ভ্রমণ হোক আনন্দায়ক ও শিক্ষামূলক!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

—————————-
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার বলা যায় পার্বত্য অঞ্চলসমূকে। আকাশের মেঘ যেখানে মাটির খুব কাছাকাছি। যতদূর চোখ যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সবুজ গালিচায় মোড়া। ফুল ফল আর হাজারো বৃক্ষে ছাওয়া সব পাহাড়, পাহাড়ের বুক চিরে এঁকে বেঁকে চলে গেছে গাড়ি চলার পথ। উঁচু নিচু, চড়াই উৎড়াই।পথের পাশেই ফুটে আছে রঙ বেরঙের ফুল। কোথাও ঘন জঙ্গল অথবা ফল বাগান। কলা, আনারস, ইক্ষু আবার কোথাও বা আম বাগান, ফলে ভরপুর! হঠাৎ হঠাৎ এক দুইটা ঘর-বাড়ি নজরে পড়ে। কখনো দেখা যায় দল বেধে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে, এদের বেশির ভাগেরই চেহারা সুরত দেখলে মনে হবে এটা বাংলাদেশ নয়,অন্য কোথাও আছি আমরা। এরাই মূলত পাহাড়ি উপজাতি বা আদিবাসী।

Advertisement

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান না জানি কত সুন্দর! তবে আমাদের এবারের ভ্রমণ ছিল শেরপুরের গজনী ও মধুটিলাতে।গজনী ও মধুটিলার কিছু পাহাড় এমন, যার উপর থেকে দূরের প্রকৃতিটাকে একদম ছবির মত মনে হয়।আশে পাশে বর্ডারে আর্মি ও বিজিবির দু’একটা ক্যাম্প দেখলাম। মূলত পাহাড়ে বাঙালিদের রক্ষার জন্যই এরা নিয়োজিত।পুরা গজনীতে একটি মাত্র মসজিদ দেখলাম। যেখানে আমরা জুম’আর নামাজ আদায় করলাম। লোকসংখ্যা সেখানে ভালোই ছিল়। স্থানীয় মুসলমানদের সাথে কথাবার্তা হল। তারা চান এসব অঞ্চলে দ্বীনের খেদমত বড় আকারে হোক।

সেদিন আকাশটা ছিল সূর্যের আলোয় ঝলমলে আর রাতে তারাভরা নিঝুম আকাশ। একেকটা পাহাড়ে একেকটা ঘর, সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা পরিবেশ।কিন্তু এত এত সৌন্দর্যের মাঝেও আছে কিছু অসুন্দর, আছে কিছু কষ্ট ও বেদনা। বড় বড় শহর থেকে অনেক দূরে এই সব অজপাড়াগাঁয়ের মানুষগুলো আক্ষরিক অর্থেই একেবারেই সাধারণ, সহজ সরল।এদের এই সরলতাকে পুঁজি করে অবাধে মানুষকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে কাদিয়ানিরা ও বিভিন্ন এন,জি,ও কর্মীরা। লোভ ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে এই সরল মুসলমানদের বিধর্মী বানাচ্ছে। সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এই মানুষগুলোকে সহজেই তারা ধর্মান্তরিত করে ফেলছে। গ্রামের পর গ্রাম তারা মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।আশার ব্যাপার হচ্ছে খুব অল্প হলেও দাওয়াতের কাজ শুরু হয়েছে। এবং এর কিছু ফলাফল আমরা দেখে এসেছি। কাজের ধরণ যদি আরো ব্যাপক হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ এই শয়তানি স্রোত তাদের পক্ষে রোধ করা সম্ভব হবে।

আলহামদুলিল্লাহ! এই ভ্রমণটি আসলে সাধারণ কোনো ভ্রমণ ছিল না, এটি ছিল আমাদের জন্য অনেক শখের় ও একটি শিক্ষামূলক। এ ভ্রমণের বাঁকে বাঁকে ছিল শিক্ষার নানা উপকরণ।প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও যে ভয়াবহ কুৎসিত অসুন্দর থাকতে পারে তা এখানে না এলে এত ভালভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম না।আবার পাহাড়ের বুকে প্রকৃত কিছু মানুষের দ্বারাও দ্বীনের যে অসামান্য কাজ হচ্ছে তাও জানতে পারতাম না।

অতএব, আমাদের ভ্রমণ হোক আনন্দায়ক ও শিক্ষামূলক। তবেই ভ্রমণের স্বার্থকতা অর্জিত হবে। আল্লাহ তা’য়ালা সেই তাওফিক দান করেন। আমিন।

মোঃ হুসাইন আহমদ
শিক্ষার্থী, কওমি মাদরাসা টাংগাইল।