মহেশখালীতে কোরবানি পশুর হাটে উপচে পড়া ভীড়; মানছেননা স্বাস্থ্যবিধি

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ আর দুদিন পরেই কোরবানীর ঈদ। এরই মাঝে জমে উঠেছে পশুর হাট গুলো। প্রত্যেকটি হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ক্রেতা তার শখের গরুটি বিক্রির জন্য নানান আঙ্গিকে সাজিয়ে রেখেছে। কেউ কেউ বালতিতে পানি নিয়ে মাঝে মাঝে গরুকে গোসল করাচ্ছে। আবার কেউ ভুসি আর খড় খাওয়াচ্ছে যতœ করে। এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর বিভিন্ন কোরবানি পশুর হাট ঘুরে।

জানা যায়, সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে উপজেলায় ৫টি পশুর হাট বসার অনুমতি দেন প্রশাসন। এর বাইরে টোলবিহীন ভাবে গোরকঘাটা পুরাতন জেটির পাশে আরেকটি পশুর হাট বসানো হয়। প্রত্যেকটি পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে ইজারাদারদের প্রশাসন থেকে জোরালো নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাধ্যতামুলক মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট ও বাজারে প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযানে চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।

সরজমিনে প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত নতুনবাজার, কালারমারছড়া, মাতারবাড়ি, টাইমবাজার ও টোলবিহীন গোরকঘাটা পশুর হাট গুলো পরিদর্শনে দেখা যায়, খামার ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পালিত বিভিন্ন গরু ও ছাগল বিক্রির জন্য খুটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। পাশে দাড়িয়ে গরুর দর হাকছেন ক্রেতা। আর বিক্রেতারও ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দের গরু দেখছেন। সাধ ও সাধ্যের অনুপাতে ক্রেতা ও বিক্রেতার মিল হলেই গরুটি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের গরু রয়েছে প্রত্যেকটি হাটে। অন্যান্য বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি তুলনামুলক কম হলেও ভীড় জমেছে গোরকঘাটা টোলবিহীন পশুর হাটে। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উদাসিন দেখা যায়। কারো কারো মুখে মাস্কের ব্যবহার দেখা গেলেও অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। নেই একে অপরের মাঝে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতের বিষয়টি। এতে করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

এদিকে গোরকঘাটা বাজারে টোল না নেয়ায় মহেশখালীর বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে। খবর শুনে ক্রেতারাও ভীড় করছেন এই বাজারে। বাজার ঘুরে বিশাল বিশাল আকৃতির গরু সাজিয়ে রাখার দৃশ্যটি চোখে পড়ে। বিশাল আকৃতির গরু ক্রয় করে বের হওয়ার সময় দেখা মিলে ছোট মহেশখালীর জমির সওদাগরের সাথে। তিনি জানান, গরুটি ৩লক্ষ ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। অপরদিকে বড়মহেশখালীর নতুনবাজারের ওয়াহেদ সওদাগর কিনেছেন ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকায় গরু। এছাড়াও নতুনবাজারে পশুর হাট থাকা সত্বেও টোল ফ্রি হওয়ায় ঐ এলাকার লাল বাহাদুর নামের গরুটি কুতুবজোমের ছিদ্দিক কোম্পানী থেকে ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় গোরকঘাটা পশুর হাটে। এই বাজারে সকাল থেকে গরুর দাম কম হলেও বিকেল থেকে গরুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়। তবে গোরকঘাটা পশুর হাট ছাড়া অন্যান্য হাটের দৃশ্য ভিন্ন। সেখানে নেই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। এর কারণ হিসেবে ঐসব বাজারে টোল দিতে হয় এবং গোরকঘাটা পশুর হাটে টোল ফ্রি করার কারণ উল্লেখ করেছেন গরুর মালিকরা।

প্রশাসন কর্তৃক অনুমোদিত ৫টি বাজারের বাইরে টোলবিহীন গোরকঘাটা জেটি সংলগ্ন মাঠে পশুর হাট বসানোয় ক্ষতির সম্মূখিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অন্যান্য পশুর হাটের ইজারাদাররা। তারা জানান, টোল ফ্রি হওয়ায় এসব এলাকায় পশুর হাট থাকা স্বত্বেও গরুর মালিকরা গোরকঘাটা পশুর হাটে বিক্রির জন্য গরু তুলেছেন। তাই তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

তবে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, গোরকঘাটা বাজারটি টোল ফ্রি হওয়ায় ঝামেলা ছাড়ায় গরু ক্রয়-বিক্রয়ে সুবিধে হচ্ছে তাদের। এতে করে অন্যান্য বছরের ন্যায় ইজারাদারদের সাথে টোল আদায় নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে না।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম জানান, অনুমোদিত ৫টি পশুর হাটের বাইরে হাট বসিয়ে টোল আদায় করা যাবেনা। এদিকে গোরকঘাটা পশুর হাটটি টোল বিহীনভাবে বসানো হওয়ায় এতে আইনী কোন বাঁধা নেই। তবে প্রত্যেকটি বাজারে স্বাস্থবিধি না মানলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নন্দন কুমার চন্দ্র জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবারে খামারি ও পারিবারিক ভাবে প্রায় ৪ হাজার গরু কোরবানির জন্য বিক্রয় উপযোগী করা হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় ভাবে পালিত গরু দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ হবে। বাহির থেকে গরু আমদানীর সম্ভাবনা নেই বলেই জানান তিনি।