ভালবাসা -আনোয়ার হোসাইন

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

——————
আমি তোমাকে ভালবাসি নাই!
ভালবেসেছি তোমার মাথার কালো কেশ কে,
যখন ইহা দক্ষিণা বাতাসে উড়তে থাকে,
এক মনমাতানো সুভাষ আমায় বিমোহিত করে।
কিন্তু সেই কেশ ঝরে গেলে তেমনি কি ভালবাসব?
আমি তোমাকে ভালবাসি নাই!
ভালবেসেছি তোমার প্রশস্ত ললাট কে
যার দিকে আমি সদা দৃষ্টিপাত করি।
আচ্ছা ললাটে ভাজ পরলে কি তেমনি দৃষ্টিপাত হবে?
আমি তোমাকে ভালবাসি নাই!
ভালবেসেছি তোমার বাঁকা ভ্রুকুঞ্চন কে,
যখন ইহা সর্পের মতো নাচতে থাকে।
আমি তোমাকে ভালবাসি নাই!
ভালবেসেছি তোমার নীলাভ আঁখিদুটি কে,
যার পাপড়ি আমায় সদা আকর্ষণ করে।
সেই পাপড়ি ঝরে গেলে ভালবাসা কেমন হবে!
আমি তোমাকে ভালবাসি নাই!
ভালবেসেছি তোমার উচু নাসিকা কে,
যার দিকে আমি চেয়ে থাকি।
তোমার মুক্তার ন্যায় দন্ত আমায় কাছে টানে,
আমি হারিয়ে যাই তোমার হাসিতে
যখন সেখান হতে আলোর ঝিলিক আসে।
দাত পড়ে গেলে ভালবাসা কি তেমনি থাকবে?
আমি ভালবেসেছি তোমার চিবুক কে।
যখন সেখানে মুক্তার ন্যায় ঘর্ম জমাট বাধে,
তখন সেথায় আলতো ছোঁয়া দিয়ে যাই।
আমি তোমাকে ভালবাসি নাই!
ভালবেসেছি তোমার সমস্ত দেহটাকে,
যাকে কেবল ভোগের জন্য আমি চেয়েছি।
আমি তোমাকে ভালবাসি নাই!
ভালবেসেছি তোমার বাবার ধন-দৌলত কে,
যা দিয়ে সারা জীবন আরামে কাটিয়ে দিব।
সদা দুনিয়াকে ভালবেসেছি আখেরাত কোথায়?
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছে তার জন্য কি করেছি?
কখনো তাকে ভালবেসেছি এমনভাবে?
তিনি রোজ আমায় আহার করান,
আমায় কত দামি অক্সিজেন দেন,
কত ভাল একটা পরিবেশ দিয়েছেন,
দিয়েছেন জ্যোৎস্নাময়ী পূর্ণিমারাত,
জোনাকি পোকার কিঞ্চিত আলো,
সকালে বয়ে চলা মিষ্টি পূ্বাল হাওয়া,
নয়নাভিরাম নানা প্রজাতির ফুল,
পাখির মধুর কিচিরমিচির শব্দ,
ভাটির দেশে বয়ে চলা স্রোত,
সবকিছু তো আমাদের উপকারের জন্যই।
তাহলে তাকে ভালবাসি না কেন?
কেন তাকে রোজ ডাকি না?
তার দিকে কেন ফিরে যাই না?
কেন ফিরে তাকাই না আমাদের শিকড়ের দিকে?
আমরা তাকে ভুলে গেলেও তিনি আমাদের ভালবাসেন।
তিনি কষ্টে আমাদের স্বস্তি দেন,
ক্ষুধায় অন্ন দান করেন,
বিপদে সাহায্য করেন,
ভালবাসায় জড়িয়ে রাখেন।
তাই রাঙ্গাতে মোদের জীবন
তাকে একটু ভালবাসলেই তো হয়।