মহামারীর প্রভাবে কেমন আছে কর্মহীনরা?

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

 

ককসবাজার পৌরসভা এলাকা রেড় জোনের আওতায় লকড়াউন চলছে খুবই কড়াকড়ি ভাবে। কিন্তু সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন এর উপজেলা গেইট এর পাশে, লিংক রোড় যেন মনে হয় নতুন এক বাসটার্মিনাল। ছোট -বড় থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যাত্রী বাহি বাস গুলো অনায়াসে বাধা বিহীন চলছে সদরের উপজেলা গেইট থেকে আর লিংক রোড় থেকে।আমাদের সেচ্ছাসেবক ভাইয়েরা প্রতিনিয়ত ঝড়ে ভিজে,রোদে শুকিয়ে শহরের মেইন সড়ক,স্ব স্ব ওয়ার্ড়ের গলির মুখে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তারা সব ধরনের যাত্রী বাহি টমটম, রিক্সা, সিনজি, মালবাহি গাড়ি গুলো শহরের প্রবেশ আর চলচল ঠেকাচ্ছে ঠিকই, মানুষের পায়ে হেটে চলাচল বন্ধ করতে পারছে না।তাইতো দিন দিন বেড়েই চলছে শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।শহরের বাইরের মানুষ গুলো বিনা প্রয়োজন ব্যাতীত প্রবেশে প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক আইনানুগ ব্যবস্থা। একমাত্র অসুস্থ রোগি ছাড়া অন্য কাউকে যেন পৌর শহরে প্রবেশ করতে দেয়া না হয়।যদি তারা নিয়মিত চলাচল করে,তাহলে শহর বাসীর উপর করোনার প্রভাব দুর হবে না কখনো।
ককসবাজার পৌর শহরের মানুষ গুলো যদিও রাস্তায় বের হচ্ছে না আগের মতন ঠিকই কিন্তু এলাকার তিন রাস্তার মুখ,চৌ রাস্তার মুখে যেন এক মহাসমাবেশ। কতক্ষণ পারে আর ঘরে বসে থাকতে। কার আর ভাল লাগবে অলস সময়ে ঘরে বসে থাকতে। তাইতো অত্র রাস্তা গুলো সব সময় থাকে জমজমাট।যখন শুনে প্রশাসন প্রবেশ করছে এলাকায়, তখন একটা দৌড়নি দিয়ে সোজা ঘরের প্রবেশ মুখ পর্যন্ত গিয়ে প্রশাসন চলে যাওয়ার পর ঠিকই চলে আসে নির্দিষ্ট স্থানে। আমাদের প্রশাসনের কি খেয়ে দেয়ে আর কাজ নেই সারাদিন তারা দৌড়নি দিয়ে রাখবে মানুষ গুলোকে।যদি আমরা না হয় নিজ থেকে সচেতন।তারারো সব ধরনের চেষ্টা এবং চালিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রের নির্দেশে।

Advertisement

গত তিন মাস ধরে বন্ধ সব কিছু,দেশে চলছে করোনা মহামারীর কারণে লকড়াউন, নেই কোন কর্ম,বেকারত্ব জীবন, বাসার মধ্যে ও কাটেনা সময় তাইতো সারা দিন মোবাইলে লুড়ো খেলা আর আড্ডাবাজি।চায়ের পিপাসা মিটানোর জন্যেই বা দোকানে নায় আসলাম। আমাদের শরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর ধুমপান সিগারেট আর জর্দা মিক্স পান, সে গুলোর যদি তৃষ্ণা উঠে কোন পুরুষকে কি আর বন্দি রাখা যায় ?
সেই তৃষ্ণা মিটানোর জন্যেইতো চলে আসতে হয় দোকানে। এলাকা ভিত্তিক দোকান গুলোতো মোটামুটি খোলায় রয়েছে। তারাতো দোকান গুলো না খুললেই দেখা যেত মানুষ গুলো কষ্ট। সরকার কি আর খবর নেই অসহায় মানুষ গুলো। আমাদের কাউন্সিলর ভাইয়েরা যা বরাদ্দ পান তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। পৌরসভা এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ড ভিত্তিক ভোট রয়েছে ৮/৯ হাজারের চেয়ে বেশি সেই হিসেবে প্রতি ওয়ার্ড় মিলে প্রায় বিশ হাজারের অধিক জনগণ রয়েছে।প্রতিটি ঘরের মধ্যে সরকার কতৃক ত্রান বরাদ্দ করা হয় মাত্র ৭-৯ কেজি করে চাউল। এই সামান্য ত্রাণ গুলো দিয়ে কয়টা দিন চলবে?
হইত বা এমনই আছে তিন মাসের মধ্যে মাত্র একটি বার পেয়েছে, অনেকেই আছে ত্রান এর মুখই দেখেনি গত তিনটি মাস লক ড়াউন চলাকালীন সময়ের মধ্যে।
হ্যা,আমি অনেক পরিবার দেখেছি, শুধু সাদা ভাত টুকু নিয়ে লবন আর পানি মিশিয়ে আর সামান্য যে কোন শাক দিয়ে কোন মতেই পেটের ক্ষিদে মিটিয়ে প্রানটা বাছিয়ে যাচ্ছে।তার পরে ও গরীব, অসহায় মানুষ গুলো অনেক সুখী,দু-বেলা দু-মোটো খেয়ে।

সরকার থেকে ও কিছু কিছু রেশন কার্ড় বিতরণ করা হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবার ও নিম্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য। মাসিক হারে বিশ কেজি করে চাউল। সেই কার্ড়টি পেতে অনেকের খরচ করতে টাকা। আবার অনেকেই পেয়েছেন স্বজনপ্রীতি স্বরুপ। সেই স্বজনপ্রীতিতে অনেক জনপ্রতিনিধিরা নিজেই সম্পৃক্ত,অনেকেই স্বজনপ্রীতির উর্ধে ছিলেন। আর তারা ও কি করবে যদি সরকার থেকে কোন কিছু বরাদ্দের জন্যে আসে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম,তারা নিজেরা ও সিদ্ধান্ত হীনতার মধ্যে ভোগে কার হাতে এই সামান্য ত্রাণ টুকু তুলে দেবে।জনপ্রতিনিধিরা এই সামান্য ত্রাণ টুকু তুলে দিতে গিয়ে অনেকে বাদ পড়ে যায়,বাদ পড়া ব্যক্তিদের সাথে তাল মিলিয়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি উক্ত স্ব স্ব ওয়ার্ড়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর মিথ্যা,বানোয়াট প্রচারণা চালিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে হাসিল করে।

আমরা মাননীয় জেলাপ্রশাসক ককসবাজার মহোদয় কে অনুরোধ করব,লকড়াউন চলাকালীন সময়ে সরকার থেকে যতটুকুই ত্রাণ বরাদ্দ হয় তা যেন স্বচ্ছতার মাধ্যমে আমাদের দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়, যাতে করে আমাদের অসহায়, দীর্ঘদিন কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় জনগণ কঠিন সময়ের মধ্যে ত্রাণ গুলো পায়।
এদিকে পরিবারের বউদের জ্বালাও সহ্য করার মত নয়। ঘরে থাকলেইতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুলো লাগবেই, যদি পুরুষের না থাকে টাকা,নেই কোন ইনকামের রাস্তা, তাহলে এনে দেবে কোথায় থেকে, তাইতো এলাকা রাস্তার মুখে,দোকানের পাশে এসে সময় কাটানো।এধিকে অনেকের সংসারে ঝগড়াঝাটি লেগেই আছে। তবে হ্যা, অনেকে না।আমাদের ঘরের বউরা ও সচেতন হয়েছে আগের থেকে।তারা তাদের প্রিয় মানুষটির সুখ – দুঃখ বুঝতে শিখেছে।যদি পুরুষের ইনকাম না থাকলে এনে দেবে কোথায় থেকে। সে জন্যই সংসারে ঝামেলা বাধিয়ে লাভ নেই।কষ্ট করে হলে দুটো খেয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে কোন মতে সুখে থাকি।

মাননীয় জেলাপ্রশাসক ককসবাজার মহোদয়, জেলা পুলিশ সুপার ককসবাজার মহোদয়, আপনাদের হইত বা কোথাও যেন ভুল হচ্ছে,এভাবে করোনা মোকাবিলা করা মোটে ও সম্ভব নয় যদি আপনারা সদর উপজেলা গেইট এর পর থেকে যদি ককসবাজার জেলার মহাসড়ক গুলোকে পুরো পুরি রেড় জোনের আওতায় না আনেন।আজ সদর উপজেলা গেইট এর পর রবং লিংক থেকে সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ সচল রয়েছে, অন্যান্য জেলার মানুষ গুলো অবাদে চলাফেরা যাতায়াত করছে ককসবাজার সদর উপজেলার পর থেকে।ককসবাজার শহরে বাইরের মানুষ গুলো নিজ নিজ এলাকার মহাসড়ক হয়ে গাড়িতে করে এসে ককসবাজার শহরে পায়ে হেটে প্রবেশ করছে।শুধু মাত্র ককসবাজার -টেকনাফ সড়কের উখিয়া উপজেলা আংশিক জায়গায় রেড় জোনের আওতায় লকড়াউন চলছে। টেকনাফ উপজেলার মধ্যেই শুধু টেকনাফ পৌরসভা এলাকায় রেড় জোনের আওতায় লকড়াউন চলছে। এতে করে উক্ত দুই উপজেলার মানুষ গুলোর ও জীবন যাত্রার মান স্বাভাবিক।
ককসবাজার পৌরসভা এলাকার জনগণ যেমন আজ একঘরে রয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন শহরের প্রধান সড়কের সাথে,শুধু মাত্র সাপ্তাহিক দু দিন বাদে, সে ভাবে যদি জেলার অন্যান্য উপজেলার মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী সড়ক গুলোকে রেড় জোনের আওতায় লকড়াউন করা যেত তাহলে আমাদের ককসবাজার শহরে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারত না,আমাদের ককসবাজার পৌর শহর সেইভ জোনে পরিণত হত।আমাদের শহরের মানুষ গুলো করোনাভাইরাস এর প্রদুর্ভাব থেকে মুক্ত হত।
বর্তমানে ককসবাজার জেলা,শহর এবং সদর উপজেলা সহ অন্যান্য উপজেলায় দিন দিন যেভাবে করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই পরস্থিতি আন্তরিক ভাবে মোকাবেলা জন্য আজ আমাদের জেলার কৃতি সন্তান সরকারের মাননীয় সিনিয়র সচিব মহোদয়, আপনারা নিজে,মাননীয় এডিসি মহোদয় থেকে শুরু করে জেলা,উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গন,সরকারের বিশেষ বাহিনী গন,আমাদের দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্যগণ,আমাদের জেলার সাংসদ গন,আমাদের মাননীয় মেয়র মহোদয় থেকে শুরু করে কাউন্সিলর গন,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গন, আমাদের বর্তমান ওয়ার্ড় ভিত্তিক সেচ্ছাসেবক ভাইয়েরা যেভাবে করো করোনা মোকাবিলায় জন্য সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন, আমি তাদেরকে আন্তরিক ভাবে জ্ঞাপন করছি। জেলার মহাসড়ক থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন ভিত্তিক সড়ক যোগাযোগ গুলো শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করা না হয় তাহলে কোন কিছুতে করোনা পরিস্থিতি উন্নত করা যাবে না বরং সব কিছু সবই বৃথা যাবে।লক ডাউন দিতে দিতে মানূষের দুর্ভোগ আর কষ্টে সীমা থাকবে না।

মাননীয় জেলাপ্রশাসক মহোদয় আপনার কাছে আরেকটি বিষয় নজরে আনতে চাই,ককসবাজার টেকনাফ সড়কে চলাচলরত যাত্রী পরিবহন গুলোর শ্রমিকদের কথা না বললে নয়,ককসবাজার-টেকনাফ রোড়ে যাত্রীবাহি পরিবহন গুলো প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সেই বিষয় আপনি নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন।শুধু মাঝখানে পাচটি দিনের জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে ককসবাজার টেকনাফ রোড়ে চলাচল কারী যানবাহন গুলো।তারা প্রায় দুই মাস পরিবার নিয়ে অসহায়ত্ব জীবন যাপন করে অন্তত সরকার ঘোষিত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে সাস্থ্যবিধি মেনে যখন গাড়ি গুলো চলাচল করবে বলেছিল উক্ত পরিবহন গুলো সংশ্লীষ্ঠ মালিক এবং শ্রমিকেরা বুক ভরা স্বপ্নে কিছু টাকা রোজগার করে পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবেলা জন্য জমা করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের, হঠাৎ করে আবারো ককসবাজার পৌরসভা এলাকায় করোনার প্রদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শহরের মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ককসবাজার পৌরসভা এলাকায় রেড় জোনের আওতায় আপনার নির্দেশে লকড়াউন ঘোষণা করা হয় জেলা প্রশাসন কতৃক আবারো।
জেলা প্রশাসন কতৃক ঘোষিত লকড়াউনে আবারো বিপাকে পড়েন পরিবহন মালিক শ্রমিক ভাইয়েরা। মাননীয় জেলাপ্রশাসক মহোদয়, আমাদের শ্রমিকেরা গাড়ির চাকা ঘুরলেই,তাদের পরিবার সচল থাকেন।আপনি দয়া করে আমাদের ককসবাজার টেকনাফ রোড়ে চলাচল রত যাত্রীবাহি পরিবহনে শ্রমিকদের প্রতি একটু নজর দিবেন।

পরিশেষে বলতে চাই,আমরা আরো একটু সচেতন হয়,করোনাভাইরাস সর্ম্পকে যাদের বিন্দু মাত্র ধারণা নেই,তাদেরকে বুঝিয়ে সচেতনতা তৈরি করি,নিজে সচেতন থেকে সতর্ক হয়, নিজে নিরাপদ থাকি,পরিবারকে নিরাপদ রাখি,অন্যকে নিরাপদ রাখতে সামাজিক প্রচারণা বৃদ্ধি করি।যদি আমরা এখনো সচেতনতা বোধ না করি আগামিতে প্রতিটি ঘরে ঘরে করোনা জম্ম নিয়ে লাশ আর লাশে ভরে যাবে আমাদের প্রিয় জেলার ককসবাজার শহরটিতে।
আমরা থাকব ঘরে,করোনা থাকবে দুরে।

মুহাম্মাদ শাহেদুল আলম শাহেদ
বিএ প্রথম বর্ষ (বাউবি)
ককসবাজার সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ টিউটেরিয়াল কেন্দ্র।