মহেশখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতনের শিকার

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

মহেশখালী প্রতিনিধিঃ ত্রান চাইতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে মোঃ ছৈয়দ নামের এক ব্যক্তি। তাকে ফিল্মি স্টাইলে বাজার থেকে অপহরণ করে চেয়ারম্যানের চাচার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে এ নির্যাতন করা হয়। অপহরণের ঘটনা প্রকাশের পর তাকে উদ্ধারে শতাধিক নারী পুরুষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আসে। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে অপহৃত ছৈয়দকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানা যায়।

২৩ জুলাই সকাল ১০ টায় মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছৈয়দ ছোট মহেশখালী আদর্শ গ্রাম ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি। গত ২২ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদে ত্রাণ বিতরনের সময় মোঃ ছৈয়দ এলাকার অসহায় লোকদের জন্য ছোট মহেশখালী ইউপি চেয়ারম্যান জিহাদ বিন আলীর নিকট ত্রান চায়। এ বিষয় নিয়ে উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ২৩ জুলাই সকালে ছোট মহেশখালী লম্বাঘোনা বাজার থেকে চেয়ারম্যানের লোকজন মোঃ ছৈয়দকে মারধর করে টমটমে তুলে চেয়ারম্যানের চাচা রমজানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে এলাকার লোকজন অপহরনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের শরণাপন্ন হয় বলে জানা যায়।

ছৈয়দের স্ত্রী লাল জরি বেগম জানান, স্থানীয় মাষ্টার এনাম, মাষ্টার মাহবুবের সহযোগীতায় চেয়ারম্যানের চাচা রমজানের বাড়ি থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তার স্বামীকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

এই ব্যাপারে ছোট মহেশখালী ইউপি চেয়ারম্যান জিহাদ বিন আলী জানান, এরকম কোন ঘটনা তার এলাকায় ঘটেনি। তবে ২২ জুলাই ছৈয়দের সাথে কথা কাটাকাটির কথা স্বীকার করে তিনি জানান, মূলত ছৈয়দ আমার প্রতিপক্ষের সাথে মিলে আমাকে রাজনৈতিক ভাবে কোনঠাসা করতে এমন ঘটনা সাজিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, লম্বাঘোনা বাজারের চায়ের দোকান থেকে চেয়ারম্যানের ৮/১০ জন লোক ছৈয়দকে এলোপাতাড়ি মারতে মারতে টানাহেঁচড়া করে টমটমে তোলে উত্তর দিকে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।