ঢাকারবিবার , ১৪ জুলাই ২০২৪
  1. সর্বশেষ
  2. বিশেষ সংবাদ

সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণের যথাযথ মূল্যায়ন ও পদায়ন জরুরি -জুবায়েদ মোস্তফা

প্রতিবেদক
জুবায়েদ মোস্তফা
১৫ জুন ২০২৪, ২:৪৭ অপরাহ্ণ

Link Copied!

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বড় ধরণের মাথা ব্যথার কারণ। ঠিক এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করার সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান হলো কারিগরি শিক্ষার প্রসার। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে একজন মানুষ হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করে একজন যোগ্য কর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে দেখা যায় কারিগরি শিক্ষার চাহিদা আকাশচুম্বী। যার ফলশ্রুতিতে প্রতি বছর এই দেশগুলোতে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে দক্ষ জনশক্তির সংখ্যা এবং দ্রুত সময়ের ব্যবধানে উন্নয়নের হিড়িক পড়েছে। দেশের শিক্ষিত বেকারদের বেকারত্ব দূরীকরণ, নিত্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বর্তমান সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার (TVET) প্রসার ও মানোন্নয়নের দিকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ৮ম-পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করা, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সময়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০৫টি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তিনটি স্তরে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যথা- সার্টিফিকেট স্তর, ডিপ্লোমা স্তর ও ডিগ্রী স্তর। যার মধ্যে সার্টিফিকেট পর্যায়ে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সংখ্যা ১৪৯টি এবং সেই সাথে বিদ্যমান ১টি ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। ডিপ্লোমা পর্যায়ে ৫০টি পলিটেকনিক/মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ডিগ্রী পর্যায়ে ১টি টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন প্রতিষ্ঠানে সরকার ২০২১ সালে ২১৮১ জন ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ প্রদান করেছে যাদের যোগ্যতা হিসেবে পদার্থ ও রসায়নসহ ২য় শ্রেণির স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি এবং কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা অথবা উচ্চ মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২ বছরের ট্রেড কোর্স এবং ৫ বছরের অভিজ্ঞতা সনদ চাওয়া হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় সহস্রাধিক ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর আছেন যারা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং/বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করা। এছাড়াও পদার্থ, রসায়ন, গণিত বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী সহস্রাধিক ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরও কর্মরত রয়েছেন। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও অপার সম্ভাবনার আড়ালে কালো মেঘে ছেয়ে যাওয়া আকাশের মত রয়েছে অন্ধকারের সুনিপন প্রলেপ। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণ যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়া ইতিবাচক কোন ইঙ্গিত বহন করে না। নির্দিষ্ট শ্রেণিকে আঁধারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করে যেমন একটি জাতি উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে পদার্পণ করতে পারে না, তদ্রূপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শ্রেণির মানুষকে যথাযথ মূল্যায়ন না করা হলে সেই প্রতিষ্ঠানের সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা আকাশ কুসুম কল্পনার মত। অবাক করা বিষয় হলো পূর্বের ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণকে পলিটেকনিক/মনোটেকনিক ইনস্টিটিউটে তাদের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কাজের (ব্যবহারিক ক্লাশ পরিচালনার) সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। যার ফলে সবচেয়ে বেশি বলির পাঠা হচ্ছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণের একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ পলিটেকনিক নন-গেজেটেড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাপনটিএ) এর দাবি অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গেজেট, শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন আদেশে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর পদগুলি নন-গেজেটেড শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ থাকার পরেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষগণ তাদের ব্যবহারিক ক্লাশ পরিচালনায় কোন দায়িত্ব দিচ্ছে না। তবে কিছু সংখ্যক ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের বিভিন্ন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে সংযুক্তিতে পদায়নের মাধ্যমে তাদের দিয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক ক্লাস পরিচালনা করছেন যার ধারা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেও অন্তর্ভূক্ত করা অধিক প্রয়োজন। বর্তমান সরকার ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ায় অবস্থিত ভোকেশনাল টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ভিটিটিআই) তে ASSET প্রকল্পের আওতায় NTVQF Level-1,2,3 সনদায়নের জন্য ট্রেনিং ও অ্যাসেসমেন্টের ব্যবস্থা করছে। উক্ত ট্রেনিংয়ে বর্তমানে বিভিন্ন টেকনোলজির সাতটি করে ব্যাচ বিরতিহীনভাবে ট্রেনিং করে যাচ্ছে। ট্রেনিংয়ের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যারা (প্রায় দেড় সহস্রাধিক) ট্রেনিং নিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রায় শতভাগই সফলতার সাথে ট্রেনিং শেষ করে ফাইনাল অ্যাসেসমেন্টে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মুদ্রার অপর পিঠ উল্টালে দেখতে পাওয়া যায় হিতের বিপরীত, মানসম্মত সম্মানি ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে যে উদ্দেশ্যে ট্রেনিং দেয়া হয়েছে সেটার প্রতিবিম্ব কর্মক্ষেত্রে একবারে অনুপস্থিত। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের যোগ্য ও দক্ষ করার সুবিন্যস্ত কৌশলটাকে পঙ্গু করে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার যে সুন্দর হাতেখড়ি হয়েছে সেটা ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার জন্য ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণের ক্লাসরুমে যোগদানের কোন বিকল্প নেই। দক্ষতা বর্ধনের জন্য নবীন ও প্রবীণ সকল ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে সঠিক পন্থায় কাজে লাগানো হলে প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে। অতীতে বিভিন্ন অফিস অর্ডারে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণকে শিক্ষক হিসেবে সম্বোধন করা হলে বর্তমানে হচ্ছে না, যা তাদের আত্মসম্মানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সরকারের যেহেতু সুদূরপ্রসারী চমৎকার পরিকল্পনা রয়েছে সেহেতু ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদেরগণকে কাজে লাগানো হতে পারে সোনায় সোহাগা। সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, প্রতিটি জেলায় একটি করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, প্রতিটি বিভাগে একটি করে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, প্রতিটি বিভাগে একটি করে মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক বিপ্লব সাধন হবে। যার ফলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছাত্রছাত্রী কারিগরি শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে। উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হলে প্রচুর জনবলের দরকার হবে। প্রতিটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (টেক) এবং জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক) এর শিক্ষক প্রয়োজন হয়। সরকার যদি চায় বুদ্ধিমত্তার সাথে এক ঢিলে দুই পাখি মারার নীতিতে এগোতে পারে। যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের আছে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (টেক) পদে স্ব স্ব টেকনোলজিতে এবং যারা পদার্থ, রসায়ন ও গণিত ব্যাকগ্রাউন্ডের আছেন তাদেরকে পর্যায়ক্রমে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (নন-টেক/পদার্থ/রসায়ন/গণিত) পদে প্রমোশনের ব্যবস্থা করতে পারে। এতে করে নতুন করে এই পদে লোকবল নিয়োগের ঝামেলা কমে যাবে এবং তারাও স্ব স্ব ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী কাজ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নিজের সেরাটা দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাবে। এমতাবস্থায় ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণের মধ্যে খুশির রেখায় ভেসে তৃপ্তির ঢেকুর উঠবে। অন্যদিকে সরকারেরও বিশাল বাজেট সাশ্রয়ী হবে। প্রতি মাসে নতুন করে নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলকে বেতন দেওয়ার জন্য আলাদা করে চিন্তা করতে হবে না। তাছাড়া খণ্ডকালীন শিক্ষকদের পেছনে সরকার প্রতি মাসে যে বিশাল অর্থ ব্যয় করে সেটারও সাশ্রয় হবে। ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণ যেহেতু সংযুক্তিতে দেশের বিভিন্ন টিএসসিতে সু দক্ষতা ও সুনামের সাথে ২/৩ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে আত্মনিয়োজিত করেছেন তাই তাদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই। ৩০-৩৫ বছর কারিগরি সেক্টরে নিজেকে সঁপে দেওয়ার পর না পাওয়ার যাঁতাকলে অশ্রুসিক্ত বিদায় নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। তাই এরকম হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য যেন পরবর্তীতে মঞ্চায়িত না হয়। সবকিছু বিবেচনায় তাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি।

লেখক: জুবায়েদ মোস্তফা
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ

1,147 Views

আরও পড়ুন

ইসলামপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

দোয়ারাবাজারে কিশোরের ঝুলন্ত ম’র’দেহ উদ্ধার

কোটা নিয়ে হাইকোর্টের ‍পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান সম্পন্ন

আনোয়ারায় যুবলীগ নেতাকে কু*পিয়ে হ*ত্যা

আদালত ও পুলিশের কথা না মানলে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে : হুঁশিয়ারি ডিবি কমিশনার হারুনের

কোটা আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগের নতুন কর্মসূচী

কোটা সংস্কার আন্দোলনে বুটেক্সে শিক্ষার্থীরা

শার্শা উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আব্দুর রহিম সরদার 

ইসলামপুরে উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

বর্ষা

হঠাৎ পরিদর্শনে সিভিল সার্জন ; আনোয়ারায় উপজেলা হাসপাতালে অনুপস্থিত ১১ চিকিৎসক