বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

তানভীর আহমেদ রাসেল:

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফার্মাসিস্ট ডে। প্রতিবছর এই দিনটি ওয়ার্ল্ড ফার্মাসিস্ট ডে হিসেবে ২০১০ সাল থেকে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও পালিত হয়ে আসছে। মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা স্বাস্থ্যসেবা। যার প্রধান নিয়ামক ওষুধ। সেই জীবন রক্ষাকারী পাথেয় ওষুধ তৈরী থেকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা। সাধারণ মানুষকে এ মহান পেশা সমম্পরর্কে জানাতে এবং এ পেশার মানকে উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন রাখতে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

২০১৯ সালের ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে ‘সকলের জন্য নিরাপদ ও কার্যকরী ওষুধ ‘।ওষুধ তৈরির পাশাপাশি তার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা ও সর্বনিম্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে নানাবিধ কাজ করেন ফার্মাসিস্টরা।ফার্মাসিস্টদের কাজের মধ্যে রয়েছে একটি ওষুধ কোন রোগের জন্য, কী কী উপাদান কী পরিমাণে মিশিয়ে ওষুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণ, ওষুধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য বিতরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার ও প্রভাব নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসাগত প্রয়োগ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি।

অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশও অসংখ্যা মেধাবী ফার্মাসিস্ট গ্র‍্যাজুয়েট প্রতিবছর তৈরী হচ্ছে।বাংলাদেশের ফার্মাসিস্টদের মেধা ও প্রজ্ঞায়
দেশের তৈরি করা ওষুধ দেশের মানুষের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের পক্ষে এখনো সম্ভব হয়ে উঠেনি।কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এমন মহৎ পেশায় নিবেদিত প্রাণ ফার্মাসিস্টরাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশার কর্মক্ষেত্র বাংলাদেশ অত্যন্ত সীমিত। এখনো হসপিটাল, কমিটিনিটি ফার্মেসি চালু হয়নি।ফলে মেধাবী ফার্মাসিস্টরা তাদের অর্জিত জ্ঞানকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না। ফলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের জনসাধারণ।অনেক সেক্টরে বাংলাদেশ ঈর্ষান্বিত সাফল্য পেলেও স্বাস্থ্যখাতে অনেক পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ ।সেই সাথে দেশের মেধাবী ফার্মাসিস্টরাও কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে।পাড়ি দিচ্ছেন উন্নত দেশসমূহে।

তাই,এমন আশংকাজনক মেধা পাচার রোধে ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জনসাধারণের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের যথাযথ মূল্যায়ন করুন। অনতিবিলম্বে হসপিটাল ফার্মেসী, কমিউনিটি ফার্মেসী চালু করণ, বিসিএসে ফার্মাসিস্টদের জন্য আলাদা কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে সরাসরি অন্তর্ভুক্তিকরণ একান্ত জরুরী।

শিক্ষার্থী, ফার্মেসী বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়