ভারত-বাংলাদেশ, সম্পর্কের এপিঠ-ওপিঠ

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:৩০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

———————–
বাংলাদেশ ভানতের মধ্যকার সম্পর্ক বিশেষ করে বাংলাদেশর ভারত প্রীতি জনমনে সর্বদায় গভীর কৌতূহল এবং আগ্রহের জন্ম দিয়ে থাকে এবং প্রতিনিয়ত দিয়েই যাচ্ছে। নিকট প্রতিবেশি দেশের সাথে সম্পর্কের গভীরতা ও জটিলতা যেন তার সমস্ত অবয়ব নিয়ে জনসম্মুখে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে।বস্তুত একথা বললে অতুক্তি হবে না যে, দুই দেশের মানুষের ইতিহাস,ভূগোল,ভাবাবেগ,সূল্যবোধ ও স্বার্থের এক অপূর্ব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কে এক বিশেষত্ব দান করেছে।মূলত বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের মধ্য দিয়ে। অতীতের সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বর্তমানেও বিরাজমান। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন যে,অতীতের সেই সম্পর্কটা অব্যাহত থাকলেও কিছুটা শীতল হয়ে এসেছে অবহেলা আর সন্দেহের চোরাগলিতে পদচারণের জন্য।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সেই সম্পর্ক এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের যে পরিপক্বতা তা পৃথিবীর খুব কম প্রতিবেশি দেশের মধ্যে আছে। ঢাকা ও নয়া দিল্লির বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্র এ ও বলেছে যে,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধীর মাধ্যমে দুই দেশের একে অন্যের পাশে থাকার শুরু। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যাওয়া বর্তমান দুই প্রধানমন্ত্রীর আমলেই।গত ছয় বছরে উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের সফরকালে কমপক্ষে ৯০ টির বেশি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সময় থেকে দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে,সমুদ্রবিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে,কানেকটিবিটি চুক্তি সই হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি,বাংলাদেশি নাগরিকদদের জন্য ৭০ দশমিক ৪ মিলিয়ন ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪০ টির বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ভারত। আগামী বছর গুলোতে মহাকাশ,তথ্য প্রযুক্তি,বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা,শিপিং ইলেকট্রনিক্স এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত অত্যাধুনিক উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে সহযোগিতা সমঝোতাগুলো কার্যকর হবে। ভারত বাংলাদেশকে বিভিন্ন পর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি তারাও কিন্তু প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক,কূটনৈতিক সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় পূণ্য চট্টগ্রাম বন্ধর হয়ে রেল যোগা আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা যাবে,অভ্যন্তরীন নৌ ট্রানজিট ব্যাবহার করে ভারত তাদের মালামাল নেওয়ার সুযোগও নিয়ে নিয়েছে,স্থলসীমান্ত চুক্তি,বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন,রাজনৈতিক আস্থা,এবং পূর্বাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে বাংলাদেশের সহায়তা ও বাংলাদেশে ভারতের জীবন বিমা করপোরেশনের (এলআইসি) কার্যক্রম শুরু করার জন্য দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এসবের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশ থেকে তার বৃহৎ স্বার্থ আদায়ে স্বার্থক বলে মনে করেন বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক বিশেষজনেরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে,বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও তা কোন কোন সময় দর কষাকষিতে রূপ নিয়ে থাকে।সে ক্ষেত্রে ভারত তাদের সর্ব্বোচ্চ স্বার্থ হাসিল করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হই। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটা ঠিক ভারতের বিপরীত। সরকারকে আমাদের সর্ব্বোচ্চ স্বার্থ হাসিলে দর কষাকষিতে তেমন একটা দেখা যায় নি।এমন কি ভারত যেভাবে চেয়েছে সরকার সেভাবেই বিনাবাক্যে মেনে নিয়েছে। আরো দুঃখের বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত তার বন্ধু দেশ বাংলাদেশর সাথে বিপরীত মুখী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে,এবং ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে টেলে দিয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে,সীমান্ত হত্যা, বর্ডার হতে ধরে নিয়ে নির্যাতন,চোরা চালান,বহুল আলোচিত ও সমালোচিত তিস্তা পানি বন্ঠন চুক্তি এবং ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকার কার্যত সুরহা করতে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছে।এবং বর্তমানে বাংলাদেশ যে বিষয়টা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তা হলো পেঁয়াজ। এসব অমীমাংসিত বিষয়া বলি নিয়ে সরকারকে ন্যূনতম কূটনৈতিক ভাষায়ও প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক মধুচন্দ্রিমাময় হলেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে একে অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব দৃশ্যমান।
—————-
মিরাজ উদ্দীন সিফাত
শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন
সদস্য,তরুণ লেখক ফোরাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।