ঢাকাবুধবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  1. সর্বশেষ
  2. বিশেষ সংবাদ

সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক নয় মানসিক স্বাস্থ্যকেও বোঝায়- জয় পাল অর্ঘ

প্রতিবেদক
জুবায়েদ মোস্তফা
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

Link Copied!

আমাদের ফিজিওলজির সাথে সাইকোলজির সেই রিলেশন,সুস্থতা বলতে বিজ্ঞানের ভাষায় শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতাকে বোঝায়,মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে কখনোই পরিপূর্ণ সুস্থতা অনুভব করা সম্ভব নয়,আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ন্যায় মানসিক স্বাস্থ্য সমান গুরুত্বপূর্ণ, এটাকে বুঝতে পারলে আমাদের সবকিছু ম্যানেজ করতে আরো সুবিধা হবে । সব কুসংস্কার, নেতিবাচক বদ্ধমূল ধারণা দূর করে, আশার সঞ্চার করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দিলে, আমাদের পরিপূর্ণ জীবন কে উপলব্ধি করা কঠিন হয়ে পড়ে । তাই এখনি সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার, নিজের মতো করে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়ার।মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন অত্যাবশকীয় একটি বিষয়। আমাদের প্রতিদিন বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যে কোনো কোনো ঘটনা আমাদের মনে সুখানুভূতি তৈরি করে, আবার কোনো কোনো ঘটনা আমাদের মনে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না, এমন কিছু ঘটনাও ঘটে যার কারণে আমাদের মনে বিষাদ, রাগ-ক্ষোভ কিংবা দুঃখের কালো মেঘ নিয়ে আসে।এটা হতে পারে ব্যাক্তিগত জীবনের অনেক কিছু যেমন হতে পারে পছন্দের মানুষ কে কাছে না পাওয়া বা ধরেন একটা লক্ষ্য ফিক্সড করলেন কিন্তু পূরন না হওয়া ,যখন আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন হব, তখন এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করা সহজ হবে,যে কারো জীবনে দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা- নৈরাশ্যের কালো মেঘ বাসা বাঁধতে পারে, তাই বলে জীবন কিন্তু ব্যর্থ হয়ে যায় না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা কীভাবে খারাপ সময় বা পরিস্থিতির মোকাবিলা করছি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি কতটা যত্নবান হচ্ছি।

মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর কেনো দিবেন??
১.দৈনন্দিন কাজকর্ম সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
২.বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।
৩. পরিবার ও সমাজের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করে চলতে পারে। স্বাভাবিক ও সুষ্ঠ অভিযোজনে সক্ষম হয়।
৪.বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৫. আরও উৎপাদনশীল হয়ে ওঠে এবং নিজের ও সমাজের উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য কীভাবে ভালো রাখতে পারি?

১.নিজের ভিতরে কিছু আটকে না রাখা:-
ধরেন যে একজনকে আপনার প্রচুর ভালো লাগে,সেও হয়তো বোঝে কিন্তু আপনার মতো বলতে পারে না, একদিন সময় করে বলে দিবেন কারন যত নিজের ভিতরে রাখবেন তত ঝামেলা বাড়বে, পজিটিভ কিছু আসলে ভালো না আসলে আরো ভালো।
২. নিজের যত্ন নেওয়া :-
মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা রাখা, নিজের মনের কথা শোনা ,বই পড়া গান শোনা।
৩.শ্বাসপ্রশ্বাস এর ব্যায়াম ও প্রানায়াম করা:-
এগুলো প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুকে সক্রিয় করতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ,যেটা আমাদের স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এ সহায়তা করে।
৪. পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ :-
বিভিন্ন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এটাই দেখেছেন যে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার কেবল আমাদের শরীরকেই নয় , মনকেও ভালো রাখে। অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটি খাবার আমাদের বিষন্নতার জন্য মারাত্মক দায়ী। ভিটামিন বি -১২, ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আমাদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তাজা ফলমূল ও সবজি একটা বড় ভূমিকা রাখে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যে।
৫.পর্যাপ্ত ঘুম :-
শরীর সুস্থ রাখতে যেমন পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই তেমনই মনকে সুস্থ রাখতেও ঘুমের কোন বিকল্প নেই। কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আমাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে ফলে আমরা ক্লান্তিবোধ করি , কমে যায় কর্মস্পৃহাও।
৬. নিয়মিত ব্যায়াম :-
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শারীরিক ব্যায়াম খুবই জরুরি। স্ট্রেস ও বিষন্নতা কাটাতে ব্যায়াম ভীষণ কাজে আসে। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে , ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়।
৭. শখের কাজ করা :-
নিজের শখের কাজগুলি করতে পারলে মন ভালো থাকে, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। দুশ্চিন্তা মাথায় আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। যেমন – বাগান করা , রান্না কিংবা সেলাই করা, নতুন কোনো কিছু শেখা ইত্যাদি।
৮.নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা:-
নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়। আমরা কেউই নিখুঁত নই। অন্যের সাথে নিজের তুলনা করে নিজের দুর্বলতাগুলো নিয়ে চিন্তা করা বোকামির কাজ। এতে করে হীনমন্যতা ,হতাশা ,বিষন্নতা বৃদ্ধি পায়। তার থেকে নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে কিংবা তা দূর করার প্রয়াস করলে নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়বে।
৯.প্রিয়জনদের সঙ্গে বেশি করে সময় কাটান :-
প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটালে মন সুস্থ থাকে। নিজেকে ঘরবন্দি রাখলে হতাশা ও দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকবে ফলে মানসিক সমস্যার দেখা দিতে পারে। বন্ধুবান্ধব ,পরিবারের সাথে মন খুলে মেশা। একটু হাসি একটু আলিঙ্গন মনকে সুস্থ করে তুলতে দারুন উপযোগী।
১০.সক্রিয় থাকা :-
অলস হয়ে বসে থাকলে নানা দুশ্চিন্তা মাথায় ভিড় জমাতে থাকে। তাই সবসময় কাজের মধ্যে থাকো তাহলে মন এমনিতেই ভালো থাকবে।

এতক্ষন ধরে যে উপায়গুলো বলা হলো সেগুলো আমাদের হাতে রয়েছে যা অবলম্বন করে আমরা মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারি। । কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মানসিক সমস্যা নিরাময় এর জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন ফিজিওলজি আর সাইকোলজির কানেকশন দারুন,একটাকে কন্ট্রোল করতে পারলে আরেকটা কন্ট্রোল হতে সহজ হয়।

লেখক: জয় পাল অর্ঘ
শিক্ষার্থী, ফার্মেসী বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

1,349 Views

আরও পড়ুন