায়ের দুধ শিশুর জন্য সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ উপহার যার বিকল্প কোন কিছুই নেই। শিশুকে ০৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর বয়সভেদে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরী বাড়তি খাবার দিতে হবে নচেৎ শিশু অপুষ্টির শিকার হবে। তিনি শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য পরিবারের সবাইকে উৎসাহ দিতে বলেন এবং প্রতিটি গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে ডেলিভেরী নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উপস্থিত সকলের সাহায্য কামনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ বিনয় সেন ও ডাঃ কনিনীকা দস্তিদার, ওনারা প্রত্যেকেই শিশুর ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধের উপকারিতা ও ঘরে তৈরী বাড়তি খাবারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

এসিএফ’র পক্ষ থেকে বক্তব্যে সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, মায়ের দুধের উপকারিতা শিশুর ক্ষেত্রে, মায়ের ক্ষেত্রে ও পরিবারের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জন্মের পর পরই শিশুর চাহিদা কম থাকে বিধায় মায়ের দুধ শিশুর জন্য কম দরকার হয়। তাই এই সময় অযথা উদ্বিগ্ন হয়ে অনেকেই শিশুদের বেশি খাওয়ানোর জন্য কৌটার দুধ দিয়ে থাকে যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
এসএআরপিভির পক্ষে বক্তব্যে টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর নিউট্রিশন কামরুন্নাহার সীমা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে এসএআরপিভি, এসিএফ ও ডব্লিউএফপির সহযোগীতায় কমিউনিটি পর্যায়ে মায়ের বুকের দুধের উপকারিতা ও খাওয়ানোর বিষয়ে গণ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সপ্তাহের শুরু থেকে পৌরসভা ও সব কয়টা ইউনিয়নে মাইকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যা সপ্তাহব্যাপী চলবে। এছাড়াও কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সমূহে সপ্তাহব্যাপী মায়ের বুকের দুধ, পজিশনিং ও অ্যাটাচমেন্ট এবং বাড়তি খাবারের উপর এসএআরপিভির কমিউনিটি পুষ্টি কর্মী কর্তৃক মায়েদেরকে কাউন্সিলিং দেয়া হবে। এসএআরপিভির পক্ষ থেকে আরোও বক্তব্য রাখেন সুপারভাইজার আনোয়ার হোসেন, তিনি বলেন অনেক মায়েরা ০৬ মাস বয়সের পরও বাচ্চাদের শুধু বুকের দুধ খাওয়াতে থাকে এতে করে শিশু দিনে দিনে অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়। এক্ষেত্রে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে মায়ের বুকের দুধ শিশুকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সঠিক পজিশন ও অ্যাটাচমেন্ট এর উপর ডেমোনেস্ট্রশন সেশন পরিচালনা করেন এসিএফ’র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার মোছা: ফাতেমা আক্তার। এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী হাসপাতালের এইচ আই (ইনচার্জ) জনাব মাহফুজুল হক আনসারী, এএইচআই মাহবুবুর রহমান, এসিএফের পিও রফিকুল ইসলাম ও অপ্রমাদিত্য চাকমা, নার্স রুপালী খাতুন, এসএঅারপিভির এইউএনএস রামনাথ দত্ত, শাহজাহান ও নজরুল ইসলাম।
উক্ত অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন এমটি (ইপিআই) জনাব নুরুল আলম হেলালী।