বয়সের পরিবর্তনের সাথে সাথে মা-বাবার প্রতি ভালোবাসার পরিবর্তন কেন?

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

ফয়সাল মাহামুদ :
————–

ভালোবাসা অদৃশ্য এক ধরনের মায়া যার শক্তিতে পুরো পৃথিবী চলছে। কেউ যদি মনে করেন এর চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী টাকা এবং টাকা দিয়ে প্রয়োজনে ভালোবাসাও কেনা সম্ভব তাহলে মনে করতে হবে সে স্বপ্নময় কোনো পৃথিবীতে আছে, যেখানে সবকিছুই অলীক। ভালোবাসা টাকার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতাধর যার সাথে কোনোকিছুরই তুলনা সম্ভব না।আর মা বাবার ভালোবাসার কথাতো প্রশ্নই আসে না।পৃথিবীতে মা- বাবা শব্দটা মায়া, মমতা ও স্নেহ ঘেরা স্বর্গীয় ভালোবাসার দুইটি শব্দ। মা- বাবার ভালোবাসায় নেই কোন পরিমাপ, নেই কোনো তুলনা। মা -বাবা ভালোবাসাতে নেই কোনো লোক দেখানো কৃত্রিমতা। মা -বাবার কাছে সন্তানের জন্য ‘নাই’ নামক কোনো শব্দই নাই। নিজেদের হাজারও চাওয়া পাওয়া থাকা সত্ত্বেও সবকিছু তুচ্ছ মনে করে সন্তানের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য অবিরল চেষ্টা করে যায় প্রতিটি বাবা-মা। সন্তান যখন যা চায়, তাই দেয়ার শতভাগ চেষ্টা করে। তবুও কেন ভুলে যাই বাবা-মায়ের কথা?

ভুমিকা না দিয়ে এই জায়গা থেকেই শুরু করি ভালোবাসা কমার গল্পটা।বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যাবস্হা অনুযায়ী এক গবেষণায় দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮৫% শিক্ষার্থীরাই মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত লেখা-পড়া করে মা-বাবার ভালোবাসার আঁচলের মধ্যে থেকে।তখন মনে হয় যে,মা-বাবার আঁচল থেকে সরে গিয়ে কখনোই জীবন গড়া সম্ভব নয়।

কিন্তু বাস্তবতা দেখা যায় অন্য কিছু।মাধ্যমিক স্তর শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রতিটি মা-বাবা ও শিক্ষার্থীদের মনে চিন্তার পরিবর্তন আসে।তখন মনে হয় শত বছরে ধরে রাখা মনের ভিতর হাজারও স্বপ্নের চূড়ায় হাতছানি দিতে ও সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে মা-বাবার ভালোবাসার আঁচল থেকে দুরে সরে যেতে হবে। তাই সময়ের পরিবর্তনে জীবনের বাস্তবতায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা অর্জনের জন্য চলে যাই অনেক দূরে।নতুন ক্যাম্পাস নতুন পরিবেশ ও নতুন ভালোবাসার হাতছানি এসে ছোঁয়া দেয় জীবনে।

ক্যাম্পাস জীবনে চলার পথে অনেকটাই নিঃসঙ্গতা, বন্ধুদের পাল্লা,প্রাইভেট পড়া,নোট আদান প্রদান ও অবস্তুগত কিছু চাহিদা পূরনের জন্য শিক্ষার্থীরা বন্ধুত্বে আবদ্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস জীবনে একজন ছেলে আর মেয়ে একসাথে চলাফেরা করলে বন্ধুত্ব আর বন্ধুত্বে থাকে না। হয়ে যায় প্রেম ভালোবাসা নামক অদ্ভুত এক সম্পর্ক। তা হতে পারে অপ্রত্যাশিত কোন ব্যেক্তির সাথে। মা-বাবার ভালোবাসার জায়গা পুরন করে নেয় অপ্রত্যাশিত সেই ব্যাক্তি।অপ্রত্যাশিত ব্যাক্তির সাথে ভালোবাসার গভীরতা যত বাড়ে ততই যেন মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা কমে।এ যেন চাহিদা,যোগানের মত বিপরিত মুখি সম্পর্ক।একটি কমলে অন্যটি বাড়ে।

নিজেদের মধ্যে ইসলামিক জ্ঞানের পরিপক্কতা না থাকার কারনে খুব কম সময়ে শুরু হয় ভালোবাসা নামক অপবিত্র শারীরিক মেলামেশা।যখনই বাস্তবতার মুখমুখি হয় তখন এই ভুলগুলো বুঝতে পারে।তবে ভুলের মাশুল দেয়ার জন্য তখন খুব ভালো কিছু করার থাকেনা।ভুলের মাশুল দেয়ার জন্য ও ভালোবাসার স্হায়ীত্ব ধরে রাখার জন্য বিয়ে করতে ইচ্ছুক হয়।মা-বাবার কাছে বিয়ের জন্য আবেদন করলে প্রথমেই না বলে দেয়। কারন মা-বাবা বুঝে,এ সময় আদরের ছেলেকে বিয়ে করালে তাদের মনের প্রত্যাশা আর পূরণ হবে না। যার কারনে মা-বাবার অজান্তেই বিয়ে করতে বাধ্য হয়। প্রেমের আড্ডায় সময় দেয়ায় ও ভালোভাবে পড়াশোনা না করায় বছর শেষে ফলাফল বিপর্যয় ঘটে।হায়!এ যেন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সর্বোত্তম মেরুদন্ডটি ভেঙ্গে গেল।

ভুলেযায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের আশা ও পরিবারের প্রত্যাশা ও মা-বাবার ভালোবাসার কথা।মনে হয় ভালোবাসার পাত্রীটিই ছিল নিজের আশা ও পরিবারের প্রত্যাশা।কর্মজীবনে ফিরে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় স্থান নিতে পারে না। চলে আসে জীবনে দুর্যোগ। মা-বাবার অজান্তে বিয়ে করার কারনে হারিয়ে যায় মা-বাবার ভালোবাসা ও আর্থিক সহযোগিতা থেকে। এভাবেই বয়সের পরিবর্তনের সাথে সাথে মা বাবার প্রতি ভালোবাসার পরিবর্তন হয়।
তবে মনে রাখা উচিত আমি কে?আমি কোথা থেকে এসেছি?কে আমাকে গর্ভে ধারন করেছিলো?কতুটুকু সময় মা-বাবা ভালোবাসার আঁচলে বড় করছে? আর কতটুকু সময়ের ভালোবাসা পেয়ে মা-বাবাকে ভুলে গেছি? এই চিন্তাটুকুই পারে মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা কমা থেকে বিরত রাখতে।

ফয়সাল মাহমুদ,
শিক্ষার্থী : বিএম কলেজ, বরিশাল।