বিরামপুরে শিক্ষককে লাঞ্চিতের ঘটনায় ক্লাস বর্জন তিন ঘণ্টা বসে থেকে ফিরে গেল শিক্ষার্থীরা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২০

মোস্তাকিম হোসেন, হিলি স্থলবন্দর সংবাদদাতাঃ
রবিবার দুপুর ১২টা বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীরা এলোমেলোভাবে খোশগল্প করছে। কথা হলো শিক্ষার্থীদের সাথে। কেন ক্লাস হচ্ছেনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সুমন নামের একজন শিক্ষার্থী বলল, স্যারেরা নাকি মিটিং করছেন তাই ক্লাস হচ্ছেনা। পরক্ষণেই শিক্ষকদের কক্ষে গিয়ে দেখা গেল, সকল শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে গোপন সভা করছেন। সদস্যদের একজন বললেন, আমাদের সভা চলছে আপনি পরে আসেন। পরে জানা গেল, বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষককে বহিরাগত কয়েকজন যুবক বিদ্যালয়ের দোতলায় ডেকে নিয়ে লাঞ্চিতের ঘটনায় সকল শিক্ষক ক্লাস বর্জন করেছেন।
গত শনিবার দুপুরে দিনাজপুরের বিরামপুরের কাটলা দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারি শিক্ষক আবু সাঈদকে শ্রেণিকক্ষ থেকে কয়েকজন যুবক দোতলায় ডেকে নিয়ে তাকে মারধর করেন। আর এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা রবিবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করেন।
বিদ্যালয়ের অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান, সানি ও সুমন জানান, ‘শনিবার দ্বিতীয় পিরিয়ডে দোতলায় মারধর ও চিৎকারের শব্দ পেয়েছি। দোতলার সিঁড়ির গেইটে রাজু নামে এক যুবক ছিলেন যিনি আমাদের কাউকেই গেইট দিয়ে উপরে উঠতে দেননি। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, আবু সাঈদ স্যার পরে ক্লাসে আসলে তিনি গালে হাত দিয়ে ছিলেন এবং তিনি চিন্তিত ছিলেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘ঘটনার দিন মিজানুর রহমান ও কামাল হোসেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সাঈদ স্যারের সাথে কথা বলার জন্য আমাকে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে যায়। আমি নিচে ছিলাম, দোতলায় কী হয়েছে এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা না।’
তবে শিক্ষককে মারধর ও ক্লাস বর্জনের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বেলাল উদ্দিন ও সহকারি শিক্ষক আবু সাঈদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুর রহমানের সাথে এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি অফিসিয়াল কাজে দিনাজপুরে আছি, আপনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেন।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো কিছুই জানেন না বলে জানান।