ভেজাল সারের ডিপো যশোরে ! ধরাছোঁয়ার বাইরে কারবারিরা, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ কৃষক

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

জেমস্ আব্দুর রহিম রানা, স্টাফ রিপোর্টার :

চলতি আমন মৌসুমে যশোরাঞ্চলে ভেজাল সার তৈরি ও বিপনন মারাত্মক হারে বেড়ে গেছে। আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে বাঁধাহীনভাবে ভেজাল সার তৈরি ও বিপনন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ চক্রের সদস্যরা দেশি-বিদেশী নামি দামি কোম্পানীর নামের প্যাকেটে ভেজাল সার ভরে বড় বড় সারের মোকামে বিক্রি করে থাকে। আর ওই সার কৃষকেরা ক্ষেতে ব্যবহার করে ভালো ফসল না পেয়ে সর্বস্ব খুইয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আর এতে বড় ভূমিকা রাখছে এ জেলার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ডজন খানেক ভেজাল সার কারখানার মালিকরা। মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে ফেলার মতো যত সব উপাদান তা মিশিয়ে কারখানাগুলোতে উৎপাদিত হচ্ছে ভেজাল দস্তা, জিংক, টিএসপি ও এমওপি সার। ফলে হুমকিতে পড়ছে কৃষি জমি ও শস্যভান্ডার।
এদিকে, ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে গত পাঁচ বছরে ওই সব কারখানার কয়েকটি সিলগালা করা এবং কোনো কোনোটির নিবন্ধন নবায়নের অনুমতি দেওয়া না হলেও থেমে থাকেনি ভেজাল সার উৎপাদনের কার্যক্রম। ভেজাল দস্তাসার কারখানার মালিকেরা ছাই, পচা শেওলা, পাথরের কুচি, ডিনামাইট পাউডার, পোড়া মাটি, জিপসাম, হাওর অঞ্চলের শামুকের কুচি, পাথর কুচির সাথে রং দিয়ে রাতের আঁধারে ও দিনের সুবিধাজনক সময়ে নানা কৌশলে মহিলা-পুরুষ শ্রমিক দিয়ে ভেজাল সার উৎপাদন করে যাচ্ছে ওই কারখানাগুলোর কর্তৃপক্ষ। পরে ওই সার শিল্পনগর নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সারের বড় মোকামে বাজারজাত করে সর্বোচ্চ মুল্যে কৃষকদের হাতে পৌছে দেয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এ সারে রং মেশানো হয়। তারপর ভারত, চায়না কোরিয়া থেকে আমদানি করা উন্নত মানের সার বলে কৃষকের কাছে বিক্রি করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী যিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, তিনিই সার উৎপাদন কার্যক্রম দেখ ভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নির্বাহী হাকিম ও পুলিশের সহায়তা নিয়ে ভেজালবিরোধী অভিযান চালানোর দায়িত্ব তাঁরই ওপর ন্যস্ত। তবে, অজ্ঞাত কারণে, গত কয়েক বছরে উপজেলার সার কারখানাগুলোতে তেমন অভিযানও চালানো হয়নি।
সাধারণ কৃষকদের সাথে আলোচনায় তাদের দাবি, গায়ের ঘাম জমিতে ফেলে তারা চাষ করেন। কিন্তু ভেজাল ও মানহীন সার ব্যবহার করে উৎপাদন শূন্যের কোটায় পড়ে। তাই অবিলম্বে ভেজাল ও মানহীন সার উৎপাদন বন্ধ এবং উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কৃষি মন্ত্রী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন চেয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভেজাল সার উৎপাদনকারী আমাদের প্রতিবেদ জেমস আব্দুর রহিম রানাকে বলেন, ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই আমরা এ ব্যবসা করে থাকি। লেখা লেখি হলেই বেড়ে যাবে কর্তৃপক্ষের চাহিদা।’
এ ব্যাপারে যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘যশোরে আমি যোগদান করেছি ১৫ দিন হলো। সদর উপজেলার সব জায়গাও চিনে পারিনি। আমার কাছে ভেজাল সারকারবারিদের কোন তথ্য নেই।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা করলে আমি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে অবশ্যই ভেজাল সার কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যস্থা গ্রহন করবো।’

তিনি আরও বলেন, যারা ভেজাল সারের ব্যবসা করে কৃষিকে ক্ষতি করছে তাদের কোন ভাবেই রক্ষা করা হবে না। দ্রুত এই ভেজাল সার কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।