মহেশখালীতে পানের দাম থাকলেও পর্যাপ্ত পান নেই বাজারে

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ পানের দাম থাকলেও পর্যাপ্ত পান নেই বাজারে। চাহিদামত পানের চাহিদা পূরণ হচ্ছেনা বলে ব্যবসায়ীরা জানালেও চাষীরা জানান টানা বৃষ্টিতে পানের বরজ নষ্ট হওয়ায় পান উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।

১৮ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার বড়মহেশখালী, মহেশখালী পৌরসভায়, ছোট মহেশখালী লম্বাঘোনা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা ঝুঁড়িতে পান সাজিয়ে বসে আছে আর বিক্রেতারা ঘুরে ঘুরে পানের দরদাম করছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের দর হাকানোর দৃশ্য দেখেই বুঝা যায় পানের চড়া দাম রয়েছে।

রমিজ, আজম খাঁন, রশিদ, সোলতান সহ একাধিক পান চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পানের দাম পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বড় আকারের প্রতিটি পানের বিড়া ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদামত পান উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছে চাষীরা। তাই পানের দাম থাকা স্বত্বেও লাভের মুখ দেখছেনা বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষী। কারণ হিসেবে করোনাকালীন সময় পান বিক্রিতে বাঁধা ও সীমাবদ্ধতা থাকা, যানবাহনের অবাধ চলাচল না থাকার কারণে পরিবহণের অযুহাতে ব্যবসায়ীদের সস্তায় পান ক্রয় করা এবং স্থানীয় ও শহরের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম ভাবে পানের দাম কমানোয় পরিচর্যা খরচের অভাবে প্রায় এক তৃতীয়াংশ পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে নীঁচু জমির পানবরজ সমূহ প্রায় ৯৫ভাগ নষ্ট হয়েছে। যার প্রভাব পাহাড়ী পান বরজেও পড়েছে। মুলত করোনার সময় পান বিক্রি না হওয়ায় টাকার অভাবে সঠিক পরিচর্চা করতে পারেনি বলে জানান চাষীরা।

চাষীরা আরো জানান, পানের দাম থাকায় তারা এবার নতুন পান বরজ তৈরীর কাজে হাত দিয়েছেন। তবে অর্থাভাবে তা অনিশ্চিত হয়ে আছে। তারপরেও অনেক চাষী ধারে ও সুদে টাকা নিয়ে পানের বরজ রোপন করছে বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলায় নামে মাত্র পানচাষীদের একটি মাত্র সংগঠন থাকলেও তা বর্তমানে অকার্যকর। সাংগঠনিক অবকাঠামো না থাকায় এই সংগঠণের মাধ্যমে চাষীদের কোনরূপ লাভ হয়নি। তবে জনৈক শাহআলম নামের বড়মহেশখালীর এক ব্যক্তি নিজেকে পানচাষী সমিতির সভাপতি দাবী করে বিভিন্ন সুবিধা নেয় বলে একটি সূত্র জানান।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষীদের সুষ্টু ঋণ প্রদানের মাধ্যমে করোনাকালীন ক্ষতি লাঘব করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা জানান, মহেশখালীতে অধিকাংশ মানুষ পান চাষের সাথে জড়িত এবং তাদের অর্থনৈতিক প্রধান উৎস এই পান। তাই সরকারের যথাযথ উদ্যোগই পারে পান চাষীদের রক্ষা করতে৷