মহামারী তথা করোনা: ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিরোধে করণীয়:

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

মহামারী কি?

মহামারী শব্দটি বিশেষ্য পদ,অর্থ মড়ক, যে সংক্রামক রোগে বহু লোক মরে।
যে কোন সংক্রামক রোগ যা দ্রুতগতিতে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক লোককে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।
মহামারী কেন হয়?
* মানবজাতীর পাপের ফসল: এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেছেন-
ظَہَرَ الۡفَسَادُ فِی الۡبَرِّ وَ الۡبَحۡرِ بِمَا کَسَبَتۡ اَیۡدِی النَّاسِ لِیُذِیۡقَہُمۡ بَعۡضَ الَّذِیۡ عَمِلُوۡا لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ﴿سورة الروم-۴۱﴾
“মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।” [ সূরা আর্ রুম:৪১]

হাদীস শরীফে আছে- আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেন:–

إِذَا ظَهَرَ الزِّنَا وَالرِّبَا فِي قَرْيَةٍ، فَقَدْ أَحَلُّوا بِأَنْفُسِهِمْ عَذَابَ اللَّهِ . أخرجه الطبراني في المعجم الكبير : ١/١٧٨ رقم ٤٦٠ ، و الحاكم فى المستدرك : ٢/٣٧ ، و صححه الألباني في صحيح الجامع : رقم ٦٧٩ –
“যখন কোনো নগরে জেনা-ব্যাভিচার ও সূদ আত্বপ্রকাশ করে, তখন মূলত: তারা নিজেদের উপরে আল্লাহ’র আযাবকে হালাল করে নেয়”। [আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী– ১/১৭৮ হাদিস ৪৬০; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ২২৬১]
অপর হাদীসে আছে- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন-

لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلاَفِهِمُ الَّذِينَ مَضَوا.‏(سنن ابن ماجه: ٤٠١٩)
” কোন জাতীর মাঝে যদি অশ্লীল কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায় এবং তারা তা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে করে তাহলে আল্লাহ তা’লা তাদের মাঝে মহামারী ব্যপৃত করেদেন এবং এমন সব রোগ দেন যা ইতোপূর্বের কোন জাতীর মাঝে তা দেখা যায়নি।” [সুনানে ইবনে মাযাহ: ৪০১৯]

যুগে যুগে মহামারী:

ইতিহাস থেকে আমরা জানি, প্রায় প্রতি শতাব্দীতে পৃথিবীতে কোন না কোন ভাইরাসের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস গুলো প্রথমে কোন এলাকা বা জাতী আক্রান্ত হলেও পরে সারা পৃথিবী ব্যাপী মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
যেমন:-
** ১৬৫ খ্রি: থেকে ১৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমে স্মল পক্স মহামারিতে বহু মানুষ মারা যায়,
** ২৫০ খ্রি: সাইপ্রিয়ানের প্লেগ মহামারী রোমান সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে দেয়।
** ৫ম ও ৬ষ্ট শতাব্দীতে রোমান সম্রাজ্যকে শেষ করে দেয়।
** পরবর্তী দুই শতাব্দীতে বিশ্বে বিউবনিক প্লেগে প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা যায়, যা তৎকালীন জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ।
** ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ‘দি ব্ল্যাক ডেথ’ বলে পরিচিত প্লেগ মহামারি পৃথিবীর জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশের মৃত্যুর কারণ হয়।
** ১৫২০ সালে ইউরোপিয়ানদের সাথে আসা একজন আফ্রিকান দাস স্মলপক্স নিয়ে আসলে গোটা এজটেক সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই মহামারি। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপিয়ানদের বয়ে আনা জীবাণুর কারণে আমেরিকা মহাদেশে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে।
**১৬৬৫ সালের দিকে ‘দি গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন’-এ লন্ডনের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মৃত্যুবরণ করে। এছাড়া, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তারের সাথে সাথে সৈনিকদের মাধ্যমে ভারতবর্ষে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবর্ষ ছাড়াও স্পেন, আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, চীন, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও আমেরিকায় দেড়শ বছরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ কলেরায় মারা যায়।
**১৮৫৫ সালের দিকে চীন, হংকং ও ভারতে প্রায় দেড় কোটি মানুষ প্লেগে মারা ভুগে যায়।
** ১৯১৮ সােল স্প্যানিশ ফ্লু মহামারিতে বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।
** ১৯১৯ সালের গ্রীষ্মে এই রোগে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি ।
** ১৯৫৭ সালে ‘এশিয়া ফ্লু’ হংকং থেকে চীনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপকভাবে ছড়ায়। এ কারণে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
**১৯৫৮ সালের শুরুর দিকে এশিয়ান ফ্লু দ্বিতীয়বারের মতো মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় এশিয়ান ফ্লুতে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গিয়েছিল ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ।
** ১৯৮১ সালে এইডস/ এইচআইভি প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয়। এ রোগ শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত এইডসে বিশ্বব্যাপী সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
**করোনাভাইরাস /কোভিট- ২০১৯
একবিংশ শতাব্দীতে এসে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়। পরে তা দ্রুত গতিতে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।[উইকিপিডিয়া,
Pandemics That Changed History, হিস্ট্রি ডট কম, প্রথম আলো, ঢাকা টাইমস, জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট।]

করোনা বা কোভিট-১৯ কি?

ইহা এমন একটি ‘ভাইরাস’ যা মানুষের ফুসফুসের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে- যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল- চীনের উহান থেকে এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে।
বা করোনাভাইরাস বলতে ভাইরাসের এমন একটি শ্রেণিকে বোঝায় যেগুলি স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। যা মানুষের মধ্যে শ্বাসনালীর মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটায়। এই সংক্রমণের লক্ষণ মৃদু হতে পারে, অনেকসময় যা সাধারণ সর্দিকাশির ন্যায় মনে হয় (এছাড়া অন্য কিছুও হতে পারে, যেমন রাইনোভাইরাস), কিছু ক্ষেত্রে তা অন্যান্য মারাত্মক ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে, যেমন সার্স, মার্স এবং কোভিড-১৯। [উইকিপিডিয়া]
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে , করোনা ভাইরাস এখন আর ‘এন্ডেমিক’ বা সীমিত অঞ্চল বা দেশে মহামারীতে আটকে নেই, এটি এই মুহূর্তে ‘প্যান্ডেমিক’ তথা বৃহত্তর মহামারীর চেহারা নিয়েছে ।
[এন্ডিমিক হলো-
নির্দিষ্ট সময়ে কোন একটি বিশেষ ভৌগলিক অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও সংক্রামক অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে এন্ডেমিক বা মহামারী বলে।
উদাহারণঃ ভারতে অতীতে ঘটে যাওয়া জিকা ভাইরাস, চিকনগুনিয়া বা ডেংগুকে এন্ডেমিক বলে।
প্যান্ডেমিকঃ যখন কোন এন্ডিমিক বা মহামারী গোটা দেশ বা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন তাকে প্যান্ডেমিক বলে।
উদাহারণঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাম্প্রতিক কালের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে প্যান্ডেমিক ঘোষণা করেছে।’]
‘করোনা ভাইরাস’ চীনের উহান নগরীর সামুদ্রিক খাদ্যের বাজার থেকে উদ্ভূত ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার ঘটেছে। কারো মতে বাদুড় থেকেই এর আগমন হয়েছে, তবে জাপানের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক তাসুকু হনজো বলেছেন, নোভেল করোনাভাইরাস প্রাকৃতিক কিছু নয়, এটা মানুষের হাতে তৈরি। প্রফেসর হনজো বলেন, এতকাল পর্যন্ত গবেষণা করে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা থেকে এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি, করোনাভাইরাস প্রাকৃতিক কোনো বিষয় নয়। এটা বাদুড় থেকেও আসেনি। চীন এই ভাইরাসটি তৈরি করেছে।’
ইতোপূর্বে ফ্রান্সের নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী লুক মন্তানিয়ের এমনটি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, উহানের ল্যাবরেটরি থেকেই নোভেল করোনাভাইরাসটি ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, ওই ল্যাবরেটরিতে এইডস ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে এটি ভুলবশত বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।
[পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম]
করোনাভাইরাস বা কোভিট ১৯ এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।
ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে- তিন লাখ ১৫ হাজার মানুষের। যা দিনের পর দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ লাখ ১৩হাজার ছাড়িয়েছে। করোনা ভাইরাস এই মুহূর্তে বিশ্বের ১৮৮ টি দেশ বা মতান্তরে প্রায় ২০৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বাংলাদেশে আজ ১৮ মে ২০২০ খ্রি: পর্যন্ত ২৩৮৭০ জন শনাক্ত ও ৩৪৯ জন মারা গিয়েছে।
# করোনা ভাইরাস রোগের লক্ষণ কী:
রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।
সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।
বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের কোনো ধরণের অসুস্থতা রয়েছে (অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ) তাদের মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।[বিবিসি নিউজ বাংলা]

#করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করনীয়: ইসলামী দৃষ্টিকোণ:

১) মহামারীই সংক্রামক:

আগেই বলা হয়েছে মহামারীই মানে সংক্রামক যা মানবদেহে পরস্পর থেকে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে তাই সংক্রমিত ব্যাক্তি বা এলাকা থেকে নিজেকে সেইভ রাখতে হবে তথা লকডাউন হিসেবে মেনে নিতে হবে। এপ্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে-
হযরত উসামা বিন যায়েদ (রা:) সা’দ (রা:) -এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেছেন,
إِذَا سَمِعْتُمْ بِالطَّاعُونِ بِأَرْضٍ فَلاَ تَدْخُلُوهَا وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلاَ تَخْرُجُوا مِنْهَا . رواه البخاري في الصحيح، كتاب الطب , باب ما يذكر في الطاعون : ٥/٢١٦٣ رقم ٥٣٩٧ و غيره ايضا –
“তোমরা যখন কোনো এলাকায় প্লেগ (মহামারী)র কথা শুনতে পাও, তখন সেখানে তোমরা ঢুকবে না। আর তোমরা যে এলাকায় থাকাবস্থায় তা সংঘটিত হবে, তখনও তোমরা সেখান থেকে বের হবে না”। [সহিহ বুখারী ৫/২১৬৩ হাদিস ৫৩৯৭; সুনানল কুবরা, বাইহাকী- ৩/৫২৭ হাদিস ৬৫৫৯]

২) সতর্কতা বাঞ্চনীয়:

মহামারীকে অবহেলা নাকরে আত্মরক্ষার্থে সর্বোচ্ছ সতর্ক থাকতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেছেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا خُذُوۡا حِذۡرَکُمۡ ﴿سورة النساء: ۷۱﴾
“হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা সতর্কতা অবলম্বন কর”, [সুরা নিসা:৭১]
অপর আয়াতে আল্লাহ বলছেন-
وَ لَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَة ِ {سورةالبقرة:١٩٥}
“আর তোমরা তোমাদের নিজ হাতে (নিজেদেরকে) ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না”। [সূরা বাকারাহ : ১৯৫]
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-
وَ لَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ {سورة النساء:٢٩}

“আর তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে হত্যা করো না”। [সূরা নিসা ২৯]
আর সতর্কতাই হচ্ছে ইসলামের সর্বোত্তম শিক্ষা।

৩) সতর্কতার পাশাপাশি আল্লাহর উপর ভরসা রাখা:

এই মহামারীর সময়ে আতংকিত না হয়ে মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জন করত: কল্যাণ মুলক কাজ করে যাওয়া এবং আল্লাহর উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। আল্লাহর বাণী-
قُلۡ لَّنۡ یُّصِیۡبَنَاۤ اِلَّا مَا کَتَبَ اللّٰہُ لَنَا ۚ ہُوَ مَوۡلٰىنَا ۚ وَ عَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ﴿سورة التوبة-۵۱﴾
“বলঃ আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তা ছাড়া অন্য কোন বিপদ আমাদের উপর আপতিত হবেনা, তিনিই আমাদের কর্ম বিধায়ক, আর সকল মু’মিনের কর্তব্য হল, তারা যেন নিজেদের যাবতীয় কাজে আল্লাহর উপরই নির্ভর করে।” [সুরা তাওবাহ: ৫১]

৪) রোগ দেখা দিল দ্রুত চিকিৎসা নেয়া:

কোন রোগ দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করতে হবে। এবিষয়ে অবহেলা করা যাবেনা। হাদীস শরীফে এসেছে- হযরত যাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেছেন-
لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ ، فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ . رواه مسلم في صحيحه , كتاب السلام , باب لكل داء دواء واستحباب التداوي: رقم ٢٢٠٤، و ابن حبان في صحيحه : رقم ٦٠٦٣، والنسائي في السنن الكبرى : رقم ٧٥٥٦ ، و أحمد في مسنده : ٣/٣٣٥ –
“প্রত্যেক রোগের নিরাময়ক (ঔষধ/প্রতিষেধক) রয়েছে। বস্তুত: যখন কোনো রোগের নিরাময়ক (ঔষধ/প্রতিষেধক) প্রয়োগ করা হয়, তখন সে আল্লাহ আযযা ওয়া যাল্লা’র অনুমতি ক্রমে (ওই রোগ থেকে) মুক্তি লাভ করে”। [সহিহ মুসলীম- ৪/১৭২৯ হাদিস ২২০৪; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬০৬৩; সুনানুল কুবরা, নাসায়ী, হাদিস ৭৫৫৬; মুসনাদে আহমদ– ৩/৩৩৫]

৫) রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকের ভুমিকা:

রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকের আয়ত্বের বাইরে থাকলে রেফার করে দিতে হবে। দেরী না করাই উত্তম। এপ্রসংগে হাদীস শরীফে এসেছে-
হযরত আমর বিন শোয়াইব (রহ:) তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেন- مَنْ تَطَبَّبَ وَلَمْ يُعْرَفْ مِنْهُ طِبٌّ فَهُوَ ضَامِنٌ . رواه أبو داود , كتاب الديات : رقم ٤٥٨٦ ; و النسائي : رقم ٤٨٣٠ ; و ابن ماجه : رقم ٣٤٦٦ ، وفي إسناده كلام ، و حسَّنه الألباني في سنن أبي داود – “যে ব্যাক্তি (কারোর) চিকিৎসা করে, অথচ সে তার (রোগের) চিকিৎসা জানে না, সেক্ষেত্রে (রোগীর কোনো ক্ষতি হলে) সেই (চিকিৎসাকারীই) দায়ী”। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৫৮৬; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪৮৩০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৪৬৬]

৬) করোনা রোগীর জন্য হোমকোয়ারেন্টাইন:

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তি নিজ গৃহের সংরক্ষিত ঘরেই ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করবে। সে মসজিদে যাবে না, জুমআ’র নামায, ঈদের জামাআত কিংবা জানাযার নামাযে শরিক হবে না। কারণ, লোকজনের জামাআতে শরিক হলে তার কারণে সুস্থ ব্যাক্তির এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হযরত আবু মুসা আশয়ারী (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন-
إِذَا مَرِضَ العَبْدُ أَوْ سَافَرَ ، كُتِبَ لَهُ مِثْلُ مَا كَانَ يَعْمَلُ مُقِيمًا صَحِيحًا . رواه البخاري في صحيحه : رقم ٢٩٩٦ –
“যখন কোনো বান্দা রোগাক্রান্ত হয় কিংবা সফর করে (যার কারণে সে প্রত্যাহিক নিয়মিত আমলগুলো ঠিক মতো যথাযথভাবে আদায় করতে পারে না), তার জন্য -মুক্বীম সুস্থ অবস্থায় সে যে আমল করতো তার অনুরূপ (সওয়াব) লিখে দেয়া হয়”। [সহিহ বুখারী, হাদিস ২৯৯৬]

৭) সুস্থ ব্যাক্তির জন্য হোম কোয়ারেন্টাইন:

সুস্থ ব্যাক্তিও মহামরীতে আক্রান্তের আশংকায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকবে। এপ্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এসেছে-
হযরত আয়েশা (রা:) এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে-
سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الطَّاعُونِ، فَأَخْبَرَنِي : أَنَّهُ عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ، وَأَنَّ اللَّهَ جَعَلَهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ، لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ، فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا، يَعْلَمُ أَنَّهُ لاَ يُصِيبُهُ إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ، إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ شَهِيدٍ . أخرجه البخاري، كتاب أحاديث الأنبياء , باب حديث الغار : ٤/١٧٥ رقم ٣٤٧٤ –
“ তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা:) কে প্লেগ বা মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে জানালেন যে, (ওটা মূলত: একটা) আযাব, আল্লাহ সেটাকে (যখন) যার উপরে চান পাঠিয়ে দেন। আর আল্লাহ ওটাকে মুমিনদের জন্য রহমত (স্বরূপ) বানিয়েছেন। এমন কেউ নেই যার প্লেগ বা মহামরী হয়, তখন সে সওয়াবের আশা নিয়ে ধৈর্য্যের সাথে তার এলাকায় থাকে, সে জানে যে, আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন সেটাই শুধু তার সাথে ঘটবে, তার পুরষ্কার হবে (আল্লাহ’র রাস্তায়) শহিদের (পুরষ্কারের) অনুরূপ”। [সহিহ বুখারী– ৪/১৭৫ হাদিস ৩৪৭৪; ৫৭৩৪]

৮) মহামারীতে আক্রান্ত ব্যাক্তির জন্যই আইসোলেশন:

মহামারীতে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে পৃথক করে রাখতে হবে। এতে নিজের ও অপরের ক্ষতি হতে রক্ষা পাবে। এপ্রসঙ্গে হাদীস শরীফে আছে- হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেছেন-
لا ضَرَرَ وَلاَ ضِرَارَ . رواه ابن ماجه , كتاب: الأحكام , باب من بنى في حقه ما يضر بجاره : رقم ٢٣٤١، و الدارقطني و غيرهما مسندًا، حديث حسن و حديث مشهور عند أهل العلم ، و صححه الألباني في غاية المرام : ٦٨ –
“(কারোর) ক্ষতি (করা জায়েয) নয় এবং ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াও জায়েয নয়”। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৩৪১; সুনানে দ্বারেকুতনী- ২/২২৮]
অপর হাদীসে এসেছে- হযরত আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ (রা:) থেকে বলতে শুনেছি, নবী কারীম (সা:) বলেছেন:
لا يُورَدُ مُمْرِضٌ على مُصِحٍّ[رواه البخاري:٥٧٧١، والمسلم: ٢٢٢١]
“অসুস্থকে সুস্থের কাছে নেয়া হবেনা।[বুখারী: ৫৭৭১, ও মুসলিম: ২২২১]

৯) মুসাফাহা ও কুলাকুলি এড়িয়ে চলা:

কেননা এর মাধ্যমে সংক্রমণের ভয় থাকে। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে-
হযরত আমর (রা:) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এরশাদ করেছেন-
كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَارْجِعْ . أخرجه مسلم في , كتاب السلام , باب اجتناب المجذوم ونحوه : ٤/١٧٥٢ رقم ٢٢٣١ و ايضا غيره –
“সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক ব্যাক্তি ছিল কুষ্ঠরোগী (যারা রাসুলুল্লাহ (সা:) এর হাতে হাত রেখে বায়াত হতে এসেছিল)। রাসুলুল্লাহ (সা:) (তাকে দেখতে পেয়ে) তার কাছে লোক পাঠিয়ে (জানালেন যে), আমরা (দূর থেকেই) তোমাকে বায়াত করে নিয়েছি, তুমি ফিরে যাও”। [সহিহ মুসলীম– ৪/১৭৫২ হাদিস ২২৩১; মুসনাদে আহমদ- ৪/৩৮৯; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১১৭২ হাদিস ৩০৪৪; সুনানে নাসায়ী- ৭/১৫০ হাদিস ৪১৮২; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ– ৫/১৪১ হাদিস ২৩৫৩২]

১০) পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা:

সুস্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির ব্যপারে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করে। যেখানে কিছু কিছু জাতি আধ্যাত্মিকতা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা ও নিজের যত্ন নেওয়া পরিত্যাগ করেছে সেখানে ইসলাম এটাকে প্রতিদিন নামাযের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেছে।
প্রত্যেকের স্বাস্থ্যবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখাকে ইসলাম শুধু উত্তম অভ্যাস হিসেবেই বিবেচনা করে না বরং একে ইমানদারদের জন্য অনুষ্ঠানিক রীতিতে পরিণত করেছে। এখন করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনের মাধ্যমে জীবানুমুক্ত থাকা। কেননা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সতর্কতাই সংক্রামক ব্যাধি করোনাসহ সব ধরনের জীবানুবাহী রোগ-ব্যাধি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারে।
করোনা প্রতিরোধে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা যেমন জরুরি তেমনি এটি ইসলামের অন্যতম একটি ইবাদতও বটে।

সংক্রামক রোগ-ব্যাধি ও জীবানু থেকে মুক্ত থাকতে সুস্থ-সুন্দর এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবন-যাপনে ইসলামের দিক নির্দেশনা হলো পবিত্রতা অর্জনের জন্য দাত মিসওয়াক করত: হাত, মুখ,পা ইত্যাদি দৈনিক পাঁচবার ধৌত করা বা অজু করা কিংবা কমপক্ষে একবার গোসল করতে হয়। যা করোনা মহামারী হতে মুক্ত থাকতে সওয়াবের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সহায়ক। এই প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاء أَحَدٌ مَّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لاَمَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ اللّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَـكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ{سورة الماءدة:٦}

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নাও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও আর মাথা মাসেহ করো এবং পাগুলো টাকনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে ও তোমাদের ওপর স্বীয় নিয়ামত পূর্ণ করতে চান যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’[সূরা মায়েদা: ৬]
তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ অর্থাৎ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক। [মুসলিম :২২৩ ]

১১) করোনা মহামারী থেকে বাচতে দোয়া পাঠ:

সংক্রামক রোগ থেকে বাচতে নিম্নোল্লিখিত দোয়া গুলো বেশী বেশী পড়ে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।
ক) আরবীতে:
أَعُوذُ بِكلِمَاتِ الله التّامّاتِ مِن شَرّ مَا خَلَقَ
বাংলা উচ্চারণ: ‘আঊযু বি-কালিমাতিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্।’
অর্থ: ‘আল্লাহ’র পরিপূর্ণ কালেমা সমূহের অসিলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি ওই জিনিসের ক্ষতি/অনিষ্টতা থেকে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন’।
খ) আরবীতে:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়া যুররু মায়া’ ইসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদে ওয়া লা ফিস-সামায়ে ওয়া হুওয়াস্ সামিউল আলিম।
অর্থ: “সেই আল্লাহ’র নামে, যাঁর নামের সাথে না জমিনে না আসমানে কোনো কিছু ক্ষতিসাধন করতে পারে। আর তিনি হলের সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ”।
গ) আরবীতে:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লহুম্মা ইন্নি আঊযু বিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল যুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সাইয়্যেইল আসক্বাম’।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই – শ্বেতরোগ থেকে, পাগল হওয়া ও গোদরোগ থেকে এবং বিভিন্ন অনিষ্টকর (মহামারী বা রোগ ব্যাধি) থেকে”।

১২) আবেগ নয় বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ:

ইসলাম বিবেক দিয়ে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছে। হুজুগী না হয়ে বিবেককে কাজে লাগিয়ে অবশ্যই জনসচেতনতা বাড়ানো ঈমানী দায়িত্ব বটে।
বস্তুত: যে কোনো বিপদ ও বালা মুসিবত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসে -হয় পরীক্ষা হিসেবে, না হয় আজাব ও সতর্ক সংকেত হিসেবে, না হয় রহমত হিসেবে। তাই, যে কোনো বান্দার কর্তব্য সর্ব প্রথমে আল্লাহ তাআলার সামনে ঝুঁকা, পাপ ও অপরাধের জন্য কেঁদে কেঁদে ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া এবং পূর্বের অপরাধ পূণরায় না করার পাক্কা তওবা করা।
হে আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন ছুম্মা আমিন।

লেখক-

মুহাম্মদ নুরুল আলম ফারুকী
অধ্যক্ষ, গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।