মণিরামপুরে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনেই উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ জনকে হত‍্যা চেষ্টা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

জেমস্ আব্দুর রহিম রানা, স্টাফ রিপোর্টার :

যশোরের মণিরামপুরে বিদ্যালয়ের গাছ নিলামকে কেন্দ্র করে সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের ব‍্যক্তিগত সহকারী মনিরুল ইসলাম নয়ন ও আওয়ামীলীগের তরুন নেতা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সন্দীপ ঘোষসহ তিন জন মারাত্মক জখম হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের শাহাপুরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও আহতরা জানান, মশ্বিমনগর ইউনিয়নের শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গাছ নিলামে বিক্রির জন্য ঐ স্কুলে খোলা ডাক হচ্ছিল। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপ সেখানে হাজির হয়ে উপস্থিত দরদাতাদের বেধড়ক পিটিয়ে সেখান থেকে বের করে দেয় এবং কয়েকজনকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। খবর পেয়ে মণিরামপুর উপজেলা পরষিদ চেয়ারম্যান নাজমা খানম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরীকে নিলাম স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন এবং তিনি নিজেই সঙ্গীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। এসময় তিনি সেখানে পৌছে মারাত্মত জখম অবস্থায় তার ব‍্যক্তিগত সহকারি মনিরুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা আওয়ামীলীগের তরুন নেতা ও পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সন্দীপ ঘোষ ও সবুজ করকে দেখতে পান। এসময় তিনি তাদেরকে দ্রুত হাসাপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আহতদের প্রথমে মণিরামপুর সরকারী হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন, এসিল্যান্ডের সামনে এমন ঘটনার পরও তিনি ওই গাছ নিলামে ডাক বন্ধ না করে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষের লোকজনের অনুকুলে নামমাত্র ডাকে বরাদ্দ কার্যক্রম অব্যহত রাখেন। তিনি আরো বলেন, ইচ্ছা করলেই এসিল্যান্ড পরিস্থিতি শান্ত করতে পারতেন। তার সাথে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কোন পদক্ষেপ না নেওয়াটা দু:খজনক।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খরশেদ আলম আমাদের প্রতিনিধি জেমস আব্দুর রহিম রানাকে বলেন, শুনেছি আমি আসার পর সেখানে গ্যাঞ্জাম হয়েছে। তখনতো আমার কিছু করার থাকতে পারেনা। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয় নিলাম বন্ধ করতে আমাকে ফোনে অনুরোধ করেছিলেন এবং পরে তিনি নিজেও সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু নিলাম বন্ধ করার মতো কোন অভিযোগ আমি পাইনি।
এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।